বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
অভয়নগরে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অসহায় এক পরিবারের ঘুম হারাম!

অভয়নগরে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অসহায় এক পরিবারের ঘুম হারাম!

অভয়নগরে এক প্রতারকের খপ্পরে পড়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অসহায় একটি পরিবারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে পরিবারটির এলাকায় সম্মান নিয়ে টিকে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সংসার ভাঙতে বসেছে ওই পরিবারের এক মেয়ের। আর পরিবারটির পাশে দাড়াতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে এক পুলিশ কর্মকর্তা। ওই প্রতারক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও যশোরের পুলিশ সুপারের বরাবর নির্যাতন করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ দায়ের করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে শালিস বৈঠক করতে করতে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বররা। তাদের অভিযোগ ওই প্রতারকের ভাই শিশু নির্যাতন মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী এবং দূর্ধর্ষ প্রকৃতির হওয়ায় সে কাউকে পরওয়া করেনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শালিস মিমাংসাও মানেন না ওই প্রতারক। ঘটনাটি ঘটেছে অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের কোদলা গ্রামের মৃত- আব্দুল জলিল মোল্যার ছেলে আসাদ মোল্লা নামের এক যুবক সম্প্রতি মহা পুলিশ পরিদর্শক, আইজিপি, পুলিশ সুপার যশোর বরাবর উপজেলার পাথালিয়া ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলুম, নির্যাতন ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করেন। যা স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে ওই যুবক সোমবার সরবরাহ করেন। [embed]https://www.youtube.com/watch?v=0c5zvd_KOE8[/embed]   তিনি তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, গত ১৯/১২/১৯ তারিখে বাদী আসাদ মোল্যাকে পাথালিয়া ক্যাম্পে ডেকে এনে শালিশের নামে গভীর রাত পর্যন্ত হ্যান্ডকাপ পরিয়ে আটকিয়ে রেখে শারীরিক নির্যাতন করেছেন ক্যাম্প ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম। এবং রাত ১২ টার পর ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে এবং ঘুষের আরও ১০ হাজার টাকা আগামী ৩০ ডিসেম্বর পরিশোধের শর্তে ছেড়ে দেন। এ সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা একটি স্ট্যাম্পে তারসহ তার ভাই ও তার ওয়ার্ডের মেম্বরের স্বাক্ষর নেন। এ অভিযোগের কপি হাতে পেয়ে সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে নামে দৈনিক নওয়াপাড়া। সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে দরখাস্তকারীর নানাবিধ প্রতারণা ও ছলচাতুরি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কোদলা গ্রামের আসাদ মোল্যা একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বর্ণী গ্রামের ফসিয়ার মোল্যার ছেলে গ্রাম্য চাষা উজ্জ্বল মোল্যার সরলতার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী নূরজাহান বেগমের সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলে। আর পরকিয়ার ফাঁদে ফেলে তার স্ত্রীকে দিয়ে এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে পরকিয়া প্রেমিকা নূরজাহানকে হাত করে গোটা পরিবারটির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে আসাদ। পরিবারের সদস্যদের কাছে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে।   আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধূরন্ধর আসাদ মোল্যা নূর জাহান বেগমের প্রবাসী জামাইয়ের পাঠানো সাড়ে তিন লাখ টাকা দুই কিস্তিতে ঋন হিসেবে গ্রহণ করে। এবং লভ্যাংশ বাবদ বছরে ৪০ মন ধান প্রদানে সম্মত হয়। একইভাবে সে উজ্জ্বল মোল্যার ঘাট শ্রমিক ভাইকে ভুলিয়ে ভালিয়ে তার স্ত্রীকে দিয়ে অন্য একটি এনজিও থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঋণ নেয়। এবং নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধার স্বরুপ গ্রহন করে। টাকা নেয়ার পর এনজিও’র কিস্তি পরিশোধে নানারকম টালবাহানা শুরু করে। ভুক্তভোগী পরিবারটি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তাদেরকে নানাভাবে হুমকী ধামকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে উজ্জ্বল মোল্যার স্ত্রী পরকিয়া প্রেমিকা নূর জাহান বেগমকে নিয়ে গা-ঢাকা দেয়। কিছুদিন পর নূর জাহান বেগমকে অন্যত্র ভাড়া বাসায় রেখে সে এলাকায় ঘের দেখাশোনা করতে আসে। এসময় পরিবারটির সাথে বাক বিতন্ডা হয়। সুযোগ বুঝে আসাদ মোল্যা তার পরকিয়া প্রেমিকা নুরজাহান বেগমকে দিয়ে প্রবাস ফেরত জামাইসহ ৪ জনের নামে মামলা দায়ের করে। অসহায় পরিবারটি এ ঘটনার বিচারের দাবিতে এবং কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যাসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বরদের দারস্ত হয়।   চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার চেষ্টা করে নাজেহাল হয়ে সংশ্লিষ্ট পাথালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের সহযোগিতা কামনা করেন। চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের অনুরোধে এবং অসহায় পরিবারটির দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে ক্যাম্প ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম উভয় ওয়ার্ডের মেম্বর, ওই পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ এলাকার ৩০/৩৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে ক্যাম্পে শালিসের ব্যবস্থা করেন। ওই শালিসে সকলের সম্মতিতে আসাদ মোল্যা আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার শর্তে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। আর তারপরই হাসপাতালে ফিজিক্যাল এ্যাসাল্ট হিসেবে ভর্তি হন। দু’দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে উক্ত আবেদন করেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী উজ্জ্বল মোল্যা বলেন, আসাদের জন্য আমার গোটা পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার টাকা পয়সা, জামাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা পয়সা আত্মসাত করে আমার স্ত্রীকেও ভাগিয়ে নিয়েছে। এখন পরিবারে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি ও জামাইয়ের সামনে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আর আমার মেয়েটির শ্বশুরবাড়ি টিকে থাকায় দুস্কর হয়ে পড়েছে। উজ্জ্বল মোল্যার জামাতা নূর ইসলাম বলেন, বিশ্বাস করে বিদেশ থেকে শ্বাশুড়ির কাছে টাকা পাঠিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। বছরে ৪০মন ধান দেয়ার লোভ দেখিয়ে আসাদ মোল্যা আমার শ্বাশুড়ির কাছ থেকে আমার পাঠানো সাড়ে তিনলাখ টাকা নিয়েছে।   টাকা চাওয়ায় আমার নামে শাশুড়িকে দিয়ে থানায় অভিযোগ করিয়েছে। উজ্জ্বল মোল্যার ভাই নজরুল মোল্যা জানান, আমার স্ত্রীকে দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা এনজিও থেকে উত্তোলন করে দিয়েছি। এছাড়া ঘাটে মুটে গিরি করে গচ্ছিত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ধার হিসেবে দিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। টাকা চাইতে গেলে হত্যার হুমকি দেয়। শ্রীধরপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন শেখ ঘটনার দিন পুলিশ ক্যাম্পে শালিসে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতারক আসাদ মোল্যা ও তার ভাই একাধিক মামলার আসামী মুরাদ হোসেনের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বর সুলতান আহমেদ বলেন, তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে চেয়ারম্যানের পরামর্শে অসহায় পরিবারটির টাকা ফেরতের চেষ্টা করে নাজেহাল হয়েছেন। সর্বশেষ দারোগার মাধ্যমে চেষ্টা করেছেন।   এবং শালিসে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে শ্রীধরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, আসাদ মোল্যা একজন প্রতারক। সে শ্বাশুড়ি পরিচয়ের মহিলাকে বের করে নিয়ে গেছে। আর অসহায় এই পরিবারটিকে পথে বসিয়েছে। আমি একাধিকবার চেষ্টা করেও মিমাংসা করতে ব্যার্থ হয়ে সর্বশেষ ক্যাম্প ইনচার্জের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। এখন উল্টো পুলিশ কর্মকর্তাকেই বিপদে ফেলার পায়তারা করছে। এ বিষয়ে ইউনিয়নের ৬নং ওর্ডের মেম্বর মনিরুল ইসলাম জানান, ১৯ তারিখে ৫জন মেম্বার ও ৩০ জন লোকের উপস্থিতিতে ক্যাম্পে আয়োজিত মিটিংয়ে উভয়পক্ষের সম্মতিতে ৩০ তারিখে টাকা দেবার শর্তে ষ্ট্যাম্পে লিখিত করে শালিস শেষ হয়। সেখানে ক্যাম্প ইনচার্জ তাকে আটকে রেখে টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে এস আই শহীদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অসহায় পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে যাওয়ায় এবং আসাদের ভাই অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামী নারী লিপ্সু মুরাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় আমার বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন