বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
Logo
করােনা রােগীদের প্রতি মানবিক হােন

করােনা রােগীদের প্রতি মানবিক হােন

করােনা রােগী ও তার সংস্পর্শে আসা ঘনিষ্ঠজনদের প্রতি অমানবিক আচরণ করছেন অনেকেই। এমনকি সুস্থ হওয়ার পরও অব্যাহত থাকছে এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। সামান্য জ্বর, সর্দি নিয়ে কোন ব্যক্তি নিজের সন্দেহকে দূর করবার জন্য অথবা তিনি করোনা আক্রান্ত কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা দিলেই তাকে করােনা রােগী হিসেবে সমাজের এক শ্রেনির মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে।

নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায় আদৌ তিনি করেনাক্রান্ত নন। শুধু তা-ই নয়, এই রােগে আক্রান্ত হয়ে যদি কেউ মারা যান, সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির লাশ দাফন-কাফন নিয়েও সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। দেশের বিভিন্ন প্রন্তে করােনায় অক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি ও মৃতদের দাফনে নানা অবজ্ঞার কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়া 'সম্মুখভাগের করোনা যােদ্ধাদেরও পড়তে হচ্ছে নানা হয়রানির মুখে।

করােনায় আক্রান্ত হওয়ার আশক্কায় বাড়িতে দুকতে না দেয়া, আক্রান্তের গুজব ছুড়িয়ে বাড়িতে হামলা, এমনকি নমুনা সংগ্রহ করতে আসা টিমকেও এলাকায় প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযােগ পাওয়া যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, করােনায় মত্যুর পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফন প্রক্রিয়ায়ও অসহযােগিতা করছেন অনেকেই। আতঙ্কে জানাজায় ইমামতি করতেও রাজি না হওয়ার ঘটনা ঘটছে দেশে। এসব ঘটনার অধিকাংশই অজ্ঞতা এবং অযথা ভয় থেকে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এটা একেবারেই কাম্য নয়।

মনে রাখতে হবে করােনা আক্রান্তরা আমাদের ভাই, বন্ধু ও স্বজন। যাদেরকে একদিন বুকে জড়িয়ে ধরেছি আজ তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিলা কেন? করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রােগ। এ রােগ কেউ ইচ্ছে করে শরীরে পােষে না। যখন তখন আমার আপনার যে কারো হতে পারে। তাই করােনা রােগীদের প্রতি মানবিক হােন। তাদের প্রতি সহনুভূতিশীল আচরণ করুন। তাদের সুস্থ্য হতে সাহায্য করুন। এবং কোন করোনা রােগীর দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে যেন অন্য কেউ আক্রান্ত না হয় সেদিকটাও করোনা রােগী ও তার পরিবারের সদস্যদের চিন্তা ভাবনায় থাকতে হবে।

একজন মানুষ সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা, ভাইরাল ফেভারে ভুগে সামান্য জ্বর-সর্দি-কাশি হলে ভয় পেয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতেই পারে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নমুনা দিলেই ওই বাক্তিটিকে সমাজের এক শ্রেনির মানুষ ঘৃনার চোখে করোনা রোগী বলে তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রচণ্ড রূঢ় আচরণ করছে।

আবার কোন কোন রােগী তার করোনা কানেক্টিংয়ের কারনে জ্বর অথবা কোন উপসর্গ নিয়ে দেদারছে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে করে সমাজের মানুষ তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হতেই পারে। সেক্ষেত্রেও ওই বাক্তিটিকে স্ব-ইচ্ছায় নমুনা পরীক্ষার নির্দিষ্ট হাসপাতাল গুলিতে গিয়ে তার নমুনা পরীক্ষা করে তার নিশ্চিত হওয়া প্রয়ােজন যে তিনি আক্রান্ত কিনা এবং নমুনা প্রদানের পর থেকেই তাকে তার বাড়িতেই একটি ঘরে পরীক্ষার রিপাের্ট আসা পর্যন্ত সাবধানে অন্তরীন থাকা উচিৎ এবং টোটকা চিকিৎসাসহ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

সর্বদিক বিবেচনা করে আমরা নিজেকে নিজের পরিবারের সদস্যদের এবং সমাজর মানুষকে সর্বপােরি মহাদুর্যোগের এই সময়ে দেশকে আমাদের সহযােগিতা করা উচিৎ।

সংযুক্ত থাকুন