সোমবার, ২১ জুন ২০২১
Logo
চুকনগরে আপার ভদ্রা নদীতে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

চুকনগরে আপার ভদ্রা নদীতে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

চুকনগরে আপার ভদ্রা নদীতে অবৈধভাবে ম্যাশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। বর্তমানে নদীতে প্রায় ৮/১০টি ম্যাশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

 

এভাবে একের পর এক নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রয় করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। নদীর দুই পাশ ভেঙ্গে পড়েছে। আর যারা বালু উত্তোলন করছে এরা সবাই কেশবপুর উপজেলার লোক।

 

এভাবে কেশবপুর উপজেলা হতে ডুমুরিয়া উপজলার সীমানায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে বা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে ডুমুরিয়া উপজেলার মানুষ।

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চুকনগরের উত্তর চাকুদিয়া গ্রামের পিছনে ভদ্রা নদীতে প্রায় দেড় মাস ধরে ম্যাশিন লাগিয়ে ধারাবাহিকভাবে বালু উত্তোলন করছে কেশবপুর উপজেলার ভরত ভায়না গ্রামের সামছুর রহমান মোড়লের পুত্র আমির হামজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ ইকবাল হোসাইন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

 

তিনি গত দেড় মাস প্রায় ৪/৫লক্ষ টাকার বালু নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করে রাস্তায় বিক্রয় করছে। এদিকে উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামের পাশে তিনটি ম্যাশিন লাগিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে কেশবপুর উপজেলার শন্যাসগাছা গ্রামের পীর আলী ফকিরের পুত্র জুলফিক্কার আলী ফকির।

 

তিনি এলাকার বহুল আলোচিত বালু ব্যবসায়ী ও দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে এভাবে বালু উত্তোলন করে চলছে। তিনি বর্তমানে রুস্তমপুর গ্রামের শাহাজান নামে এক ব্যক্তির পুকুর ভরাটের জন্য ১লক্ষ ৩০হাজার টাকা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। বালু উত্তোলন করছেন পুরাদমে।

 

এছাড়া তিনি রুস্তমপুর গ্রামের বুড়ুলিয়া ব্রীজের মাথায় আরও দুটি ম্যাশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। একই স্থানে কেশবপুর উপজেলার ভরত ভায়না গ্রামের টিটু নামে এক ব্যক্তি হাশেম আলী ফকিরের জমি ভরাট করছে।

 

মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের বেতাগ্রামের ২টি ম্যাশিন লাগিয়ে পুকুর থেকে বালি উত্তোলন করছে। তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে ঠিক যে স্থানে ম্যাশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেই স্থান হতে নদীর দুই পাশে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

 

এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডঃ প্রতাপ কুমার রায় বলেন, আমরা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে শাহাজানের পুকুরটি ভরাট করছি। কারণ ঐ স্থানের রাস্তাটি ভেঙ্গে পুকুরে পড়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের রাস্তায় চলাচল একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

তাই মূলত রাস্তাটি সংস্কারের জন্যই আমরা পুকুরটি ভরাট করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন দন্ডনীয় আপরাধ। খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন