রবিবার, ১৩ জুন ২০২১
Logo
কয়রার একমাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজেই অসুস্থ

কয়রার একমাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজেই অসুস্থ

কয়রা উপজেলার একমাত্র কয়রা-বেদকাশি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজেই অসুস্থ হয়ে ধুঁকছে। যেন মুমূর্ষ এক ভবন যে কোন সময় ধ্বসে পড়ে বিলীন হওয়ার উপক্রম। যদিও নিজে রুগ্ন-বিধ্বস্ত অবস্থায় থেকেও প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, কয়রা-বেদকাশির এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ উপজেলা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ অসহায়, বঞ্চিত রোগীদের কথা চিন্তা করে ১৯৮২ সালে সরকার কয়রা ইউনিয়নের শেষ সীমানায় এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু কয়রা বেদকাশি নয় এখানে শ্যামনগর উপজেলার মানুষও চিকিৎসা নিতে আসে। চিকিৎসা নিতে আসা উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাঠমারচর গ্রামের এলেম শেখের ছেলে ইছাহাক আলী শেখ (৬০) বলেন, আমার কোন রোগ হলে আমি এই হাসপাতালে আসি। এখানে পর্যাপ্ত ওষুধ দেয়। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ হয়ে যাই। কিন্তু এ হাসপাতালে কোন টয়লেটের ব্যবস্থা নেই, ডায়রিয়া রোগীদের বাথরুমের চাপ হলে তাদের জন্য দারুন দূর্ভোগ হয়। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের জন্য আরও কষ্টের কারণ হয়। পাশে একটি প্রাইমারি স্কুলের বাথরুম রয়েছে, সেখানে রোগীরা যায়, কিন্তু বর্তমান স্কুল বন্ধ থাকায় সেখানেও যাওয়ার সুযোগ নেই। এককথায় বলা যায় এ হাসপাতাল নিজেই আজ অসুস্থ্যতায় ভূগছে। এ হাসপাতালে মানুষ এখন চিকিৎসা নিতে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে ফিরছে। সরেজমিনে এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাউনির কয়েক জায়গা ফাঁকা। আকাশ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আম্ফান ঝড়ের তান্ডবে টিনের চালার কিছু অংশ উড়ে গেছে। সংস্কার না করায় প্রতিষ্ঠানটি আম্ফানের ক্ষত নিয়ে ধুঁকছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির টিনে মরিচা ধরে খসে পড়ছে। ভবনের কোন জায়গায় কোন পলেস্তরা নেই। মেঝেতে ফাঁটল ধরেছে। বাথরুমও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জরাজীর্ণ এ বাথরুমের দরজা, প্যান, হাউজ ভেঙ্গে গেছে। যা ব্যবহার করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। সবকিছু দেখে বোঝার কোন উপায় নেই এটা একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এরপরও এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরাজীর্ণ একটি কক্ষে বসে ডাক্তার শশংক কুমার রায় রোগী দেখছেন। এসময় তিনি বলেন, হাসপাতালটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মরহুম আব্দুল ওহাব শেখ এই হাসপাতালের জমি দান করেছিলেন। তখন যেভাবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়েছে সেই অবস্থায় আজও আছে। এর কোন উন্নয়ন হয়নি। আজও নতুন কোন ভবন হয়নি। বর্তমান যে টিনের ভবন আছে তা ব্যবহারে একবারে অনুপযোগী। বিভিন্ন সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট পাঠিয়েছেন কিন্তু আজও কোন নতুন ভবনের অনুমোদন হয়নি। এব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য লিটন শেখ বলেন, এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য আমার চাচা জমি দান করেছিলেন। কিন্তু এখানে কোন ভবন না হওয়ায় সাধারণ রোগীরা দারুন দূর্ভোগ পেয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য এখানে দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন হওয়া একান্ত দরকার। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ সুদীপ বালা বলেন, এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে তো কোন ভবনই নেই। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সাধারণত দ্বিতল ভবন হয়ে থাকে কিন্তু এখানে কোন ভবনই নেই। নতুন ভবন অনুমোদন হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ পাঠানো হয়েছে কিন্তু এখনো কোন নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এমপি স্যারের সাথে এ বিষয় কথা হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন