মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১
Logo
খুলনার এইচএসটিটিআই’র উপ-পরিচালকের অনিময়-দূর্নীতির সত্যতা মিলেছে

খুলনার এইচএসটিটিআই’র উপ-পরিচালকের অনিময়-দূর্নীতির সত্যতা মিলেছে

খুলনার এইচএসটিটিআই’র উপ-পরিচালক (সংযুক্ত) ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মউশি) প্রফেসর ড. শেখ মোহতাশামুল হক মারুফের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম-দূর্নীতি, অনৈতিক সুবিধা গ্রহনসহ নানা অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে।

 

তার বিরুদ্ধে খুলনা বিএল কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ভূয়া শিক্ষক পরিচয়ে বছরের পর বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক এবং মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক ও পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণেতার অবৈধ সুযোগ নেয়ার অভিযোগের পর এবার প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম ও দূর্নীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এ সকল অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে গঠিত ৩ সদস্যের অডিট কমিটি।

 

কমিটির প্রতিবেদনে প্রফেসর ড. মোহতাশামুল হক মারুফের রিরুদ্ধে রেষ্ট হাউজের সুপারের দায়িত্ব থাকাকালিন সময়ে অর্থ আত্মসাৎ, চরম আর্থিক অনিয়ম, তিন অর্থ বছরে কোন অর্থ সরকারি ফান্ডে জমা না দেওয়া, দেড় বছরের অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়াই ইচ্ছামত খরচ করা, ভূয়া ও কাচা ভাউচারে বিল, বিধি লঙ্গন করে কয়েক মাসে আয়ের তুলনায় ১০ গুন বেশি খরচ দেখানো, সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে রশিদ বা প্রমাণপত্র ছাড়াই অর্থ গ্রহন, আয়-ব্যায়ের রেজিষ্ট্রারে কাটাছেড়া-ওভাররাইটিং, ষ্টক রেজিষ্ট্রারের মধ্যে ভাউচারের ক্রয়কৃত মালামালের গড়মিল ছাড়াও চাহিদাপত্রের সাথে ক্রয়কৃত মালামালের ব্যাপক পার্থক্যসহ চরম অনিয়ম ও দূর্নীতি উঠে এসেছে।

 

এছাড়া তিনি পরিচালকের অনুমতি ছাড়া অফিসের আলমিরা খুলে জরুরী গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র, নথি ও ডকুমেন্টস সরানো এবং পার্শবর্তি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষকের সাথে অসদাচরণ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদশর্নের করায় আড়ংঘাটা থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়রীসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক একাধিকবার কারণ দর্শানো ও শোকজ হয়েছে বলে সুত্রে জানাগেছে।

 

গুরুতর অভিযোগ মাথায় নিয়ে বহাল তবিয়তে ক্ষমতাধর প্রভাবশালী প্রফেসর ড. মোহতাশামুল হক মারুফ। অশুভ চক্রের মদদে নিজের অপরাধ আড়াল করতে প্রতি পক্ষকে ফাষাতে অবলম্বন করছে ভিন্ন কৌশল। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, প্রফেসর ড. মোহতাশামুল হক মারুফ প্রতিষ্ঠানের রেষ্ট হাউজ (অতিথি ভবন) এর সুপারের দায়িত্ব গ্রহনের পর ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ তিন অর্থ বছরের আয়-ব্যয়ের চুড়ান্ত হিসাবে দাখিল না করে অজ্ঞাতকারণে পদ থেকে অব্যহতির আবেদন করেন। রেষ্ট হাউজের আয়-ব্যয়ের চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তাকে একাধিকবার বলা হয়। সর্বশেষ ১৩/৭/২০ তাং আয়-ব্যায়ের রেজিস্ট্রার খাতা, রশিদ বহি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং চুড়ান্ত প্রতিবেদন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য তাকে নোটিশ প্রদান করা হয়।

 

নোটিশ প্রাপ্তি হয়ে তিনি চুড়ান্ত প্রতিবেদন ছাড়াই শুধুমাত্র একটি রেজিষ্ট্রার খাতা, আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব খাতা এবং কাচা ভাউচার জমা দেন। বিষয়টি সরকারি বিধিমত না হওয়ায় এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পরিচালক মানজার আলমকে আহবায়ক, সহকারী পরিচালক শামীমা আখতার ও উপ-পরিচালক ড. প্রদীপ কুমার মন্ডলের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়।

 

কমিটি সকল বিষয়ে পর্যালচনা শেষে গত ১২/১০/২০ ও ১৪/১০/২০ তারিখে দুটি মিটিং শেষে তাদের চুড়ান্ত প্রতিবেদন ২৫/১০/২০ তারখি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের নিকট দাখিল করেন। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অতিথি ভবনের সুপার প্রফেসর ড. মোহতাশামুল হকের কাছ থেকে ১১/১০/২০ তারিখে রেজিষ্ট্রার খাতা-১২টি, আর্থিক আয়-ব্যয়ের হিসাব খাতা-১টি, স্টক রেজিষ্ট্রার খাতা-১টি এবং ৪১টি মালামাল গ্রহণের চাহিদাপত্র বুঝে পাওয়া যায়।

 

কমিটি সে গুলো যাচাই-বাছাই এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চরম অনিময় ও দূর্নীতি খুজে পেয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে প্রফেসর ড. শেখ মোহতাশামুল হক ২০১৭ সালে রেস্ট হাউজের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিন অর্থ বছরে নিয়ম বহিরর্ভুত ভাবে কোন রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় করে সেই অর্থ সরকারি ফান্ডে অর্থাৎ ব্যাংকে জমা দেননি যা চরম আর্র্থিক অনিয়ম।

 

চাহিদাপত্র, আয়-ব্যয়ের হিসাব সহ বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি বা স্বাক্ষর ছাড়াই নিজের ইচ্ছামত করেছেন। ২০১৭-১৮ সালে দেড় বছর যাবৎ কয়েকজন শিক্ষক রেস্ট হাউজে ছিলেন যাদের টাকার কোন সঠিক হিসাব নাই। প্রাপ্ত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অডিট কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

 

২০১৯ সালের মার্চে আয় হয়েছে ৪ হাজার ১৪০ টাকা কিন্তু এ সময় তিনি ব্যয় করেছে ৪৩ হাজার ৭৬৭ টাকা ছাড়াও চলতি বছরের ফেব্রয়ারী ও জুন মাসের আয়ের ১০ গুন বেশী টাকা খরচ করা হয়েছে। উক্ত অর্থের উৎস কি এবং কোন স্বার্থে অর্থ অগ্রিম ব্যয় করা হয়েছে তার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালে বেশ কিছু টাকা মজুরী খরচ দেখালেও মজুরী গ্রহনকারীর স্বাক্ষর নাই।

 

এছাড়া ২০২০ সালের একটি হিসাব দেখালেও উহার ভাউচার দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে সরকারি অর্থের অনিময়মসহ নানা দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত প্রফেসর ড. মোহতাশামুল হক মারুফের বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রফেসর ড. মোহতাশামুল হক মরুফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে উঠে আসা আর্র্থিক অনিয়মের অভিযোগ গুলোর সঠিক উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে গিয়ে অফিস সহকারির উপর দায় চাপান। তিনি বলেন, অডিট কমিটি পরিচালক তার মদদপুষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে করিয়ে একটি অসত্য প্রতিবেদন দিয়েছে।

 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সঠিক নয় এবং সুপারের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় যথাযথ নিয়মে অব্যহতি নিয়েছেন জানিয়ে বলেন প্রতিষ্ঠানের নিয়ম বহিভূত কোন অনিয়ম ও দূর্নীতি তিনি করেনি।

 

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মোঃ আতিকুল ইসলাম পাঠানের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, অডিট কমিটির একটি প্রতিবেদন পেয়েছি যাতে ১৩টি মন্তব্য করা হয়েছে এতে বেশ কিছু অনিয়ম উঠে এসেছে এর বেশি কিছু বলা যাবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ কর্তপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন