মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
Logo
ঝিনাইদহে আলুর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

ঝিনাইদহে আলুর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

আলুর দরপতনে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন ঝিনাইদহের আলু চাষীরা। ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম ভালো হলেও এখন দাম কম হওয়ায় কপালে চিন্তার ভাজ তাদের।

 

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ১ হাজার ৭শ’ ১০ হেক্টর জমিতে গোল আলু আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮’শ ৪৫ হেক্টর জমিতে।

 

এ পরিমান আবাদ থেকে ৪৪ হাজার ৪’শ ৬০ মেট্টিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে। উৎপাদন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় খরচ বেশি হওয়ার কারণে লোকসানের আশংকা করছেন কৃষকরা।

 

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাব্দারপুর ইউনিয়নের লক্ষীকুন্ডু গ্রামের আলু চাষি মতিয়ার রহমান জানান, এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। আলুর বীজ রোপনের ৬৫-৭০ দিনের কাঁচা আলু তোলা শুরু হয়েছে।

 

প্রতি বিঘা জমিতে ৭০-৭৫ মন আলু উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে আলু ৫’শ থেকে সাড়ে ৫’শ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখবেন না বলেও জানান তিনি। একই গ্রামের কৃষক রাশেদ আলী বলেন, আলু যখন লাগাইছি তখন ৩০-৩৫ টাকা কেজি কিনে আলু লাগাইছি। সার, জোন (শ্রমিক), চাষের খরচ বাদ দিলি এখন তো টাকাই থাকচে না।

 

আবার কয়দিন পরে আমরা যখন কিনতি যাবো তখুন দাম ডবল হবে। মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর গ্রামের কৃষক মামুন হোসেন বলেন, আমরা আলুর আবাদ করি। রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। এখনই আলু বিক্রি করে দিতি হচ্ছে। আর ব্যবসায়িকরা সেই আলু রেখে দিয়ে কয়দিন পর ডবল, তিন ডবল দামে বিক্রি করবে।

 

কষ্ট করি আমরা আর লাভ করে উরা। আমাগের যদি আলু রাখার ব্যবস্তা করতো সরকার তাহলি আমরা একটু লাভ করতি পারতাম। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, আলুর উৎপাদনে কৃষকদের প্রযুক্তিগতসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করা হয়েছে।

 

আবহাওয়া ভালো আর পরিমিত পরিচর্যার কারণে ফলনও এ বছর ভালো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আলুর দাম কম হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবস্থা উন্নত করা উচিত। কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্য পায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

সংযুক্ত থাকুন