রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১
Logo
করুণদশায় ভৈরব নদ : হুমকির মুখে নওয়াপাড়া নদী বন্দর

করুণদশায় ভৈরব নদ : হুমকির মুখে নওয়াপাড়া নদী বন্দর

দখল-দূষণ ও যথেচ্ছা ব্যাবহার এবং স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় যশোরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার প্রাণ খ্যাত ভৈরব নদের এখন করুণ দশা।


ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছে যেন এক সময়ের খর স্রোতা ভৈরব নদ। যৌবন হারিয়ে বার্ধক্যে উপনিত ভৈরব নদটি যেকোন সময় মৃত ভৈরবে পরিণত হওয়ার আশংকা করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। যার ফলে ভৈরব নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নওয়াপাড়া নদী বন্দর রয়েছে হুমকির মুখে।


ভৈরব নদ খনন, দখল ও দূষনমুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে নওয়াপাড়া নদী বন্দর মুখ থুবড়ে পড়বে এমনই মন্তব্য বিশেষজ্ঞ মহলের। ফলে এই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে নওয়াপাড়া শহরটিও পরিণত হবে মৃত শহরে। সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।


জানাগেছে, ভৈরব দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অন্যতম প্রধান ও বড় নদী। এটা গঙ্গানদী থেকে উৎপন্ন হয়ে বৃহত্তর যশোর জেলার মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খুলনার বালেশ্বর নদীতে পতিত হয়েছে। এই দুই নদীর কুলেই আর্য সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


ভৈরব দক্ষিণে বারবাজার, মুড়োলি, কসবা, যশোর, বসুন্দিয়া, নওয়াপাড়া, ফুলতলা, দৌলতপুর, সেনহাটি, সেনের বাজার, আলীপুর, চাঁদপুর, ফকিরহাট, পানিঘাটা, বাগেরহাট, খলিফাবাদ ও কচুয়া প্রভৃতি প্রসিদ্ধ স্থান অতিক্রম করে বালেশ্বরে মিশেছে। কোটচাঁদপুর কালীগঞ্জ, যশোর ও অভয়নগর অংশে এই নদ ভৈরব নাম ধারণ করলেও খুলনা অংশে রূপসা নাম ধারণ করেছে এবং বঙ্গোপসাগরে মিলিত হবার আগে এর নাম হয়েছে শিবসা।


২৪৯ কিলোমিটার ভৈরব নদের অধিকাংশ স্থানই মৃতপ্রায়। স্থানভেদে ভৈরব নদীর প্রশস্ততা কোথাও এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে বর্তমানে তা মাত্র ১৫/২০ ফুটে এসে ঠেকেছে।


এ নদের যশোর-খুলনার মধ্যবর্তী নওয়াপাড়া অংশে গড়ে ওঠেছে নওয়াপাড়া নদী বন্দর। সড়ক-রেল ও নদী পথের মেল বন্ধনে এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট বড় কলকারখানা। সেই সাথে বিস্তৃতি লাভ করেছে ব্যবসা বানিজ্যের।


ধীরে ধীরে নওয়াপাড়া হয়ে উঠেছে সার, সিমেন্ট, কয়লাসহ খাদ্যশষ্যের এক বৃহৎ মোকাম। প্রতিদিন নদী পথে শতশত কার্গো জাহাজে করে চট্টগ্রাম, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ছোট ছোট কার্গো জাহাজে করে হাজার হাজার মেট্টিকটন কয়লা, সারসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নওয়াপাড়া নদী বন্দরে পৌছে।


আর কার্গো থেকে এসকল পণ্য সামগ্রী আনলোড হয়ে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। নদী নির্ভর এসকল ব্যবসা বাণিজ্যের বিস্তৃতির কারণে গোটা দেশে নওয়াপাড়ার গুরুত্ব সর্বাধিক। এখান থেকে সরকার বছরে শ’শ’ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে।


তাছাড়া বন্দরকে ঘিরে শত শত হ্যান্ডলিং শ্রমিক লোড আনলোডের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারতার কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নওয়াপাড়া নদী বন্দর ঘিরে কয়েক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।


কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল, অবিবেচক ব্যবসায়ী বিশেষ করে স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় দিন দিন শ্রী হারাতে বসেছে নওয়াপাড়া। দখল, দূষন ও যথেচ্ছা ব্যবহারের কারনে ভৈরব নদ তার নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে।


তলদেশ ভরাট হয়ে ধীরে ধীরে মৃত নদীতে পরিণত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের রুটি রুজির নির্ভর এ নদটি। এখনই ভৈরব নদকে রক্ষা না করতে পারলে নওয়াপাড়া প্রাণহীন হয়ে পড়বে। বেকারত্বের অভিশাপে বাড়বে নানাবিধ অন্যায় অপকর্ম। দেখা দেবে চরম দারিদ্রতা।


স্থানীয় সচেতন মহল ভৈরব নদকে রক্ষার মাধ্যমে নওয়াপাড়া নদী বন্দরকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংযুক্ত থাকুন