বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
অভয়নগরে অসহায় তিনটি পরিবারের দেড় লাখ টাকা হজম করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ !

অভয়নগরে অসহায় তিনটি পরিবারের দেড় লাখ টাকা হজম করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ !

জমি ও ঘর দেয়ার কথা বলে অভয়নগর উপজেলার ৫নং শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ৩টি ভূমিহীন পরিবারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ধার দেনা করে ও এনজিও থেকে সুদে লোন নিয়ে জমি ও ঘর পাওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে এ টাকাগুলো দিয়েছিলো বলে তাদের দাবি। দীর্ঘ দুই বছরের অধিক সময় ধর্ণা দিয়েও তারা জমি ও ঘর কিছুই পাননি। ফেরত পাননি টাকাও। এদিকে বছরের পর বছর ধরে সুদের ঘানি টানতে টানতে নিঃস্ব পরিবারগুলো আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। [embed]https://www.youtube.com/watch?v=2E1XpfS1OIk&feature=youtu.be[/embed]   ফলে তারা সোমবার সকালে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহীনুজ্জামানের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা ইউনিয়নের দেয়াপাড়া ১নং ওয়ার্ডের খাঁনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদ আলী খানের ছেলে শরিফুল ইসলাম, আবু বক্কার খানের ছেলে বাবর আলী খান ও মশিয়ার রহমানের স্ত্রী মিনা বেগমের নিকট থেকে ভূমিহীনদের ভূমি ও ঘর করে দেওয়ার নামে পরিবার প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে ৩টি পরিবারের থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করেন। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা কয়েক বছর পূর্বে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করলেও অসহায় পরিবার ৩টি কে কোন জমি ও ঘর প্রদান করেন নি। জমি-ঘর অথবা প্রদানকৃত টাকা ফেরত দেয়ার কথা বললে পরিবার ৩টিকে বিভিন্ন রকম টালবাহানা করতে থাকে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা। এমনকি টাকা চাইলে বা কারও কাছে অভিযোগ দিলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভিতী দিয়ে শাসানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের পর দৈনিক নওয়াপাড়া পত্রিকার পক্ষ থেকে সরেজমিনে গিয়ে ভূমিহীন ৩টি পরিবারসহ এলাকাবাসীর সাথে কথা বলা হয়। অভিযোগকারী দেয়াপাড়া ১নং ওয়ার্ডের খাঁনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদ আলী খানের ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা ভূমিহীনদের ভূমি ও বাড়ি দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করেছে। গরু বিক্রি করে, সুদে কারবারির থেকে সুদ দিয়ে টাকা গ্রহন করে, ঘাটের মজুরী করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ তাকে প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যার নিকট প্রদানকৃত ৫০ টাকা ফেরত চাইলে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। অপর অভিযোগকারী আবু বক্কার খানের ছেলে বাবর আলী খান ও তার স্ত্রী জোহরা বাড়িতে না থাকলেও এ ব্যাপারে তাদের ছেলে মিঠু বলেন, ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তারা এখন সর্বশান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরের দোকনে কাজ করে, মাঠে কৃষকের দিন মজুরী করে তারা অর্থ উপার্জন করে। তাদের এই টাকা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আত্মসাতের পায়তারা করছে। তাদের টাকা ফেরত চাইলেই চেয়ারম্যান তাদের উপর চাড়াও হয়। মোবাইল ফোনে কল করলে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা তাদের কল রিসিভ করেন না। অভিযোগকারী মশিয়ার রহমানের স্ত্রী মিনা বেগম বলেন, নজরুল গাজীর কুড়ে ঘর ৪শ টাকা ভাড়া নিয়ে তারা বসবাস করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ঘর-বাড়ি, ৫ কাঠা জমি দেওয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা কে তিনি ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা সেই টাকা ফেরত তো দিচ্ছে-ই না বরং এ ব্যাপরে কথা বললে মিনা বেগমের প্রতি চড়াও হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে শ্রীধরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা বলেন, সরকার প্রদত্ত ভূমিহীনদের ভূমি ও বাড়ি দেওয়ার ব্যাপারে তাদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয় নি। তাদের নিকট থেকে অপর একটি জমির ব্যাপারে যে টাকা নেওয়া হয়েছিলো তা তাদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংশা করে নিচ্ছি। এছাড়া যারা ইউএনও মহোদয়ের নিকট অভিযোগ করেছেন তাদের স্বাক্ষর জাল। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করেছেন। এদিকে গতকাল দিনভর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোবাইল ফোনে, দৈনিক নওয়াপাড়া কার্যালয়ে এসে এবং বিভিন্নভাবে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহীনুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন