বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১
Logo
জন্মদাত্রী মাকে দেখা হলোনা : আশ্রয়দাতা মায়ের সাথে পরপারে চলে গেলো আব্দুল্লাহ

জন্মদাত্রী মাকে দেখা হলোনা : আশ্রয়দাতা মায়ের সাথে পরপারে চলে গেলো আব্দুল্লাহ

জন্মদাত্রী মাকে দেখার ইচ্ছে পূরণ হয়নি শিশু আব্দুল্লাহর। এর আগেই না ফেরার দেশে চলে গেল সে। রোববার সকালে আশ্রয়দাতা পরিবারের সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার পথে ফরিদপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় সে। একই সঙ্গে মারা যান তার আশ্রয়দাতা ‘মা’ জোসেদা বেগমও।


মর্মান্তিক এ সড়ক দুর্ঘটনায় তারা ছাড়াও আরও ৭ জন মারা গেছেন। যাদের সবার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে। আব্দুল্লাহ জন্মের পর থেকে মহেশপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তের ভৈরবা বাজারপাড়ার আব্দুর রশিদের স্ত্রী জোসেদার কাছে বড় হয়ে আসছিল।


স্থানীয়রা জানান, পাঁচ ছয় বছর আগে ওই এলাকায় অন্তঃসত্ত্বা এক পাগলি আসেন। কিছুদিন পর পাগলির ঘরে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এর কিছুদিন পর ওই পাগলি এলাকা ছেড়ে চলে যান।


এরপর থেকে জোসেদা বেগম শিশুটিকে লালন পালন করে আসছিলেন। জোসেদা বেগম তার নাম রাখেন আব্দুল্লাহ। ঠিকানাহীন পথশিশু আব্দুল্লাহ বেড়ে উঠছিল সেখানেই।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত জোসেদা বেগমকেও এলাকার সবাই পাগলি বলেই জানে। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভৈরবা বাজারের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। স্বামী আব্দুর রশিদ কখনো ভ্যান চালায়, কখনো কাঠখড়ি কুড়িয়ে বিক্রি করেন।


স্বামীর সামান্য আয় আর অন্যের দেয়া সাহায্যে কোনরকমে চলে তাদের সংসার। আব্দুর রশিদ তার দ্বিতীয় স্বামী। জোসেদার প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর বিয়ে হয় আব্দুর রশিদের সঙ্গে।


তাদের সংসারে আরেক সদস্য আব্দুল্লাহ। যাকে বছর পাঁচ আগে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন জোসেদা। জোসেদার আগের পক্ষে একটি ছেলে সন্তান ছিল। যে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীতে রূপান্তরিত হন।


নাম রাখেন কাজলী। পরে তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের সঙ্গে মিশে বেশ টাকা পয়সা উপার্জন শুরু করেন। সে টাকাতে ঢাকায় কিছু সম্পদ তৈরি করেন।


এছাড়া একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বীমা করেন। গত দুই বছর আগে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় কাজলী। এরপর তার রেখে যাওয়া সম্পদ ও ইন্স্যুরেন্সের টাকা পেতে আদালতে মামলা করেন জোসেদা। সম্প্রতি সেই মামলার সাকসেশন রায় হয়।


ফলে প্রাপ্ত টাকা বুঝে নিতে জোসেদা বেগম স্বামী সন্তান, বাদী-বিবাদীসহ দুই আইনজীবী ও এলাকার কয়েকজন পরিচিত মানুষ নিয়ে রোববার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।


পথিমধ্যে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দিতে পৌঁছালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পাশের একটি ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ট্রাক জ্বালানি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুল্লাহ ও তার পালিত মা জোসেদাসহ মাইক্রোবাসের ৯জন নিহত হন।

সংযুক্ত থাকুন