বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
অস্থায়ী প্লাষ্টিক পণ্যের ফেরিওয়ালারা ভালো নেই

অস্থায়ী প্লাষ্টিক পণ্যের ফেরিওয়ালারা ভালো নেই

মিহিন আলী আর মিলন শেখ। প্লাষ্টিক পণ্যের ফেরিওয়ালা। কাঁধে করে প্লাষ্টিকের পণ্য ফেরি করে বিক্রি করে। গ্রাম ঘুরে পাড়া মহল্লায় দিনভর বেঁচা বিক্রি করেন। যেখানে দিনের শেষ হয় সেখানে থেকে যনয়। ভারি ঝুড়ি ভর্তি প্লাষ্টিকের পণ্য বোঝাই কাঁধে নিয়ে সারাদিন চলে ফেরির কাজ।

 

দিনশেষে ঠাই মেলে কোন স্কুল বা কলেজের বরান্দায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা। স্থায়ীভাবে কোথাও থাকা হয়না। রাতের আঁধার নামার আগেই সারতে হয় রান্নার কাজ। রাত আটটা পার হতেই পরের দিনের স্বপ্ন নিয়ে পরম আনন্দে ঘুমিয়ে পড়েন। বর্ষা মৌসুমে কাঁদা পানির জন্য নিজ এলাকায় থেকে চাষাবাদ করেন। এসময় কাঁদা পানিতে চলা এবং থাকা অনেক কষ্টের।

 

দু’জনে প্রায় ২০ বছর ধরে প্লাষ্টিকের ব্যবসার সাথে জড়িত। বছরের ৬ মাস ব্যাবসা ভালো চলে। শীত মৌসুম তাদের ব্যবসার উপযোগী। দুজনের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অস্বচ্ছল হওয়ায় এ পেশা বেছে নেওয়া। মাহিন ও মিলনের সাথে গত রবিবার ভোর সকালে বাঘারপাড়া পাইলট স্কুলের বারান্দায় এ প্রতিনিধির সাথে কথা হয়। তারা জানান ব্যাবসা আগের মত আর নেই। চারপাশে অনেক দোকান হয়েছে। সবাই যাচাই করে দোকানের থেকে কেনা কাটা করে।

 

আমরা শীতের সময় এ ব্যাবসা করি। এখন শীত শেষের পথে আমাদেরও চলে যেতে হবে। এ পথে চলতে কোন সমস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে বলেন বাড়ি ছাড়া এ জীবন অনেক কষ্টের। সারাদিন অনেক কষ্ট করি কিন্তু থাকা খাওয়ার কোন ঠিক নেই।

 

রাতে স্কুলের বারান্দায় নিরপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। দিনভর কষ্টের পর নিজের রান্না করতে হয়। পরিবার ও ছেলে মেয়ের পড়াশোনার কথা মনে করে এ কষ্ট মেনে নিয়েছে। আমরা ভালো নেই।

সংযুক্ত থাকুন