শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
চৌগাছার মা হারা ৫ মাসের শিশু মিম‘র জন্য বিত্তবানদের কাছে আকুতি

চৌগাছার মা হারা ৫ মাসের শিশু মিম‘র জন্য বিত্তবানদের কাছে আকুতি

মহিদুল ইসলাম, চৌগাছা থেকে মমতাময়ী মা’য়ের স্নেহ-ভালবাসা ছাড়াই বেড়ে উঠছে ছোট্ট শিশু মিম খাতুন। যে বয়সে তার মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমানোর কথা, মায়ের চোখে চোখ রেখে খেলা করার কথা, সেই বয়সে বৃদ্ধা নানীর কোলে চড়ে বাজারে এসেছে ছবি তুলতে। ছবি নিয়ে একটি বে-সরকরী সংগঠনে আবেদন করবে। সেখান থেকে যা আর্থিক সহযোগীতা মিলবে তাতে কেনা হবে মিমের জন্য দুধ। এ ভাবেই চলে আসছে পাঁচটি মাস। উপজেলার লস্করপুর গ্রামের কৃষক মকলেছুর রহমানের মেয়ে নাজমা খাতুনের বিয়ে হয় খুলনা জেলায়। বিয়ের পর সে সন্তানসম্ভবা হলে শ্বশুরবাড়ি হতে পিতৃলয়ে চলে আসেন। চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে সে ভর্তি হয় চৌগাছার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। ১ জুন সিজারের মাধ্যমে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় মা নাজমা খাতুন। কিন্তু সন্তান প্রসবের পর নাজমা খাতুন চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে। ৪ জুন মা নাজমা খাতুন চলে যান না ফেরার দেশে। নাজমা খাতুনের মৃত্যুতে শিশু মিম বড়ই একা হয়ে যায়। নানা, নানী, মামা ও খালাই তার এখন আপনজন। শিশুটির নানী শহরবানু জানান, মিমের মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা ইয়াছিন আর কখনও চৌগাছায় আসেনি এমনকি শিশুটির কোন খোজ খবর রাখেনি। শুনেছি তিনি অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছে। মা হারা এই শিশুকে মানুষ করতে আমরা বেশ কষ্টে আছি। শিশুটির খালা মিনা খাতুন এখন দেখা শুনা করছে। তারাও গরীব মানুষ, জামাই রং মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালায়। প্রতিদিন কিভাবে দুধ কিনবে। তাই এসেছে চৌগাছা শহরে শিশু মিমের একটি ছবি তুলে দরখস্ত করবো যদি কোন টাকা পাই তাহলে পেট ভরে মিমকে দুধ খাওয়াতে পারবো, এই বলেই কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা নানী শহরবানু। মিমের খালা মিনা খাতুন বলেন, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। শিশু মিমের মা নাজমা খাতুন আমার ছোট বোন। আমার আগেই সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে, তার এতিম সন্তানকে আমি বুকে আগলে রেখেছি। অভাবের সংসারে তাকে ভালো ভাবে দুধ খাওয়াতে পারিনা। আমার স্বামী রং মিস্ত্রির কাজ করে, আমার দুটি সন্তান আছে তাদের সাথে মিমকে আমার আপন সন্তান মনে করেই বড় করে তুলার চেষ্টা করছি। কিন্তু মা তো মা...ই। মাঝে মধ্যে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে, তার চেয়ে থাকার দৃশ্য দেখে মনে হয় শিশু মিম মনে হয় তার মাকে খুজছে। মামা মনিরুল ইসলাম বলেন, মিম ভুমিষ্ঠ হওয়ার মাত্র ৪ দিন পর তার মা নাজমা খাতুন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। নাজমাও তার মেয়ের মুখটি দেখতে পারেনি আর মিমও কোন দিন তার মায়ের মুখটি দেখতে পারবে না, এ এক অন্য রকম কষ্ট আর বেদনার। আমরা গরীব মাঠে কাজ করে সংসার চালায়, প্রতিদিন দুধ কিনে ওর মুখে তুলে দেয়া বেজায় কষ্টের। মিম মুলত তার খালার কাছে মানুষ হচ্ছে। কিন্তু তাদেরও আর্থিক অবস্থা ভাল না, সেজন্য মিমকে নিয়ে বাজারে এসেছি তার একটি ফটো তুলে এক জায়গায় আবেদন করবো, দেখি কোন সহযোগীতা পাওয়া যায় কিনা। তিনি বলেন, মিমের মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছোট্ট শিশু মিমের জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেন। সেখান থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে মিমের মায়ের জন্য মিলাদে খরচ করি আর বাকি ১ লাখ টাকা শিশু মিমের নামে ব্যাংকে জমা রেখেছি। ও (মিম) বড় হলে টাকা তুলতে পারবে। সমাজের কোন বৃত্তবান ব্যাক্তি যদি মা হারা অবুঝ শিশু মিমের প্রতি দিনের দুধ কেনার টাকা দিয়ে সহযোগীতা করতেন তাহলে আর কিছু না হোক মিম পেট ভরে একটু খেতে পারতো এমনটিই জানালেন মায়ের স্নেহে মিমকে বড় করে তোলা তার আপন খালা মিনা খাতুন। যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭২৮৪০১১১০ অথবা ০১৯৫৪৫৯১২৫৭ এই নম্বরে।

সংযুক্ত থাকুন