রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
অভয়নগরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে পড়েছে বসতঘর

অভয়নগরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে পড়েছে বসতঘর

জমির উপর ভিত, নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়ে নেয়া হয়েছে টাকা ,ঘরে বসবাস করতে উপকারভোগীর অনিহা

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ‘বিশেষ এলাকার উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির গৃহহীনদের বসতঘর প্রদান প্রকল্পের বসতঘর ভেঙ্গে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা গ্রামের ঋষিপাড়ার গোপাল দাসের ঘরটি ভেঙ্গে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।


ভিত ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে ওই বসতঘরটি। নেওয়া হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয়ের টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণঘরে বসবাস করতে অনিহা প্রকাশ করেছে উপকারভোগী। পূণঃনির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


সরেজমিনে দেখা যায়, গোপাল দাসের নিজ জমিতে ভিত না করে মাটির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে বসতঘর। নিম্নমানের ইট দিয়ে গাঁথা হয়েছে দেওয়াল। ধুলাবালির সাথে মেশানো হয়েছে নিম্নমানের সিমেন্ট। ঘরের মাঝের দেওয়ালসহ বারান্দার সম্পূর্ণ অংশ ভেঙ্গে পড়েছে।


এসময় উপস্থিত উপকারভোগী গোপাল দাস জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি (২০২১) তারিখ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মিস্ত্রিরা নির্মাণ কাজ শুরু করে। শুরু থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে রাজমিস্ত্রি নয়ন।


টাকা দিতে না চাইলে ইউএনওকে বলে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয় সে। এমনকি লাল তালিকা তৈরি করে নাম বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।


ভয় ও আতঙ্কে নয়ন মিস্ত্রিকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা নগদ দিতে হয়েছে। ইটের খোয়া, সিমেন্ট ও রড কিনতে দিতে হয়েছে আরো ১০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, এই টাকা দিতে বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। চোখের সামনে নির্মাণাধীন ঘর ভেঙ্গে পড়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে কিভাবে বসবাস করব এমন প্রশ্ন করেন তিনি ?


এসব দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা ও রাজমিস্ত্রি নয়নের শাস্তি দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে চলিশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাদির মোল্যা মুঠোফোনে জানান, এসব কাজে অনিয়ন-দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিজিবুল ইসলাম জানান, যেসব বসতঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেসব ঘরের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। পূনরায় নির্মাণ করা হবে।


নবাগত ইউএনও মো. আমিনুর রহমান জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। বসতঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ১১টি ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো পূণঃনির্মাণ করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন