বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
অভয়নগরে শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়াম্যান-মেম্বরদের কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি

অভয়নগরে শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়াম্যান-মেম্বরদের কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি

এবার ছয় মেম্বারের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের একাধিক অভিযোগ ,পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ ও অনাস্থায় থমকে আছে পরিষদের কার্যক্রম, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই

অভয়নগর উপজেলার অতিব গুরুত্বপূর্ণ শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ কয়েকমাস যাবৎ চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের মধ্যে কাঁদা ছোঁড়া ছুঁড়ি অব্যাহত থাকলেও এর যেন কোন প্রতিকার নেই। এক পক্ষ আর আর এক পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও বিষেদাগার তুলে পরিষদটিকে রীতিমত অকার্যকর করে ফেলেছেন।


চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সকল মেম্বরদের অনাস্থা জ্ঞাপনের পর থেকেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে ৬ জন মেম্বর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব তুলে নিয়েছেন বলে জানাগেছে। তথাপি ওই পরিষদের কোন কর্মকান্ডে চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি কয়েকমাস। যদিও চেয়ারম্যানের দাবি কতিপয় ইউপি সদস্য তাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকতে বাঁধা প্রদান করে আসছেন।


এমনকি তার কার্যালয়টি গায়ের জোরে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। তিনি মাসের পর মাস এর প্রতিকারের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার পাননি। এদিকে চেয়ারম্যান মেম্বরদের অব্যাহত এ কাঁদা ছোঁড়া ছুঁড়ির খেসারত দিতে হচ্ছে ইউনিয়নের সকল শ্রেনি পেশার মানুষকে। ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বিভিন্ন ভাতা ভোগীরা।


সবশেষ ছয়জন ইউপি সদস্যের (মেম্বার) বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করে প্রকল্প স্থগিতের আবেদন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা। অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্প স্থগিতের আবেদনপত্রটি মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান বরাবর জমা দেয়া হয়। ছয়জন ইউপি সদস্য হলেন- ১নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মুসলিমা বেগম, ৪নং ওয়ার্ডের জাহিদুল ইসলাম কল্লোল, ৬নং ওয়ার্ডের মনিরুজ্জামান মনি, ৭নং ওয়ার্ডের সুলতান মোল্যা, ৮নং ওয়ার্ডের মোস্তফা ফকির ও ৯নং ওয়ার্ডের তিতু মিনা। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রীধরপুর ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডে গত ৪ বছর ধরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পে নামমাত্র কয়েকজন শ্রমিককে দিয়ে কাজ করান ইউপি সদস্যরা। অথচ ৩৫ জন শ্রমিকের হাজিরা দেখিয়ে তাদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।


হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে শ্রমিকের তালিকায় স্থান পেয়েছে ওইসব ইউপি সদস্যদের স্বামী, ভাই, বোন, চাচা, পুত্রবধু সহ অনেক নিকট আত্মিয়। যাদের অধিকাংশ ধনী। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, একজন পিআইসি’র আওতায় ৩০ থেকে ৩৫জন শ্রমিকের নামের তালিকা আছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ চলাকালিন সময় প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭ থেকে ১৫ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। গত ৪ বছর ধরে ওই ছয়জন ইউপি সদস্য অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ইজিপিপি প্রকল্পের কাজ করে আসছে।


যা প্রকল্পের নিয়ম বর্হিভূত ও স্বেচ্ছাচারিতা। সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ৪ বছর পর অভিযোগ কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা জানান, ইতোপূর্বে তাদেরকে বার বার সংশোধন হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি এবং মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। কোন ভালো ফল না পেয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি।


এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সুলতান মোল্যা জানান, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। চেয়ারম্যান নিজেই একজন দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান জানান, শ্রীধরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা তার পরিষদের ছয়জন সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন