বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
অভয়নগরে মৃণাল বাহিনী পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে আসছে মুরগী চোরা কুদরত

অভয়নগরে মৃণাল বাহিনী পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে আসছে মুরগী চোরা কুদরত

মামলার ঘানি টানছে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা

একই মোবাইল নম্বর। একাধিক ব্যক্তির কাছে কল। অপর প্রান্তের ভাষ্য ‘আমি সন্ত্রাসী মৃণাল বাহিনীর লোক। চাঁদার টাকা দিবি, না হলে জীবন দিবি। গম্ভীর কন্ঠের শব্দে ভয়ে কেহ মুখ খুলতে সাহস পায়না। এ নিয়ে এলাকায় চলতে থাকে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা। ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে ১০ তারিখে ঘটনাটি ঘটেছিল যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৬নং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পোতপাড়া ও মরিচা গ্রামে। অপর দিকে একই নম্বর দিয়ে চাঁদা দাবি করেছিল নড়াইল জেলার সদর থানার দক্ষিন নড়াইলের চাকই ও মধুরগাতী গ্রামে একাধিক ব্যক্তির কাছে।

চাদা চেয়েছিল চাকই বাজারের ধান ব্যবসায়ী নওয়াব আলির কাছে। চাঁদা চাওয়া অজ্ঞাত সন্ত্রাসী ব্যক্তির ব্যবহৃত ০১৯০৬৪৩৫৪১৪ নম্বরটি নিয়ে ১৩ই জানুয়ারী অভয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে নওয়াব আলী। পুলিশ তাতেই বের করে নেয় আসল রহস্য। তবে মামলায় আসামী করাহয় অপর দুই ভূক্তভুগি চাদাদিতে অস্বীকার করা আজমল হোসেন খোকন ও নড়াইল সদরের ১২ নং বিছালী ইউনিযয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বর আকুঞ্জি মুনজুরুল ইসলাম কে। যাচাই বাছাই করে পুলিশ দেখতে পায় অজ্ঞাত পরিচয়দান কারি সন্ত্রাসী ব্যক্তি নড়াইল জেলার লোহাগাড়া থানার ইতনা পশ্চিম পাড়ার মৃত মফিজুর রহমান শেখ ও মনোয়ারা দম্পতির ছেলে মোঃ কুদরত শেখ, উক্ত নম্বর ব্যবহার করে একাধিক বার কথা বলেছে নড়াইল সদরের ১২ নং বিছালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বর মুনজুরুল ইসলামের সাথে। পুলিশের ধারনা মেম্বরের সাথে রয়েছে সন্ত্রাসী কুদরতের সখ্যতা। অন্যদিকে ৭,৮,৯,১০ ই জানুয়ারী ২০ইং দক্ষিন নড়াইলের চাকই গ্রামের মৃত মজনু মোল্যার ছেলে আজমল হোসেন খোকনের কাছে ও একই ভাবে চাদা চেয়ে ৪ দিনে ১৩ বার মোবাইল করে সন্ত্রাসী কুদরত। তাতেই মুনজুর, আজমল,ও কুদরত কে আসামী করে অভয়নগর থানায় উক্ত চাদাবাজীর অভিযোগ সত্য বলে প্রতিবেদন দেয় ক্যাম্প পুলিশ। নওয়াব আলীর অভিযোগে মামলা রেকর্ড করাহয়। মামলা নং ১৩/২০ ধারা ৩৮৫। জি আর নং১৩/২০।

