শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
চলছে খনন, জমছে পলি : বোরো আবাদ নিয়ে সংশয়ে ভবদহ অঞ্চলের কৃষকেরা

চলছে খনন, জমছে পলি : বোরো আবাদ নিয়ে সংশয়ে ভবদহ অঞ্চলের কৃষকেরা

মো: হাসান আলী সরদার বর্তমানে ভবদহ অঞ্চলের কোন বিলে পলি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, জোয়ারাধার বা টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টি.আর.এম) প্রকল্প কার্যকর করা হয়নি। একদিকে খনন কাজ চললেও বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ারের সঙ্গে পলি উঠে আসার কারণে ভবদহ অঞ্চলের নদী ও খাল গুলো পুনরায় পলি ভরাট হয়ে গেছে। শ্রী হরি নদীতে উভচর স্কেভেটর মেশিন দ্বারা চলছে খনন কাজ কিন্তু দেখা যাচ্ছে না দৃশ্যমান কোন সফলতা। খননের এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। গত ২০১৫ সালের এপ্রিলে টেকা নদীতে কান্ট্রি সাইডে ২কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার খনন কাজ চললেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেটা পলিতে ভরাট হয়ে যায়। এভাবে একের পর এক প্রকল্পের মাধ্যমে খনন কাজ চলছে কিন্তু দেখা যাচ্ছে না কোন সফলতা। কোটি কোটি টাকা ভেস্তে যাচ্ছে শ্রী হরি নদীর জলে। কার্যত উজানের বিলগুলির তলদেশ অপেক্ষা নদী উচু বিধায় বিপুল পরিমান পানি জমে আছে ঐ সব বিলে। ফলে আগামী বোরো মৌসুমে লাখো কৃষক সংশয়ে আছে তারা সঠিক সময়ে বোরো ধান রোপন করতে পারবে কিনা। এ ব্যাপারে মনিরামপুর উপজেলা পাচাকড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুর সবুর গাজী সাক্ষাতে বলেন “গত বছর আমরা মেশিন দিয়ে ঘের থেকে পানি নিষ্কাশন করে ধান করেছি কিন্তু ঐ জমিতে যে ধান হয়েছে তার মূল্য ও তেল খরচ সমান। আগামী মাসের মধ্যে বিলের পানি না ফেলতে পারলে বীজতলা সহ ধান রোপন করতে আমরা পারব না”। অভয়নগর উপজেলার কালিশাকুল গ্রামের ঘের মালিক শ্রী সুকুমার মন্ডল বলেন “নদী খোড়া-খুড়িতে কোন লাভ হচ্ছে না যেখানে কাটছে দুই দিন পরে তা ভরাট হচ্ছে। বিল নিচু, নদী উচু বিধায় বিলের পানি সরছে না টি.আর.এম ছাড়া উপায় নাই”। গত ১৬ অক্টোবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকষ্মিক ভবদহ পরিদর্শন করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন টি.আর.এম জলাবদ্ধতার স্থায়ী কোন সমাধান নয়। তিনি পাওয়ার পাম্প সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ব্যাপারে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তাওহীদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “ভবদহ বিদ্যুৎ চালিত পাম্প মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে, আশা করা যায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। তাছাড়া আমডাঙ্গা খাল প্রশস্থ করণের জন্য টেন্ডার কার্যক্রম শেষ। অচিরেই কাজ আরম্ভ হবে”। অপর দিকে দীর্ঘদিন ধরে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটি, পানি কমিটি সহ জলাবদ্ধ এলাকার বিভিন্ন সংগঠন ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান কল্পে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটি টি.আর.এম, আমডাঙ্গা খাল খনন সহ ৬দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারক লিপি পেশ, জেলা উপজেলায় সংবাদ সম্মেলন, যশোর-খুলনা মহাসড়কে মানববন্ধন, নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক ও অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল মুঠোফেন বলেন “পাওয়ার পাম্প দিয়ে সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশন হতে পারে কিন্তু জলাবদ্ধতা স্থায়ী নিরসন টি.আর.এম এর বিকল্প নাই”। মনিরামপুর উপজেলার ১৫নং কুলটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র বিশ্বাস সাক্ষাতে বলেন “পানি নিষ্কাশনে টি.আর.এম বিকল্প নাই তবে শ্রী হরি নদীর নিচে মধুখালীতে স্লুইচ গেইট নির্মাণ করে ভবদহে সব কয়টি স্লুইচ গেইট অপসারণ করে ভবদহ থেকে ঢাকুরিয়া পর্যন্ত দুইপার্শ্বে বন্যা নিয়ন্ত্রিত শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জোয়ার ভাটা খেলালে নদীর নাব্যতা বজায় থাকিবে”। অপরদিকে কপালিয়া ৩ ভেন্ট স্লুইচ গেইটের উপর বিল কপালিয়ার কৃষকেরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ২টি পাওয়ার পাম্প স্থাপন করেছে এবং ইতিমধ্যে সেচ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু ২টি পাওয়ার পাম্প দ্বারা বিল কপালিয়া ও আড়পাতা বিলের ১২শত হেক্টর জমির পানি নিষ্কাশন করা আদৌ সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে মনিরামপুর উপজেলার ১৭নং মনোহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সেচ প্রকল্পের সভাপতি মো: মশিয়ূর রহমান দাবি করেন, সরকারি তত্ত্বাবধানে আরও কয়েকটি বিদ্যুৎ চালিত পাম্প মেশিন স্থাপন করলে আগামী বোরো মৌসুমে কৃষকেরা ধান ফলাতে পারবে বলে আশা করা যায়। ভুক্ত ভোগী এলাকাবাসীর জোর দাবী আর কালক্ষেপন নয় আগামী বোরো মৌসুমে কৃষকেরা যাতে ধান চাষ করতে পারে তার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জন প্রতিনিধিদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

সংযুক্ত থাকুন