মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
Logo
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়নে ৪ হাজার ১শ’ ৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়নে ৪ হাজার ১শ’ ৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

যশোরের সাথে ঝিনাইদহের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তণ

যশোরের সাথে ঝিনাইদহের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এবার বৈপ্লবিক পরিবর্তণ আসছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঝিনাইদহ-যশোর মহসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উইকেয়ার ফেজ-১, (এন-৭) উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটি মঙ্গলবার একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘উইকেয়ার ফেজ-১: ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন’ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকা।

তার মধ্যে সরকার দেবে এক হাজার ৪৮২ কোটি পাঁচ লাখ এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে দুই হাজার ৭০৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এদিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৭০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা খরচে সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তার মধ্যে সরকার দেবে ছয় হাজার ৪৫৯ কোটি ২৭ লাখ এবং বিদেশি ঋণ চার হাজার ২৪২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী/সচিবরা একনেক সভায় অংশ নেন।

একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশন বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং পরিকল্পনা কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে জানা যায়, ওয়েস্টার্ণ ইকনোমিক করিডোর এন্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট (উইকেয়ার) প্রোগ্রামের আওতায় ২০২০ সালের ২৭ মে ৫০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় হয়েছে।

এই ঋণের মধ্যে ৩১৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে এবং বাকী ১৮১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার এলজিইডির সড়ক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারণ-যশোর-ঝিনাইদহ-বনপাড়া-হাটিকামরুল এলাইনমেন্টটি ওয়েস্টার্ন ইকনোমিক করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার মোট দৈর্ঘ্য ২৬০ কিলোমিটার। ওয়েস্টার্ন ইকনোমিক করিডর এন্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তায় ২৬০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ করিডোর উন্নয়ন করা হবে।

করিডরটিকে মোট ৪টি অংশে ভাগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারণ ৫৮ কিলোমিটার, যশোর-ঝিনাইদহ ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ৬৬ কিলোমিটার ও কুষ্টিয়া-বনপাড়া-হাটিকুমরুল ৮৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এই ৪টি অংশের মধ্যে ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারণ ও যশোর-ঝিনাইদহ অংশ উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক এবং ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও কুষ্টিয়া-বনপাড়া-হাটিকুমরুল অংশ উন্নয়নে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ সহায়তা দেবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সদস্য শামীমা নার্গীস বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওয়েস্টার্ন ইকনোমিক করিডোরের ২৬০ কিলোমিটারের মধ্যে ঝিনাইদহ-যশোর অংশের ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনে উন্নীত করা হবে।

পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অবশিষ্ট অংশগুলো উন্নয়ন সহজ হবে। এছাড়া দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বেনাপোল, ভোমরা স্থলবন্দর ও মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং এশিয়ান হাইওয়ে, সার্ক হাইওয়ে করিডোর, বিমসটেক রোড করিডোর ও সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকনোমিক কো-অপারেশন (সাসেক) রোড করিডোরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।

সংযুক্ত থাকুন