মামলার মূল নথির তথ্য অনুযায়ী বাদী উলেখ করেছেন ২০ সালের জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে আসা ফোনে সন্ত্রাসী মৃণাল বাহিনির লোক পরিচয় দিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চাদা দাবী করে। বাদি নওয়াব আলির কাছে। একই মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত টাকা না দিলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিতে থাকে। উপায় না পেয়ে বাদি প্রশাসনের আশ্রয় গ্রগণ করে। বাদী আরো উলেখ করেন সে একজন স্থায়ী চাকই বাজারের ধান ও চাউল ব্যবসায়ী। মামলার আসামী আজমল হোসেন খোকন জানালেন সন্ত্রাসী কুদরত তার কাছে ১৩ বার চাদার টাকার জন্য ফোন করেছিল। এবং একাধিক বার হত্যার হুমকি দিয়ে চাদা চেয়েছিল। অন্য আসামী মেম্বর জানালেন কুদরত একাধিক বার তারকাছে ফোন দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে চাদাচেয়েছিলো। অথচ পুলিশ জেনে শুনে দেখেছিল সে (আজমল ও মেম্বর) সন্ত্রাসী নজরে। তারপর ও সন্ত্রাসী কুদরতের নম্বর তাদের ফোনে পাওয়াতে রাজনৈতিক নেতা আজমল হোসেন খোকন ও মেম্বর মুনজুরের নামে মামলা দিয়ে চালান করে দিয়েছিল থনা পুলিশ। তদন্ত ছাড়া মামলার আসামী করা বেআইনি কাজ হলে ও থানা পুলিশের খামখেয়ালীতে চাদা না দেওয়ায় আজমল ও মুনজুর কে আসামী হয়েছে বলে ধারনা করছে এলাকা বাসী।

জানাগেছে আজমল হোসেন একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি। মামলা যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়ার জুড়িসিয়াল আদালতে চলমান রয়েছে। অন্যদিকে অভয়নগর উপজেলার ভৈরব উত্তর অঞ্চলের একাধিক স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষকের কাছে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের টাকা চাদা দাবিকরা হয়েছে। সিংগাড়ী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলম গীর হোসেন জানিয়েছেন রোজার প্রথম দিকে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাদা চেয়েছে। বাশুয়াড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক আওয়াল হোসেন জানিয়েছেন একই সময় তার কাছে ও চাদা দাবি করা হয়েছে। জানাগেছে এ অঞ্চলের প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকের কাছে একই চক্র চাদাদাবি করেছে। বাঘুটিয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলিগ নেতা সাইফার মোল্যা জানিয়েছেন সন্ত্রাসী পরিচয় দান কারি কুদরত তার ভাজতে হয়। দীর্ঘদিন কুদরত সহ তার তিন ভায়ের সাথে পারিবারিক ভাবে কোন যোগাযোগ নেই।

নড়াইলের ইতনা ইউনিয়নের চেয়ার ম্যান জানিয়েছেন কুদরতের বাড়ী ইতনা দক্ষিন পাড়ায়। চারিত্রক গত ভাবে তারা বাজে সভাবের। সমাজে অনেক অপবাদ রয়েছে কুদরতের পরিবারের নামে। জানাগেছে কুদরত পেশায় একজন চোর প্রকৃতিক লোক সে বিভিন্ন সময় হাস মুরগি ছাগল চুরিকরে জীবন নির্বাহ করে থাকে। এ বিষয়ে মামলার বাদী নওয়াব আলী এ প্রতিবেদক কে জানান, মামলা চলমান রয়েছে পুলিশের পর এখন পুন তদন্তের জন্য নিরোপেক্ষ তদন্তকারি প্রতিষ্ঠান পিবিআয়ের উপর দায়িত্ব দিয়ছে আদালত। বিতর্কিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক অভয়নগরের ভাটপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের এস আই আকিকুর রহমান জানালেন বাদীর উলেখিত আসামীর বিষয়ে তদন্ত করে মামলা রেকট করা হয়েছিল। যদিও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সনাক্ত করেছেন থানা পুলিশ তিনি নড়াইল জেলার লোহাগাড়া থানার ইতনা পশ্চিম পাড়ার মৃত মফিজুর রহমান শেখ ও মনোয়ারা দম্পতির ছেলে। তার পর ও আজ অবদি গ্রফতার হয়নি পালাতক অজ্ঞাত সন্ত্রাসী কুদরত। এই মামলায় পালাতক আসামী হিসাবে রয়েছে সে।

সংযুক্ত থাকুন