রবিবার, ১৩ জুন ২০২১
Logo
খুলনায় বেড়েছে করোনায় মৃত্যু : জনমনে উদ্বেগ উৎকন্ঠা

খুলনায় বেড়েছে করোনায় মৃত্যু : জনমনে উদ্বেগ উৎকন্ঠা

খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই আবারও বেড়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে খুলনা বিভাগে প্রাণ হারিয়েছে ৭জন। এ সময় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরন করেছে আরও তিনজন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২০৬ জন। সোমবার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার এ তথ্য জানান। এদিকে হঠ্যাৎ করে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। বিশেষ করে খুলনা বিভাগে ভারত ভ্রমণ ছাড়াই ভারতীয় ধরনের আক্রান্তের খবরে উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য বিভাগসহ সর্ব মহলে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ এ অঞ্চলে বসবাসকারীরা। বিশেষ করে ভারত ভ্রমন না করে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ায় নওয়াপাড়াসহ অভয়নগর উপজেলা ও যশোর জেলায় ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন খুলনার দুই জন, বাগেরহাটের একজন, যশোরের একজন, সাতক্ষীরার একজন, নড়াইলের একজন এবং কুষ্টিয়ার একজন। একই সময় করোনা পজিটিভ এসেছে খুলনার ৫৩ জনের, বাগেরহাটের ১২ জনের, সাতক্ষীরার ৩৭ জনের, যশোরের ৪৩ জনের, নড়াইলের ৯ জনের, ঝিনাইদহের ৫ জনের, কুষ্টিয়ার ৩৩ জনের, চুয়াডাঙ্গার ১১ জনের এবং মেহেরপুরের ৩ জনের। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৮ জন। খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, খুলনায় করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০১ জন। যার মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ১১ জন। এদিকে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৪ হাজার ২৯১ জনের। এদিকে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৪৫ জনের। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১ হাজার ৩৫৮ জন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশে¬ষণে দেখা য়ায়, বিভাগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা রয়েছে শীর্ষে। এপর্যন্ত খুলনায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ২২৪ জন ও মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ১৭৬ জন। আর যশোরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৯৩০ জন। মারা গেছেন ৮১ জন ও সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার ৩৮৭ জন। নড়াইলে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৭৩ জন। মারা গেছেন ২৭ জন ও সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৮১৫ জন। মাগুরায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৫৩ জন, মারা গেছেন ২৩ জন ও সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২০৭ জন। বাগেরহাটে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট এক হাজার ৬০৩ জন। মারা গেছেন ৪২ জন ও সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৪০৮ জন। সাতক্ষীরায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৯৬ জন ও মারা গেছেন ৪৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৩২৯ জন। আপরদিকে ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৯০৮ জন, মারা গেছেন ৫৫ জন ও সুস্থ হয়েছেন ২ হজার ৭৩৬ জন। কুষ্টিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ৯৪৬ জন, মারা গেছেন ১১২ জন ও সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৬৪৮ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৬৮ জন, মারা গেছেন ৬১ জন ও সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৮১৭ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে সর্বনিম্নে রয়েছে মেহেরপুর। এখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯০ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৮৩৫ জন।

 

সংযুক্ত থাকুন