মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
Logo
অভয়নগরে ভন্ড কবিরাজের কান্ড , ধোঁয়া দিয়ে চলছে চিকিৎসা

অভয়নগরে ভন্ড কবিরাজের কান্ড , ধোঁয়া দিয়ে চলছে চিকিৎসা

পায়ের আঙ্গুলকেটে, হাত ও পায়ে রশি বেধে ধোয়া দিয়ে, অচেতন করে আধুনিক চিকিৎসার নামে করছে প্রতারনার। রয়েছে সাফাই বাহিনী। নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।


সিন্ডকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সর্বসান্ত হচ্ছে হাজারও রুগি। বলছি কুখ্যাত সুশান্ত কবিরাজের কথা। পিতা স্বর্গীয় অশ্বিনি কুমারের দেখানো পথ ধরে তিনি চিকিৎসা করেন। সাবেক এম, পি বাবু প্রফুল্ল শীলের বাড়ীর ঠিকানা ব্যবহার করে রুগি দেখেন অভয়নগর থানাধীন ইছামতি গ্রামের নিজ বাড়ীতে।


সরকার যখন রাত দিন অক্লান্ত প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য খাত কে আধুুনিক চিকিৎসা সেবা দিতে হাতে নিচ্ছে নানাবিধ পরিকল্পনা। দেশ উন্নয়নের পথে নিতে মাথার ঘাম যখন পড়ছে পায়ে। ঠিক এ সময় জাদু শক্তি ব্যবহারের কথা বলে চিকিৎসার নামে ধোয়া দিয়ে বস করে হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। গত বৃহষ্পতি বার ঘটনা স্থলে একই থনা শুভরাড়া ইউনিয়নের ইছামতি গ্রমে কথিত কবিরাজের বাড়ীতে গেলে দেখা যায়। ১৮ মাসের আফিপ কে নিতম্বরের নিচে ধোয়া দিয়ে পায়ের চিকিৎসা দিচ্ছে।


পার্শ্বে বাগেরহাটের নিতাই সরদারের পায়ে রশি বেধে কবিরাজের ভক্তবৃন্দ টানছে আর ভন্ড কবিরাজ সুসান্ত ধোয়া দিচ্ছে। ভুক্তভূগি জানালেন প্যারালাইসেসের চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। ভ্যানের উপরে থাকা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জৈনক মহিলা জানালেন ডান পার্শ্বে অচল হয়ে যাওয়ার পর কবিরাজের কাছ থেকে ধোয়া নিয়ে একটু ভালো হয়েছে সে। প্রশাসনের নিরবতায় ঠকছে নিরিহ অসহায় হাজার হাজার রুগি। দেখছেনা কেউ। আধুনিক যুগে কুসংস্কার এ চিকিৎসায় হতবাক হচ্ছে এলাকা বাসী।


ইছামতি সরকারি প্রইমারী স্কুলের পার্শ্বের এক দোকানদার জানালেন উলুপাতা (লম্বা চিকুন ঘাস) শুকিয়ে ধুপ দিয়ে আগুন ধরিয়ে ধোঁয়া তৈরি করে দেয়া হয় সেঁকা। বাশুয়াড়ী পুলিশ ক্যাম্পের এস আই ইকবল মাহমুদ জানালেন আমাদের কাছে কোন ভুক্তভূগি অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব।


অনুসন্ধানে জানাগেছ নওয়াপাড়া এক সাংবাদিক হোমিওপ্যথিক ডাক্তার পাইকারি ঔষুধ সরবরাহ করে এই কবিরাজের কাছে। কবিরাজ কারো কাছ থকে নিজে টাকা নেয়না তবে ভক্তবৃন্দরা প্রত্যেক রুগির কাছ থেকে সুস্থকরার নামে ২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন।


ঘটনা স্থলে দেখাগেছে কলার পাতার সাথে শুকনোঘাস জাতীয় খড় কোটা পেচিয়ে রাখা হয়েছে ধোয়া তৈরির জন্য। ১৩ বছরের একটি মেয়ে চেয়ারে বসে টেবিলে সাজিয়ে রেখেছে হরেক রকম আয়ুর্বেদিক ঔষুধ দিয়ে। বসে থাকার বিষয় জানতে চইলে জানা গেল, সে সেবিকার দায়িত্বে আছে নাবালক এ মেয়ে টি।


এবিষয়ে কবিরাজ সুসান্ত জানালেন তার ৬ মাসের একটি আর্য়ুবেদিক কোর্চের সার্টিফিকেট আছে। ধোঁয়ার বিষয়ে জানতেচাইলে তিনি জানালেন তার বাবার কাছ থেকে শিখে কবিরাজি করছে সে।


এ সময় এলাকার একাধিক সাফাই সদস্য কবিরাজের সুনাম গাইতে থাকে। অভয়নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক ডঃ ধোয়ার চিকিৎসা বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ধোয়াদিয়ে চিকিৎসা যেহেতু বিজ্ঞান সন্মত চিকিৎসা না তা থেকে দুরে থাকা উচিৎ সকলের।

সংযুক্ত থাকুন