বুধবার, ১২ মে ২০২১
Logo
ঝিনাইদহে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

ঝিনাইদহে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক

ঝিনাইদহে বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। পুব আকাশে সুর্যের দেখা মেলার আগেই কাস্তে হাতে মাঠে ছুঠছেন তারা। প্রচন্ড রোদ আর তাপদাহ উপেক্ষা করেই জমি থেকে কষ্টের ফসল ঘরে তোলার ব্যস্ততা তাদের। এবছর ফলন আর দাম ভালো পেয়ে খুশি তারা।

 

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৬ উপজেলায় ৮০ হাজার ২’শ ৪০ হেক্টর জমিতে বেরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবার কৃষক, ৬৩, সুবললতা, বাসমতিসহ নানা ধানের আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনূকুলে থাকা আর পরিমিত পরিচর্যার কারণে এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষকেরা। এখন মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ি তুলতে পারলেই লাঘব হবে সব কষ্ট।

 

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের ধান চাষী লাল্টু মিয়া বলেন, আমি ২ বিঘে জমিতে সুবল লতা ধানা লাগাইছিলাম। আজ ধান কাটছি। এবার পানি খরচ একটু বেশি হইয়েচে। তারপরও ফলন ভালো। ৩৩ শতকের বিঘেই আমার ২৫ মন হারে ফলন হবে। তাতে আমার এবার ভালোই লাভ হচ্ছে।

 

একই এলাকার কৃষক বিশারত আলী বলেন, আমি সুবললতা ধান লাগাইচি। এর মধ্যি ১ বিঘে জমির ধান বাড়িতি নিয়ে গিয়ে মাড়াই করিচি। আমার ২৪ মন হারে ফলন হয়চে। এবার মনে করেন পানি খরচ, জন (শ্রমিক) খরচ একটি বেশি লাগেছে। তারপরও বাজারে ধানের দাম এখুন মোটামুটি ভালো। তাই আমাগের পুষায়ে যাচ্ছে। এর চাইতে যদি দাম কমে যায় তাহলে আমাদের লস হবে।

 

সদর উপজেলার বাড়ীবাথান গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, আমি এবার ৬৩ জাতের ধানের আবাদ করিচি। ধানের জমিতে চাষ দেওয়া, লাগানো, সেচ, সার, ধান কাটা, বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে সব্বোর্চ ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা এবার খরচ হয়েছে। ৬৩ জাতের ধান বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ মন হারে ফলন হয়েছে। এখন যে বাজার দর এক মন ধান ১ হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। তাদের ধান বেচলে ৩৫ হাজার টাকা হবে। ধানে লাভ হচ্ছে ১০ হাজার। আর ধানের যে বিচালী আছে তার দাম মনে করেন ৯ হাজার টাকা। মোটামুটি এবার ধান চাষ করে কৃষক লাভবান হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আজগর আলী বলেন, কয়েকদিন পর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলে তা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। আর শুরু থেকে কৃষক যেন ফলন ভালো পায় এজন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের নানা প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন