মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
Logo
আশাশুনিতে জেলা পরিষদের ৫ লাখ টাকার গাছের অধিকাংশ লোপাট

আশাশুনিতে জেলা পরিষদের ৫ লাখ টাকার গাছের অধিকাংশ লোপাট

জেলা পরিষদ এর সুপার ভাইজারের সহযোগিতায় অনুমান ৫ লাখ টাকার বৃহদাকারের শিশু বৃক্ষ কেটে ২/৩ অংশ লোপাট এবং ডাল বিক্রয়ের লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা পরিষদের কর্তা এবিষয়ে কিছুই জানেনা, ব্যবস্থা নেবেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা-শোভনালী সড়কের শ্বেতপুর গ্রামের মধ্যে ন্যাজারিন মিশনের কাছে দীর্ঘ কালের বৃহৎ শিশু গাছ ছিল। কার্পেটিং সড়কের পাশের কাচা অংশ ও স্লোব জুড়ে বৃহৎ আকৃত্রির গাছটি এলাকার মানুষের কাছে কালের স্বাক্ষী হিসাবে বিবেচিত ছিল। গাছের আকৃতি এতটা বৃহৎ ছিল যে এলাকা জুড়ে ছায়া বিতরণ করে আসছিল। গাছের কাছ থেকে অনেকটা দূরে বসবাসকারী মোহাম্মদ ঢালীর পুত্র রেজাউল করিম গাছের কাছে ভবিষ্যতে বাড়ি করবেন যদি কোনদিন গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙ্গে পড়ে তবে তার ক্ষতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে গাছ কেটে নেয়ার আবেদন করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে। জেলা পরিষদ গাছ কাটার প্রয়োজন অনুভব করলে বিধি মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রয় করতে পারেন। কিন্তু না টেন্ডার আহবার করা হয়েছে, না কাউকে কেটে নিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এলাকার অনেকে জানান, তারপরও ধুরন্ধর রেজাউল জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের সাথে যোগসাজস করে আর্থিক চুক্তিবদ্ধ হয়ে জন মজুর লাগিয়ে ২০ এপ্রিল করোনা কালীন ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের যোগাযোগকরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করিয়ে গাছ কাটা হয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আ ব ম মোছাদ্দেক জানতে পেরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মোবাইলে অভিযোগ করেন। কিন্তু গাছ কাটা বন্ধ হয়নি। বরং আরও দ্রুততার সাথে গাছের ডাল কেটে লক্ষাধিক টাকার ডালপালা বিক্রয় করে দেওয়া হয়। এরপর বৃহৎ বৃক্ষের শাখা ডালগুলো যেগুলে বড় বড় গাছের লগের সাইজের, মূল্যবান লগাকৃতির ডালগুলো ট্রাকে ভরে ঢাকায় চালান করা হয়। গাছের গোড়ার ২০/৩০ মন কাঠ বিক্রয় করে দেওয়া হয়। মূল লগটি এতটা বড় যে সেটি সহজে ট্রাকে উঠানো সম্ভব নয়, সেজন্য সেটিসহ কয়েকটি লগ ট্রাকে উঠানোর সুযোগ না থাকায় এবং বিশেষ করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করায় সেগুলো পাচার করা হয়নি। তবে একাধিক সূত্রে জানাগেছে, গাছের ডাল বিক্রয় লক্ষাধিক টাকা এবং ট্রাকে করে পাচার করা ডালের লকগুলোর বিক্রয় লব্ধ আরও কয়েক লক্ষ টাকা রেজাউল ও সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেজাউল গাছ কাটার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে যে দরখাস্ত করেছিলেন, তাকে ২৯/১২/২০ তাং জেলা পরিষদের কর্মকর্তাগণের রিসিভের স্বাক্ষর স্বারক নম্বর রয়েছে। সর্বশেষ তারিখ লেখা আছে ১৪/১/২১। অর্থাৎ কয়কদিন দরখাস্তটি দপ্তরে ঘোরাফেরা করেছে, তবে কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সিদ্ধান্ত না হলেও গোপনে গোপনে আঁতাতের মাধ্যমে গাছ কেটে লোপাটের কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়। যেটি বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে চলে আসে। চেয়ারম্যান গাছ কাটা বন্ধ না হওয়ায় কয়েকবার তার প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে পাঠালে ডাল বিক্রয়ের এক লাখ টাকার ৪০ হাজার টাকা গাছ কাটার শ্রমিকদের মজুরি দিয়েছে, বাকী ৬০ হাজার টকা সার্ভেয়ার হাসানকে দিয়েছে বলে রেজাউল তাদের কাছে ব্যক্ত করেন বলে জানাগেছে। বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান আ ব ম মোছাদ্দেক বলেন, গাছ কাটতে দেখে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে জেলা পরিষদের অনুমতি নিয়ে এবং সার্ভেয়ার হাসান গাছ কাটছে বলেছে বলে তারা জানায়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে মোবাইলে জানাই। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে গাছ কাটা বন্ধ না হওয়ায় আমি আর যোগযোগ করিনি। সার্ভেয়ার হাসান সাংবাদিকদের জানান, জেলা পরিষদের কোন অনুমতি নেই গাছ কাটার জন্য। জানতে পেরে কর্তনকৃত গাছের লগ জব্দ করে রাখা হয়েছে। লক্ষ টাকার ডাল পালা বিক্রয় করা হয়েছে, বহু বড় বড় লগ (ডাল) ট্রাকে করে ঢাকায় চালান করা হয়েছে, স্থানীয় একটি ‘স’ মিলে লগ কেটে বিক্রয় করা হয়েছে এব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? জিজ্ঞেস করলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি, তবে গাছটি কারো বাড়ির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিলনা বলে তিনি স্বীকার করেন। এব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আহসান হাবিবের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, গাছ কাটা কেন, বিনা অনুমতিতে ডাল কাটার সুযোগ নেই। শ্বেতপুরে কোন গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমাদের অজান্তে হয়েছে। আমি লোক পাঠাচ্ছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। রক্ষক হয়ে ভক্তকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান কিভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই “গাছ খেকো কর্মী” হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বৃহদাকৃত্রির গাছ দিবালোকে কেটে হজম করার সাহস পেল সেটি সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। তার দ্বারা বিগত আম্ফানের পর থেকে অনেক অপকর্ম এই এলাকায় হয়েছে দাবী করে এলাকাবাসীর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান।

সংযুক্ত থাকুন