রবিবার, ১৩ জুন ২০২১
Logo
ডুমুরিয়ায় প্রবাহমান খালে নেট-পাটা দিয়ে পানি প্রবাহে বাঁধা : মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান

ডুমুরিয়ায় প্রবাহমান খালে নেট-পাটা দিয়ে পানি প্রবাহে বাঁধা : মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান

খুলনার ডুমুরিয়ার আড়োদোয়ানিয়া খালে বাঁধ দিয়ে রাস্তা তৈরি, নেট-পাটা দিয়ে মাছ ধরায় জোয়ারের পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ করায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার পরিচালিত বিশেষ অভিযানে পাইপ, নেট-পাটা ও অন্যান সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা আঁড়োদোয়ানিয়া খালে এক প্লট ব্যবস্যায়ী বাঁধ দিয়ে রাস্তা তৈরির জন্য বড় গাছ, বেড়া, বাঁশ দিয়ে বাঁধ দেয়। তারা প্রায় ১শত মিটার এলাকার দুই প্রান্তে বাঁধ দিয়ে বালি ভরাট করছিল। এছাড়া প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা ওই খালের বিভিন্ন স্থানে নেট-পাটা দিয়ে চারো ও ঘুগনি দিয়ে মাছ ধরছিল, এতে জোয়ারের পানি বাঁধাগ্রস্ত হয়ে পলি পড়ে খাল ভরাট হতে থাকে। স্থানীয় এলাকাবাসী এর প্রতিকার চেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মৎস্য অফিসারের নিকট আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর বাঁধ ও নেট পাটা উচ্ছেদ করে জোয়ারের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের প্রথমদিনে প্রায় ৩০টির মত স্থানে দেয়া নেট-পাটা উচ্ছেদ করা হয়।


এছাড়া আবাসিক প্লট বিক্রেতার দেয়া ১ শত মিটার বাঁধ অপসারন করে। এ সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবদুল ওয়াদুদ নেট-পাটা, বাঁশ, পাইপ ও স্যালো মেশিন জব্দের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ি উচ্ছেদকৃত মালামাল উপজেলা মৎস্য অফিসারের দপ্তর জব্দ করে। অভিযান কালে ডুমুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো: রেজাউল করিম সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলামসহ থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিল। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, প্রবাহমান খালে নেট-পাটা দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ন বেআইনী। তাছাড়া বাঁধ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা দন্ডনীয়। জোয়ারের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বাঁধ ও নেট পাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে।


এ অভিযান চলমান থাকবে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো: আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে প্রবাহমান খালে কোনরুপ বাঁধ দেযা যাবে না। তাছাড়া কৃষি জমি ভরাট করে আবাসন প্লট করা দ-নীয় অপরাধ। অভিযান কালে কাউকে পাওয়া যায়নি তাই আর্থিক দন্ড দেয়া সম্ভব হয়নি, তবে নেট-পাটা ও পাইপসহ অন্যান্য মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

সংযুক্ত থাকুন