রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছা ব্যবহার কমাতে প্রধানমন্ত্রীর ৬ প্রস্তাব

এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছা ব্যবহার কমাতে প্রধানমন্ত্রীর ৬ প্রস্তাব

মানবজাতি বিপন্ন হতে পারে নীরবে বিকশিত এমন জীবাণুনাশক ওষুধ বা এন্টিবায়োটিকের অকার্যকর হওয়া ঠেকাতে অবিলম্বে বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


এন্টি-মাইক্রোবাইয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বিষয়ক ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের উদ্বোধনী সভায় দেওয়া রেকর্ড করা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এন্টিবায়োটিকের বেপরোয়া ও নির্বিচার ব্যবহার কমিয়ে আনতে ছয়টি প্রস্তাব রেখেছেন।


আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিমাইক্রোবাইয়াল পণ্য বিক্রয় বন্ধ করা এবং এএমআর সংক্রান্ত গবেষণা জোরদার করার কথা উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


শেখ হাসিনা বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবজাতি কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এক মহাসংকট মোকাবিলা করছে। নীরবে বেড়ে ওঠা জীবাণুনাশক ওষুধের এমন অকার্যকারিতা আধুনিক ওষুধের উল্লেখযোগ্য সব অগ্রগতিকে বিপন্ন করতে পারে।


তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা যদি এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছা ও নির্বিচার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তবে আমরা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং আরও মারাত্মক মহামারি দেখতে পাবো। বিশ্ব সম্প্রদায় অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে এন্টিমাইক্রোবাইয়াল রেজিস্ট্যান্স মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং ওআইই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই সভার আয়োজন করে। বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি, ডাব্লিউএইচও, এফএও এবং ওআইই’র মহাপরিচালকরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।


ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সহ-সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধ করতে আমি এন্টিমাইক্রোবাইয়াল এজেন্ট উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিপণন নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোরভাবে আইন ও বিধি প্রয়োগের পরামর্শ দিতে চাই। দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানব, মৎস্য ও প্রাণীর জন্য ব্যাপকভাবে পরীক্ষাগার ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা দরকার।


তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, অনুমোদিত ব্যক্তির প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিমাইক্রোবাইয়াল পণ্য বিক্রয় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা দরকার। প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবে এএমআর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দসহ মৌলিক, পরীক্ষামূলক এবং পরিচালনামূলক গবেষণা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।


তার পঞ্চম পরামর্শে, তিনি এন্টিমাইক্রোবাইয়াল পণ্যের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের এডভোকেসি, যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্ভুদ্ধকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব করেছেন।


ষষ্ঠ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, নীতিসমূহের কঠোর বাস্তবায়নের জন্য বৈশ্বিক নেতাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ এবং এফএও, ওআইই, ডাব্লিউএইচও, জাতিসংঘ পরিবেশ সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা অপরিহার্য।

সংযুক্ত থাকুন