মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
Logo
অভয়নগর-মণিরামপুর-কেশবপুরে বোরো চাষ অনিশ্চিত

অভয়নগর-মণিরামপুর-কেশবপুরে বোরো চাষ অনিশ্চিত

৫৭ গ্রামের কৃষকের গলার কাঁটা ৮ ব্যান্ডের সুইচ গেট

ভবদহ অঞ্চলের মধ্যে বর্তমান অভয়নগর এলাকা পানি নিষ্কাশনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এলাকাবাসি আমডাঙ্গা খালকে ভবদহের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

পরীক্ষা স্বরুপ বিল ঝিকরা থেকে ভৈরব নদী পর্যন্ত খাল খনন করে জলাবদ্ধ ওই সব বিলের পানি ভৈরব নদীতে নিষ্কাশন করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এম আমিন এর উদ্যোগে খনন হয় আমডাঙ্গা খাল।

 

শুরুতে খুব একটা ফল না মিললেও পরবর্তীতে খালের মুখের অংশ কেটে বিল ঝিকরার আড় খালে মিলিয়ে দিলে আশার আলো দেখতে শুরু করে ওই এলাকার জনসাধারণ। কিন্তু বাঁধসাধে খালের দুপাশে বসবাসকারীরা। তারা খালটিকে শাষন করতে শুরু করে এবং খালটির মধ্যে ময়লা আবর্জনা ও সংকুচিত করে রেখেছে তারা।

 

এমনকি পাউবো খালটির শেষাংশে ব্লক দিয়ে বাধায় করায় পানি প্রবাহ কমে যায়। যে কারণে পানি প্রবাহ কমে গিয়ে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। আবারও জলাবদ্ধতায় পড়ে এলাকার জনগণ। সর্বশেষ আমডাঙ্গা খালকে প্রশ্বস্ত করতে এবং খাল দিয়ে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করতে একযোগে নামে জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ।

 

অবশেষে গতকাল শনিবার যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় করণীয় শীর্ষক সভা। সভায় ভবদহের বিকল্প হিসেবে আমডাঙ্গা খাল ভূমিকা রাখতে পারবে কি/না তার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবন্দ।

 

এরপরও যদি খালকে প্রশস্ত করে অনতি বিলম্বে বোরো আবাদের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে বৃহৎ আন্দোলনে নামতে পারে বলে জানিয়েছেন জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকেরা। এদিকে- কেশবপুর প্রতিনিধি জানায়, বিল খুকশিয়ার ৮ ব্যান্ড সøুইচ গেট যেন মণিরামপু ও কেশবপুরসহ ৩ উপজেলার লাখ লাখ কৃষকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

গত বারের মত এবারও ইরি-বোরো চাষে অনিশ্চয়তা দেখছে ২৭ বিলের জমির মালিকরা। জানা গেছে, কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তি অংশের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে শ্রী হরি নদী।

 

এই নদী দিয়ে কেশবপুর-মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার প্রাই ২৭টি বিলের পানি বিল খুকশিয়া নামক স্থানের ৮ ব্যান্ডের সুইচ গেট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে। আর এই ৮ ব্যান্ডের উপর নির্ভর হয়ে আসছে ২৭ বিলের আওতাধিন এই ৩ উপজেলার ৫৭টি গ্রামের লক্ষাধিক কৃষদের ইরি-বোরো চাষ। আর এই একটি মাত্র চাষের মাধ্যমে ২৭ বিলের কৃষকরা তাদের সারা বছরের খোরাক ঘরে তোলে।

 

কিন্তুু নদীর নাব্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় দানকারী কিছু স্বার্থান্বেশী মহলের কারনে জমির মালিক ও নেতাদের মধ্যকার সমন্নয়হীনতায় পানি নিষ্কাশনের গতি পথের পলি অপসারন না করতে পারায় গত বছর এই ২৭ বিলের কৃষকরা ধান চাষ থেকে বঞ্চিত হয়। বর্তমানে বিল অপেক্ষা নদীর তলদেশ ৬/৭ ফুট উচু হয়ে গেছে যে কারনে গেটের পশ্চিম অংশের ৩০ টি বিলের পানি নিস্কাষন হতে পারছে না।

 

অতি বৃষ্টির কারণে এলাকার অনেক নিচু অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যদি এখনি নদীর পলি অপসারন না করা হয় তাহলে এবারো ২৭ বিলের কৃষকদের অবস্থা গত বছরের মত হবে। আর গত বছরের মত যদি এ বছরও এই বিলে ধান চাষ না হয় তাহলে ২৭ বিলের লক্ষাধিক কৃষকদের ঘরে দূর্ভিক্ষ নেমে আসবে।

 

এদিকে বিল ছাড়া নদীর তলদেশ ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু হওয়ায় ২৭ বিলের মৎস্য ঘের মালিকরা ঘেরের পাড় ঘেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে সেচ দিতে ভয় পাচ্ছে। এ দিকে সেচ ব্যবস্থা নিয়ে দিন-দিন জমির মালিক ও ঘের মালিকদের দুরত্ব বেড়েই চলেছে। নদী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদী সংলগ্ন যে কোন একটি বিলে উন্মুক্ত জোয়ার আধার প্রকল্প চালু করলে নদীর নব্যতা ফিরে আসার সম্ভবনা রয়েছে এবং গেটের মুখের পলি অপসারণ করলেই সহজেই পানি নিস্কাষন হতে পারবে।

 

২৭ বিলের কৃষকদের একটাই দাবি, যে কোন ভাবে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরে চাষ নিশ্চিত করা। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিল খুকশিয়ার ৮ ব্যান্ডের সøুইচ গেটের পলি অপসারনের মাধ্যমে ৩ উপজেলার ৫৭ গ্রামের কৃষকদের ইরি-বোরো আবাদের পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট আসনের এমপিসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সংযুক্ত থাকুন