মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১
Logo
জলাবদ্ধ ভবদহ অঞ্চলের কৃষকরা দেখছে সবুজের স্বপ্ন : শুরু হয়েছে বোরো আবাদ

জলাবদ্ধ ভবদহ অঞ্চলের কৃষকরা দেখছে সবুজের স্বপ্ন : শুরু হয়েছে বোরো আবাদ

ভবদহের আরেক নাম দুঃখ। দুঃখের মুল কারণ জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতার করালগ্রাসে মানুষ যখন দিশেহারা, তখনই শত প্রতিকুলতার মধ্যে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে হাজারো কৃষক।


নিজেস্ব অর্থায়নে ভেড়িবাঁধ তৈরি করে সেচ দিয়ে শুরু করেছে বোরো আবাদ। সবুজে সবুজে ভরে গেছে শত শত একর কৃষি জমি। দীর্ঘ বছর পর কৃষক দেখছে সবুজ স্বপ্নের হাতছানি।


যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানান, ১৯৮৩ সাল থেকে ভবদহ অঞ্চলে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করলেও হয়নি স্থায়ী সমাধান। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তৎকালিন সরকার টিআরএম প্রকল্পের মাধ্যমে অস্থায়ী সমাধান করলেও বর্তমানে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।


যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা জেলার অনেক উপজেলা জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় কৃষিকাজ। বর্তমান সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যার কিছু সমাধান হবে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবদহ অঞ্চলের অন্তর্গত যশোরের অভয়নগর উপজেলার পায়রা, চলিশিয়া, সুন্দলী ও প্রেমবাগ ইউনিয়নবাসী নিজেদের অর্থায়নে ভেড়িবাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে বোরো আবাদ শুরু করেছে।


চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা চাতরা বিল কৃষি ও মৎস্য প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস তরফদার জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে যায় কয়েকটি গ্রামসহ কয়েক হাজার হেক্টর ফসলী জমি। ৯৫৫ হেক্টর জমির মধ্যে ৫শ’ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভেড়িবাঁধ দেয়া হয়। এরপর ২০টি পাম্প বসিয়ে পানি অপসারণের কাজ শুরু করি।


প্রায় একমাস সেচের পর ফেব্রুয়ারিতে বোরো আবাদ শুরু করে কৃষকরা। ৫শ’ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষক এখন সবুজ স্বপ্নে বিভোর। সুন্দলী ইউনিয়নের কৃষক প্রবির কুমার রায় জানান, নিজেস্ব অর্থায়নে সেচের মাধ্যমে ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ শেষ করেছি। সবুজে ভরে উঠেছে গোটা বিল।


পানি উন্নয়নের বোর্ডের অদূরদর্শীতার কারণে প্রতিবছর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ মানবতার জীবন যাপন করছে। প্রেমবাগ ও পায়রা ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, অনেক কষ্ট করে এবার বোরো আবাদ করছি। বিল থেকে পানি সরাতে পাইনি কোন সরকারি সহযোগিতা।


আশা করছি ফসল ঘরে নিতে পারবো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী জানান, অভয়নগর উপজেলায় ২৭ হাজার হেক্টর ফসলী জমির মধ্যে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বাকি জমি এখনও পানির নিচে।


উপজেলার ভবদহ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নের কৃষকরা বোরো আবাদ করেছে নিজেস্ব উদ্যোগে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ও অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল বলেন, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘ দিন আন্দোলন সংগ্রাম করা হচ্ছে।


সরকার কৃর্তক আমডাঙ্গা খাল সংস্কার ও ভবদহ ২১ ভেন্ট স্লইচ গেটে সেচপাম্প বসিয়ে পানি অসারণ করায় অনেক এলাকায় বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। কৃষক হতাশার পরিবর্তে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।


বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবদহ নিয়ে আন্তরিক থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড আন্তরিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

সংযুক্ত থাকুন