রবিবার, ১৩ জুন ২০২১
Logo
দৈনিক নওয়াপাড়ায় নদী বন্দরের সীমানা পিলারের খবরে তোলপাড় : ৪ জনকে নোটিশ

দৈনিক নওয়াপাড়ায় নদী বন্দরের সীমানা পিলারের খবরে তোলপাড় : ৪ জনকে নোটিশ

বৃহস্পতিবার দৈনিক নওয়াপাড়ার প্রধান শিরোনামে প্রকাশিত ‘নওয়াপাড়া নদী বন্দরের সীমানা পিলার হাওয়া : বাড়ছে জটিলতা : সীমানা নিয়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি : রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা : সীমানা পিলার চেয়ে চিঠি লিখেছি- দ্রুত এ জটিলতার নিরসন হবে : দাবি বন্দর কর্মকর্তার’ বন্দর সীমানা সংক্রান্ত এ সংবাদে বিআইডব্লিউটিএসহ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।


সেই সাথে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে নওয়াপাড়া নদী বন্দরের তীরবর্তী স্থলভাগ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিন দুপুরে নওয়াপাড়া নদী বন্দরে সদ্য যোগদানকারী সহকারী পরিচালক (বওপ) মোঃ ফরিদুল ইসলাম বন্দরের তীরবর্তী স্থলভাগ দখল করে নির্মাণ কাজ না চালাতে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন। সেই সাথে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে চারজনকে লিখিত নোটিশ প্রদান করেছেন।

 

অবশ্য এর মধ্যে নদীর তীরবর্তী স্থলভাগ (বিআইডব্লিউটিএ এর লাইসেন্স প্রদানকৃত ঘাট) দখল করে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টাকারী একজন নদী বন্দর কর্মকর্তার এ নোটিশ গ্রহন করেননি বলে বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।

 

নওয়াপাড়া নদী বন্দর অফিস সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার নওয়াপাড়া নদী বন্দরের সহকারী পরিচালকের দপ্তরের প্যাডে ১৮.১১.৪১০৪.০৭৬.৯৯.০০৮.১৫/৫৭৭ নম্বর স্মারকে নওয়াপাড়া বাজার কাপড়পট্টির মজিদ মন্ডলের ছেলে মিজা মন্ডলকে, ১৮.১১.৪১০৪.০৭৬.৯৯.০০৮.১৫/৫৭৬ নম্বর স্মারকে একই এলাকার মৃত- সামচু মন্ডলের ছেলে মোঃ ইমাম মন্ডল ও বাবুল মন্ডলকে, ১৮.১১.৪১০৪.০৭৬.৯৯.০০৮.১৫/৫৭৮ নম্বর স্মারকে নওয়াপাড়া বাজারের সুপারী পট্টির মৃত- সামসুদ্দিনের ছেলে মোঃ সালাউদ্দিনকে ও ১৮.১১.৪১০৪.০৭৬.৯৯.০০৮.১৫/৫৭৫ নম্বর স্মারকে সুপারী পট্টির মোঃ নুরুল ইসলাম মোল্যাকে এ নোটিশ প্রদান করেন।

 

অভিযোগ রয়েছে সুপারী পট্টির নুরুল ইসলাম মোল্যা নদী বন্দর কর্মকর্তার এ নোটিশ গ্রহন করেননি। নোটিশ গ্রহন না করা মোঃ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মোঃ নুরুল ইসলাম নদী বন্দরের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভৈরব নদীর ফোরশোর ভুমিতে বিআইডব্লিটিএ বর্তৃক মোসার্স কনা এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ১০ শতাংশ লাইসেন্সকৃত ফোশোর ভুমিতে অবৈধভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন- যা বেআইনি এবং বন্দর আইন ১৯০৮ ও ১৯৬৬ এর বিধিমালার পরিপন্থি। অতএব নোটিশ প্রাপ্তির সাথে সাথে তাকে উক্তস্থানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। একইভাবে মোঃ মিজা মন্ডল, মোঃ ইমাম মন্ডল ও মোঃ বাবলু মন্ডলের বিরুদ্ধে নোটিশে ভৈরব নদীর ফোরশোর ভুমিতে অবৈধভাবে পাকাস্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ এনে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে মোঃ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফোরশোর ভূমিতে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ এনে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।


এদিকে অভিযোগ রয়েছে নওয়াপাড়া নদী বন্দরের মহাকাল থেকে রাজঘাট পর্যন্ত ভৈরব নদীর তীরভুমি তথা বন্দরের ফোরশোর ভুমি থেকে সীমানা পিলার উধাও করে একশ্রেণীর প্রভাবশালীরা বন্দরের জায়গা দখল করে অসংখ্য পাকাস্থাপনা ও বহুতল ভবন গড়ে তুলেছে। তারা বছরের পর বছর ফোরশোর ভুমি দখল করে অবৈধস্থাপনা নির্মাণ করে রাখলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।


ফলে স্থানীয়দের মাঝে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও নওয়াপাড়া নদী বন্দরের সদ্য যোগদানকারী সহকারী পরিচালক দাবি করেছেন সীমানা পিলার আসলে এবং বিআইডব্লিউটিএ এর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে নওয়াপাড়া নদী বন্দরের সীমানা পূণঃনির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনে উচ্ছেদ করতে তিনি কাজ করবেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি ইতিমধ্যে সীমানা পিলার চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছেন।

সংযুক্ত থাকুন