সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১
Logo
চৌগাছায় এনজি’র সুদের চাপে ভালো নেই খড়িঞ্চা বাওড়ের জেলেরা

চৌগাছায় এনজি’র সুদের চাপে ভালো নেই খড়িঞ্চা বাওড়ের জেলেরা

যশোরের চৌগাছার খড়িঞ্চা বাওড়ে কর্মরত জেলেরা খুব ভাল নেই। কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত জাল নৌকা নিয়ে তাদের বাওড়ে চলে বিরামহীন কাজ আর ঘরে ফেরা হয় গভীর রাতে।

 

বছরের পর বছর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও তাদের ভাগ্যের কোন উন্নতি ঘটেনি। সরকার থেকে লিজ নেয়া বাওড়ের বাৎসরিক কর কমানোর জন্য তারা আকুতি জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋন গ্রহনকারী জেলেরা ঋনের সুদ মওকুফের জন্য সংশ্লিষ্ঠদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাঝ বরাবর প্রবাহমান খড়িঞ্চা বাওড়।

 

দেবুলয়, স্বরুপদাহ, বহিলাপোতা, খড়িঞ্চা, মাধাবপুর, সাঞ্চাডাঙ্গা ও দিঘড়ী গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহমান বাওড়ের মোট জলাকার হচ্ছে ২৮১ একর। খড়িঞ্চা মৎস্যজীবি সময়বায় সমিতি লিঃ নামে একটি সমিতি আছে, ১৯৬১ সালের ২৮ মার্চ রেজিষ্ট্র হয়। বাওড় পাড়ের মাধবপুর, দেবুলয় ও খড়িঞ্চা গ্রামের ১৩০ জেলের সমন্বয়ে গঠিত বর্তমান সমিতি।

 

যার অধিকাংশ জেলে বাওড়ে কাজ করেই মুলত জীবিকা নির্বাহ করেন। সরকার থেকে প্রতি ৬ বছর পরপর লিজ নিয়ে জেলেরা বাওড়ে মাছ চাষ করেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, মাছে মড়কসহ নানা কারনে কোন কোন বছরে জেলেদের বিপুল পরিমান টাকা গচ্চা দিতে হয়। গেল ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে নানা কারনে বাওড়ে জেলেদের লোকসান হয় ২৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

 

এই লোকসান সকলে ভাগ করে নিয়ে চলতি অর্থ বছরে লোকসান কাটিয়ে লাভের আশায় পুনরায় মাছ চাষ করেছেন। কিন্তু এ বছরও তাদের বিপুল পরিমান ঘাটতি হবে বলে এখনই মনে করছেন। ঘাটতির অন্যতম কারন হচ্ছে ঘুর্ণিঝড় আম্পান ও মাছে মড়ক। বছরের পর বছর এমন ঘাটতি থাকলেও কোন উপায়ন্তর না থাকায় জেলেরা ওই বাওড়কে তাদের একমাত্র উপার্জনের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

 

বাওড় পাড়ে যেয়ে দেখা যায় প্রচন্ড শীত আর ঘন কুয়াশাকে তোয়াক্কা না করে জেলেরা মাঝ বাওড় থেকে মাছ আহোরন করে ঘাটের দিকে ফিরছেন। ঘাটে নৌকা সারিসারি রেখে নৌকা থেকে মাছ তুলে তা বাজারের জন্য প্রস্তত করা হচ্ছে। এ সময় কথা হয় বাওড়ে কর্মরত জেলে উত্তম কুমার, রনজিৎ কুমার, সুবোল, পরিতোষ, মঙ্গল কুমার, হাজরা, জুগোল, অনন্ত’র সাথে।

 

তারা জানান, বাপ দাদার রেখে যাওয়া পেশাকে আমরা অনেক কষ্টে আগলে রেখেছি। প্রতি বছর বাওড়ে লোকসান হওয়ায় চরম কষ্টে চলে সংসার। তাই সরকার যদি বাওড়ের লিজের টাকা কিছুটা কম করতো তাহলে আমরা বেঁচে যেতাম। এ ছাড়া অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেতে ঋন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ঋনের সুদের টাকা যদি মওকুফ করা হতো তাহলে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে কিছুটা হলেও শান্তিতে বসবাস করতে পারত।

 

সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভরত কুমার বিশ্বাস জানান, ১৯৮৭ সাল হতে তিনি এই বাওড়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমানে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত কয়েক বছরে অব্যহত লোকসানের কারনে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। তিনি জানান, প্রতি বছর লিজ বাবদ সরকরকে ৫৮ লাখ টাকা দিতে হয়।

 

মাছ ও বিভিন্ন খরচ বাবদ প্রতি বছর ১ কোটির উপরে ব্যয়। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না এলে খরচ বাদ দিয়ে কিছু টাকা সকলে পাই। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে শুধুই লচ হচ্ছে। সরকারী কর যদি কিছুটা কমানো হতো তাহলে জেলেদের জন্য খুব ভাল হতো বলে তিনি মনে করছেন। সমিতির সভাপতি লক্ষন চন্দ্র বিশ^াস বলেন, জাল যার জল তার সরকারের এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। খরিঞ্চা বাওড়ের সমিতি এমনকি কর্মরত সকলেই জেলে এটিই আমাদের অহংকার।

 

তিনি বলেন, বাওড়ের ২৮১ একর জলাকারের মধ্যে প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে বছরের বিশর ভাগ সময় জল থাকেনা। অথচ পুরো সম্পত্তির কর আমাদের দিতে হয়। বিষয়টি বিবচনা করে পদক্ষেপ নিলে জেলেরা উপকৃত হতো বলে তিনি মনে করছেন।

সংযুক্ত থাকুন