বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
Logo
আহ! লজ্জার-কষ্টের-বেদনার সভ্যতা

আহ! লজ্জার-কষ্টের-বেদনার সভ্যতা


হারুন-অর-রশীদ:


চারিদিকে ধর্ষনের নগ্ন উল্লাস। যুবতী থেকে শুরু করে বৃদ্ধা-কিশোরী এমনকি ফুলের মতো নিস্পাপ শিশুরা পর্যন্ত ভয়ানক পাশবিকতার শিকার হচ্ছে। পশুত্বের চুড়ান্ত সীমায় পৌছে গেলেও এতোটা জঘন্য হয়না মানবিক মূল্যোবোধ। সম্প্রতি ফেসবুকসহ গণমাধ্যমগুলোতে নানামূখি প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়লেও যেন খ্যান্ত নেই। আরও বেড়েই চলেছে। মানব সভ্যতা আজ ভুলন্ঠিত।

খুন-রাহাজানী, ধর্ষন নিত্যনৈমেত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। নৈতিকতা আজ সুদূরপরাহত। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজ আজ চরমভাবে ধিকৃত। হারিয়ে গেছে পারিবারিক, সামাজিক বন্ধন। কোথাও এখন মূল্যবোধ আর নৈতিকতার শিক্ষা নেই। সঠিক বিচার না হওয়ায় সন্ত্রাসী, ধর্ষক আর দুর্নীতিবাজরা লাফিয়ে বুক ফুলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেংরামী, ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ, দলীয় কোন্দলে শক্তি প্রদর্শণে আজ সমাজের তথাকথিত নেতারা বাহিনী পুষছে। বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক লেবেল সেটে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে।

আর আইন, রাজনীতি, কালোটাকা আর ক্ষমতার হাতের ক্রীড়ানক হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। আর নিষ্ঠুরতা ও লালসার শিকার হচ্ছে শিশু সামিয়ারা। একদিন আগে ঢাকায় ধর্ষনের পর নির্মম ভাবে খুন করা হলো ছোট্ট শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে (৭)। আদরের সোনামণি শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হলো! এ কোন বর্বরতার সময় পার করছে সভ্যতা ? নারী ও শিশুরা আজ নিজ বাড়িতে নিরাপদ নয়, স্কুলে নয়, বিশ্ববিদ্যালয় নয়, মাদ্রাসাতেও নয়, ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতে নয়, গাড়িতে নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও নয়! তাহলে কোথায় নিরাপদ নারী ও শিশুরা? আর আমরা সবাই যেন আজ মুক-নির্বাক-স্বরহীন পাথরের মতো পড়ে পড়ে আছি। আর সেই পাথরের উপর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পশুরূপী জানোয়ারের দল।

কোথায় আছি আমরা? বর্বরতার জঘন্যতা লালন করা কি কতিপয় পুরুষের নেশা হয়ে উঠেছে? এর চেয়ে লজ্জার, কষ্টের, বেদনার আর কি হতে পারে। সায়মা ধর্ষণ দুঃসহ বাস্তবতার ও প্রতিনিয়ত বিভৎস অসহনীয় ঘটনার একটি চিত্র মাত্র। এমন চিত্র রোজ চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে। একজন পুরুষ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেও আজ লজ্জাবোধ হয়। মা-বোনের চোখের দিকে চেয়ে কথা বলতে লজ্জাবোধ হয়। কারন আমি পুরুষ। নগ্ন শিশ্নের উল্লাসরত বন্য জানোয়ার।

রাজধানীর ওয়ারীর একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে (৭) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার মাগরিবের নামাজের সময় নিখোঁজ হয় সিলভারডেল স্কুলের ছাত্রী সায়মা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নির্মাণাধীন ভবনের অষ্টম তলার একটি কক্ষ থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করা হয়। সায়মার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরে ব্যবসা করেন। পুলিশ বলছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আহ! ৭ বছরের শিশু…! এই রকম একটি মেয়ে অনেকের ঘরেই আছে। ভাবতেই গা শিউরে উঠে! বুকের ভেতরটা ধ্বক করে উঠলো। প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা নেই। পশু হতে আর কত বাকি আমাদের। হায়রে মানবতা! পশুরাও ওদের দেখে লজ্জায় মুখ লুকাবে। সবাই আজ মূক, নির্বাক, স্বরহীন, কি আর বলার আছে! সব ভাষা যেন আজ থেমে গেছে! কী অপরাধ ছিলো সায়মার? বিকেল বেলায়, শিশুদের খেলা-ধুলায় সময়ে, একটি শিশুর জন্য একই বাড়িতে ভীষণ অনিরাপদ হয়ে গেলো? এতো কাছে বসেও ধর্ষণ করার সাহস রাখে! এখনও সময় আছে আমাদের কেবল বিচার কার্য নয়, ধর্ষকের খুন বা ফাঁসি নয়, আজ ধর্ষন যে মহামারি আকার ধারণ করেছে সেখান থেকে দেশ তথা সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে ধর্ষণ সমস্যার মূল জায়গায় হাত দিতে হবে।

পর্নগ্রাফির ব্যাপক সম্প্রসারণে এখনই লাগাম দিতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে ধর্ষণ ঘটবার সহজ পরিবেশ, উপায়, উপাত্ত বহাল তবিয়তে রেখে এই পাপ থেকে মানুষ মুক্তি পেতে পারে না। এজন্য ধর্ষণ কেন বাড়ছে বা ধর্ষণ কেন করা হচ্ছে, এই বিষয়টা নিয়ে ভাবার মতো যথেষ্ট সময় এসেছে। এখনই এই সমস্যা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে। ধর্ষণ মূলত একটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। এই বিষয়কে সমাধান করতে হলে মনস্তাত্ত্বিকভাবেই এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

পাশাপাশি আমাদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানবিকতার শিক্ষাকে আরো বেশি জাগ্রত ও জোরদার করতে হবে। অবাধ ইন্টারনেট, মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা, রাজনৈতিক সেল্টার তরুণ ও যুব সমাজের সহজ জীবন যাপনের জন্য হুমকি। এখনই এর সঠিক সমাধান বের করতে হবে। পাশাপাশি নরপিচারশদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে, অপরাধের ভীতিটা জানাতে হবে।

সংযুক্ত থাকুন