রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত বাগেরহাট : গুলিবিদ্ধ ১৬

ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত বাগেরহাট : গুলিবিদ্ধ ১৬

সদরে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গুলি বিনময় শরণখোলায় ইউপি প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৪২

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাগেরহাট। একাধিক ইউনিয়নে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছে ভোটাররা। গত দুইদিনে বাগেরহাট সদরে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে গুলিবিনময় হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৬ জন।


এছাড়া জেলার শরণখোলা উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছে। উভয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মোঃ সজিব তরফদার ও অহেদ মোস্তখা বাপ্পি শেখের সমর্থকদের মাঝে গুলি বিনিময় হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ডেমা গ্রামে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।


এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাপ্পির সমর্থকদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।


ফের সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য প্রার্থী অহেদ মোস্তফা বাপ্পি শেখ বলেন, আমি গতকাল মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে। আমার সমর্থক নিয়ে দোয়া চাইতে বের হলে বিএনপির গুন্ডা বর্তমান ইউপি সদস্য সজিবের বাড়ির সামনে থেকে যাওয়ার সময় আমাদের উপর অতর্কিত গুলি বর্ষন করে সজিব ও তার লোকেরা।


এসময় আমার সমর্থক রুহুল আমিন গাজী, নওশের শেখ, মাহফুজ শেখ, রবিউল, অনিক, মিকাইল, হেলাল গাজী, মিলন শেখ, বেলাল শেখ, হৃদয়, রিন্টু তরফদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুত্বর দুইজনকে খুলনা পাঠানো হয়েছে। আরও আহত থাকতে পারে এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাপ্পি।


বাপ্পির অভিযোগ অস্বীকার করে সজিব তরফদারের ভাই সোহেল তরফদার বলেন, আমার ভাই সজিব তরফদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাপ্পি শেখসহ কয়েকজন আমাদের বাড়িতে আসে। আমার ভাইকে ডাকলে সে বের হননি।


এসময় আমার মা সকিনা আক্তার বুলু বাইরে বের হয়ে কারণ জানতে চাইলে তারা গুলি বর্ষন করেন এতে আমার মা সকিনা আক্তার বুলু, রিপন তরফদার, মেহেরুন বেগম, সোহেল ও সুজা তরফদার গুলিবিদ্ধ হন। আমরা তাদের নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছি।


বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যে কয়জনকে ভর্তি করেছি তাদের শরীরে ব্লেড বা লোহা দিয়ে টান দেওয়ার মত ক্ষত রয়েছে। ধারণা করছি এটা শর্টগানের গুলি হতে পারে।


বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহমুদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপরদিকে বাগেরহাটের শরণখোলায় দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের সভায় হামলা চালায় বর্তমান ইউপি সদস্য ডালিমের সমর্থকরা। এতে ৪ নারীসহ ২২ জন আহত হয়।


অন্যদিকে একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী আলামিনের মিছিল থেকে বর্তমান ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম হালিমের সমর্থকদের উপর ইটপাটকেল ছোড়ে। এসময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের ৭ নারীসহ ২০ জন আহত হয়। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


এদিকে ফের সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, লোকজন নিয়ে উত্তর সোনাতলা গ্রামের আনোয়ারের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ডালিম মেম্বরের নেতৃত্বে অন্তত ৩০ জনের একটি বাহিনী লাঠি-সোটা নিয়ে আমার লোকজনের ওপর হামলা করে এবং আনোয়ারের দোকান ভাঙচুর করে। এতে দোকানদার আনোয়ারসহ আমার ১৭ জন সমর্থক আহত হয়েছে।


আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। আহতদের মধ্যে দোকানদার আনোয়ারসহ ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে চিকিৎসকরা। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।


এ অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ডালিম বলেন, প্রতিদ্ব›দ্ধী প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের লোকজন প্রথমে আমার লোকদের ওপর হামলা করে। পরে একটু হাতাহাতি হয়। এতে আমার অন্তত ৫ জন সমর্থক আহত হয়েছে। এর আগেও প্রতিদ্ব›দ্ধী প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন আমাকে হুমকি দিয়েছে। পরশুদিন জাহাঙ্গীর ও তার লোকজন আমাকে স্থানীয় মডেল বাজার থেকে বের করে দেয়।


এ বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগও দিয়েছি। ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম হালিম বলেন, আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী আল আমিন খান ও তার ভাই বেল্লাল খান মিছিল নিয়ে এসে আমার বাড়িতে ঢুকে আমার লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে আমার নিকট আত্মীয়সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন নারী রয়েছে।


আহতদের উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন চিকিৎসকরা। এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিদ্ব›দ্ধী প্রার্থী আল আমিন খান বলেন, আমি মিছিল নিয়ে হালিমের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ হালিমের কিছু নারী সমর্থক আমাদের ওপর হামলা করে।


এতে আমার অন্তত ৪-৫ জন সমর্থক আহত হয়েছে। আর হালিম যে হামলার কথা বলেছে তা সত্য নয়। শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রিয় গোপাল বলেন, কয়েক ধাপে হাসপাতালে আহত রোগী এসেছে।


এদের মধ্যে আমরা ২৩ জনকে ভর্তি করেছি। ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জরুরি বিভাগে অন্তত ৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।


শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংযুক্ত থাকুন