বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
আজ অমর একুশে

আজ অমর একুশে

মহান ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি পূরণের ৬৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে এই দিনে।


১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।


রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালী জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা। রাষ্ট্রভাষার লড়াইয়ে সে দিন রাজপথ রঞ্জিত হয় ভাইয়ের রক্তে। রক্তের ঋণে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ কবিতা লিখলেন।


কবিতাটি মোট ৩০ লাইনের। কিন্তু এখান থেকে বেশ কয়েকটি লাইন অমর একুশের কালজয়ী গান হয়ে গেছে। এই গানটি আজ কোটি কোটি বাঙালী প্রাণের আবেগে দিনভর গাইবেন- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ এই গানটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চেতনায় আজও অনুপ্রাণিত বাঙালী জাতি।


এই কালজয়ী গানের বাণী দেশের মানুষের মনে প্রোথিত হয়েছে সেই থেকে। গানটি পাকি শত্রুদের বিপক্ষে ঘৃণা ক্রোধ আর দ্রোহের আগুন এখনও জ্বালিয়ে তুলছে। একুশের সেই চেতনাই শিক্ষা দিয়েছে কোটি কোটি বাঙালীর মেধা ও মননে।


জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।


মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, রোববার। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর পূর্ণ হবে এদিন। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এর আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।


কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয় শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।


জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।


রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরপরই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তবে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে স্বশরীরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাচ্ছেন না রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি যথাযোগ্য মর্যাদায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। সূত্র জানায়, প্রতিবার প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন।


এবার তারা না আসার সম্ভাবনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাস ও এসবি পাস সংগ্রহের জন্য কোনো ধরনের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির পক্ষে সামরিক সচিব শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়েছে।


অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী না আসার কথা জানিয়েছে সংস্কৃত মন্ত্রণালয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সংযুক্ত থাকুন