মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
Logo
কালীগঞ্জে ক্লিনিক থেকে চুরি হওয়া সেই নবজাতক উদ্ধার : দম্পত্তি আটক

কালীগঞ্জে ক্লিনিক থেকে চুরি হওয়া সেই নবজাতক উদ্ধার : দম্পত্তি আটক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চুরি হয়ে যাওয়া সদ্য প্রসূত কন্যা সন্তান ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর দাসপাড়ার প্রিয়া খাতুন-জাহাঙ্গীর দম্পত্তির বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় প্রিয়া খাতুন ওরফে মিনারাকে আটক করে র‌্যাব।


আটক প্রিয়া খাতুন ও জাহাঙ্গীর ওই এলাকায় রফিকুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে থাকত। উদ্ধারের সময় ঝিনাইদহ-৪ আসনে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানি উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় কালীগঞ্জ শহরের একটি ক্লিনিক থেকে সদ্য প্রসূত এই বাচ্চাটি চুরি হয়ে যায়। শিশুটি কালীগঞ্জ পৌরসভাধিন বলিদাপাড়া ইজিবাইক চালক মনিরুল ইসলামের সন্তান। সোমবার সন্ধ্যায় বাচ্চাটি হারিয়ে যাওয়ার পর স্বজনরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এবং ক্লিনিক মালিক ও সংবাদকর্মীদের উপর হামলা করে।


এরপর শিশুটি উদ্ধারে মাঠে নামে ঝিনাইদহ র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক কয়েকটি টিম। উদ্ধারের পর র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি জানার পর থেকেই চুরি হওয়া কন্যা শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় র‌্যাবের একাধীক টিম।


এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর দাসপাড়ায় রয়েছে শিশুটি। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রিয়া খাতুন-জাহাঙ্গীর দম্পত্তির বাড়ি থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।


এসময় ঘটনার সাথে জড়িত প্রিয়া খাতুনকে আটক করা হয়। তবে স্বামী পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে প্রিয়া জানায়, দীর্ঘদিন তাদের সন্তান হচ্ছিল না। তাই দু’জন পরামর্শ করে শিশুটিকে চুরি করেছিল। তবে, আটক প্রিয়ার দাবি, তার বাড়ি পাশে শিশুটি পড়ে পেয়েছে।


চুরি হয়ে যাওয়া শিশুর বাবা মনিরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে আমার স্ত্রী সাবানা বেগম প্রসব যন্ত্রনা শুরু হলে কালীগঞ্জ শহরের সেবা ক্লিনিকে ভর্তি করি। দুপুর আড়াইটার দিকে সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্ত্যান ভুমিষ্ট হয়। এরপর ক্লিনিকের ২০৩ নং কেবিনে রাখা হয়।


কন্যা ও তার মা সুস্থ্য ছিল। বিকালে এক অপরিচিত মহিলা এসে আমার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আদর করে এবং বিভিন্ন ধরনের গল্প করতে থাকে। এরপর মহিলাটি ক্লিনীকের রিসিভশনে বসে ছিল, তবে মহিলাটা কোন রোগীর আত্মীয় হবে ভেবে কেউ তাকে সন্দেহ করেনি।


সন্ধ্যায় শিশু এবং তার মায়ের সাথে স্বজনরা যখন ইফতার নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন কোন এক সময় বাচ্চাটিকে নিয়ে চলে যায় ওই নারী। তবে সস্তান ফিরে পাওয়ার পর আমি এবং আমার পবিারের সবাই খুশি। র‌্যাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান শিশুটির পরিবার।

সংযুক্ত থাকুন