বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
Logo
অভয়নগরে ইউপি সদস্য নূর আলীর দাফন সম্পন্ন : খুনের ঘটনায় মামলা হয়নি : আটক নেই

অভয়নগরে ইউপি সদস্য নূর আলীর দাফন সম্পন্ন : খুনের ঘটনায় মামলা হয়নি : আটক নেই

অভয়নগরে ইউপি সদস্য নূর আলী (৫০) ওরফে নূর আলী মেম্বার খুনের ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। নিহতের বড় ছেলে ইব্রাহিম (১৬) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।


হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা পৃথকভাবে কাজ করছে। সোমবার ভোর রাতে সন্দেহভাজন দুই যুবককে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।


পরবর্তীতে আরও এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে থানা সূত্র জানিয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটকও করা হয়নি। এদিকে ময়না তদন্ত শেষে ইউপি সদস্য নূর আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রবিবার (৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮ টার সময় শুভরাড়া ইউনিয়নের শুভরাড়া গ্রামের বাবুরহাট নামকস্থানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ইউপি সদস্য নূর আলী।


এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শুভরাড়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী সংগঠন নছর বাহিনী ও তুরাণ বাহিনীর মধ্যে বিবাদ চলছিল।নছর বাহিনীর কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন নিহত ইউপি সদস্য নূর আলী।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ওয়ার্ডের এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিনদিন পূর্বে শুভরাড়া ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজারে লাল্টুর কাপড়ের দোকানে তুরাণ বাহিনীর এক নেতার সঙ্গে কোন এক বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা হয় নূর আলীর।

 

এসময় নূর আলী প্রকাশ্যে ওই নেতার হাত-পা ভাঙ্গাসহ হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এরই জের ধরে হত্যাকা- হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো জানান, হত্যার পর রাতে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ইউনিয়নব্যাপী অভিযান চালিয়েছে। যশোর ডিবি পুলিশের ওসি সোমেন দাস জানান, রাতে শুভরাড়া ইউনিয়নে গেলেও কাওকে আটক করা হয়নি।


নিহতের পরিবার জানায়, পকিল্পিতভাবে নূর আলীকে হত্যা করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


নিহত নূর আলীর দুই ছেলে বড়ছেলে ইব্রাহিম ও ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ। স্ত্রী এখন পাগল প্রায়। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নূর আলীর নির্বাচন করার ইচ্ছার বিষয় জানতে চাইলে তার স্ত্রী তহমিনা খাতুন বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমার স্বামী মেম্বার পদেও আর নির্বাচন করতে রাজি ছিলোনা।


চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না। আজ মঙ্গলবার এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হতে পারে বলে তিনি জানান। শুভরাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, নূর আলী একজন ভালো মানুষ ছিলেন।


দলের জন্য ছিল নিবেদিত। নির্মম এ হত্যাকা-ের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কাছ থেকে নিহতের মাথা ও বুকে একটি করে গুলি করা হয়েছে। আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।


নিহতের ছেলের পায়ে ও শরীরে গুলি লেগেছে। চিকিৎসা চলছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশ, যশোর ডিবি, পিবিআই ও সিআইডি পৃথকভাবে কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা করা হয়নি।


তবে হত্যা রহস্য ও খুনিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই যবক ও পরবর্তীতে এক নারীকে থানায় আনা হয়েছে এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

সংযুক্ত থাকুন