বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
করোনার নতুন ধরন : বাড়ছে সংক্রমন-বাড়ছে মৃত্যু : উদ্বেগ বাড়ছে

করোনার নতুন ধরন : বাড়ছে সংক্রমন-বাড়ছে মৃত্যু : উদ্বেগ বাড়ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংঙ্কটাপন্ন : লকডাউনের খবরে নিম্ম ও মধ্যবিত্তদের নাভিশ্বাস বাড়ছে: সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার বিকল্প নেই

বাংলাদেশে এবারে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন দেখা দিয়েছে। যার সংক্রমন ও প্রাণহানির ক্ষমতা বেশি বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। অবশ্যা আপাতদৃষ্টিতে দেশে করোনা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থাও সেটাই ইংগিত করছে। প্রতিনিয়ত করোনা সংক্রমন ও মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙছে। রেকর্ড ছাপিয়ে রোজ বাড়ছে করোনায় প্রাণহানী ও আক্রান্তের সংখ্যা।

 

করোনার ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ইতিমধ্যে সংকটে পড়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে আইসিইউ বেড ও অক্সিজেনের। ফলে দিন গেলেই বাড়ছে উদ্বেগ। উৎকন্ঠায় কাটছে প্রতিটি দিন। সেই সাথে কঠোর লকডাউন ঘোষণা ও সাধারণ ছুটির ইংগিত পাওয়ায় নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের নাভিশ্বাস বেড়েই চলেছে।


এক অজানা ভয় আর শংকা যেন তাড়া করে ফিরছে প্রতিটি মানুষকে। একদিকে করোনা সংক্রমনের ভয় আর একদিকে পরিবারের খাবারের সংস্থান! কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেনি পেশার মানুষের মাঝে আগামীদিন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সর্বত্র চাঁপা গুঞ্জন- কি খেয়ে বাঁচবে মানুষ। এদিকে করেনার ভয়াবহতার মাঝে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন, কঠোর লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণার বিকল্প নেই।


তবে সরকারসহ দেশের ধনিক শ্রেনিকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে হবে। এছাড়া সরকারি বরাদ্দ যাতে সুষ্ঠভাবে মানুষের কাছে পৌছে তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে কাজ করতে হওেব। যে নতুন ধরনটি দেখা দিয়েছে, তা ইতোপূর্বে দেখা যায়নি। এবারের ভাইরাসটির সংক্রমণের তীব্রতা ও হন্তারক ক্ষমতা অনেক বেশি। যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের রীতিমতো উদ্বিগ্ন ও ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে।


এতে খুব দ্রুত রোগীর ফুসফুস সংক্রমিত হচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তীব্র এবং প্রায় সব রোগীর ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হচ্ছে অক্সিজেনের। অথচ গত বছর করোনা ভাইরাসের প্রথম ধরনটি তেমন তীব্র ও ভয়াবহ ছিল না। যে কারণে পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়েই চলেছে। সরকারী-বেসরকারী সব হাসপাতালেই এমনকি সাধারণ শয্যাও পাওয়া যাচ্ছে না।


আইসিইউ বেড এবং অক্সিজেন সঙ্কটও খুব তীব্র। অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এবং পাওয়া যায় না বললেই চলে। সংক্রমণের মাত্রা ও ভয়াবহতা দেখে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের করোনা ভাইরাসটির ধরন অনেকটা মিলে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে, যার সংক্রমণ ও হন্তারক ক্ষমতা অনেক বেশি। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য এবং ব্রাজিলের করোনার ভাইরাসের নমুনাও পাওয়া গেছে। তিনটি নমুনাই অতি দ্রুত ছড়ায় এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে দিন দিন পরিস্থিতি রীতিমতো সঙ্গিন ও সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠছে।


এ থেকে আপাতত পরিত্রাণ পেতে সবাইকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। সরকারকেও প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, করোনান ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তথা যুদ্ধ করার জন্য বিশ্বের কোন দেশই প্রস্তুত ছিল না। এমনকি করোনার আঁতুরঘর বলে খ্যাত চীনের হুবেই প্রদেশের উহানও নয়।


চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পরাশক্তি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক- উভয় দিক থেকেই। আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, এমনকি বাংলাদেশের সঙ্গেও। সুতরাং করোনা বা কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়তেও সময় লাগেনি। তবে বিশ্ববাসী এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ বা প্রতিরক্ষা কোনটাই গড়ে তুলতে পারেনি যথাসময়ে।


কেননা, করোনা একটি ভাইরাস- জড় ও জীবজগতের মাঝামাঝি একটি বস্তু, যা ক্ষণে ক্ষণে চরিত্র পাল্টে ফেলে আক্রমণ করে মানুষ ও জীবজগতকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক দূর অগ্রসর হলেও প্রকৃতপক্ষে ভাইরাসের এই বিচিত্র চরিত্রের জন্য অদ্যাবধি কার্যকর কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি। যেমন, ফ্লু, প্রচলিত অর্থে ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে কার্যকর কোন প্রতিষেধক নেই। অনুরূপ অবস্থা প্রত্যক্ষ করা যায় মার্স, সার্স, জিকা ভাইরাস, ইবোলা ভাইরাস, নিপাহ ভাইরাস, ডেঙ্গু ইত্যাদির ক্ষেত্রেও। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।


করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার দিন দিন বাড়ছেই। এই মুহূর্তের খবর হলো, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে করোনার টিকা দেয়া শুরু হলেও এটি কোন শতভাগ গ্যারান্টি নয়। সুতরাং সরকার নির্দেশিত ১৮ দফা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সবাইকে। সর্বোপরি সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে প্রতিকূল পরিস্থিতির। মানতে হবে রাষ্ট্রিয় বিধি নিষেধ।

সংযুক্ত থাকুন