শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১
Logo
কয়রায় বিষমুক্ত বিটি বেগুন চাষে কৃষকের মুখি হাসি

কয়রায় বিষমুক্ত বিটি বেগুন চাষে কৃষকের মুখি হাসি

অধিক ফলন ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বিটি বেগুন চাষে ঝুকে পড়েছেন কয়রার কৃষকরা।

 

আবার এই জাতের বেগুনের উৎপাদন যেমন খরচ অনেক কম তেমনি বাজারে এর দামও ভালো। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি বিটি জাতের এই বেগুন কৃষি সরেজমিন গবেষণা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী চাষ করে অনেকেই এরই মধ্যে লাভবান হয়েছেন। 

 

সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেগুন চাষের সময় ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমনে ৭০-৮০ ভাগ বেগুন মাঠেই নষ্ট যায়। এজন্য প্রতি বছর ১৭-২০ লাখ মেট্রিক টন কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে বেগুন চাষের খরচ বেড়ে যায় এবং কৃষকরা এ থেকে লাভবান হতে পারেন না।

 

তাছাড়া প্রচুর পরিমানে কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর। পোকার আক্রমণে সহনীয় হিসেবেই বিটি-১,২,৩, ও ৪ নামে চারটি নতুন উদ্ভাবন করে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এসব জাতের বেগুনে ডগা ও পোকা আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন সম্ভব হয়।

 

কয়রা উপজেলার ৪নং কয়রা গ্রামের চাষী গোপাল সরদার প্রতিবেদককে বলেন, বিটি বেগুন পরিবেশবান্ধব। এতে কোনও ধরনের বালাইনাশক স্প্রে করার প্রয়োজন পড়ে না। এখন প্রতি সপ্তাহে ২ বার বেগুন তুলতে পারছি, প্রতিবার ১৫০ থেকে ১৮০ কেজি বেগুন তুলতে পেরে তা বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরজ চালিয়ে যাচ্ছি।

 

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিকে বাজারে বেগুন ৬২ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিটি বেগুন বাজারে ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে বেগুন ক্ষেতে এমএলটি সাইট কয়রার বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান বলেন, প্রথম অবস্থায় কৃষকদের বেগুন চাষে আগ্রহী করতে বেগ পেতে হয়েছে।

 

কিন্তু উৎপাদনে সাফল্য দেখে উপজেলার অন্য কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের বিটি বেগুনের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া দেওয়া হয়েছে। বিগত বছর ৩ জনকে কৃষককে প্রদর্শণী দেওয়া হয়। এ বছর ৬ জন কৃষককে বিটি বেগুন বারি-৪ প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন