বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
Logo
দৈনিক নওয়াপাড়া সংবাদ প্রকাশ

দৈনিক নওয়াপাড়া সংবাদ প্রকাশ

ফিরোজার মুখে হাঁসি ফোটাতে ঘরের টিন নিয়ে হাজির বিপুল

স্বামীর মৃত্যুর পর মাথা গোজার ঠাই না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন ফিরোজা। ঘরের ছাউনির জন্য অনেকের কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে কাজ হয়নি।

 

গত বুধবার দৈনিক নওয়াপাড়াসহ স্থানীয় সংবাদপত্রে বিধবা ফিরোজার ঘরের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ফিরোজার অসহায়ত্বের খবর পেয়ে টিন নিয়ে ছুটে আসেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজি। গতকাল শনিবার সকালে রায়পুর ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া গ্রামে সাড়ে ৬ বান্ডিল টিন নিয়ে হাজির হন বিপুল ফারাজি।

 

ভ্যানে টিন দেখে আত্মহারা হয়ে যান ফিরোজা। মাথা গোজার ঠাঁই হবে ভেবেই তার চোখ ছলছল করে। আর যে তাকে বাপের বাড়িতে থাকতে হবেনা। ছেলে মেয়েকে নিয়ে কষ্ট করতে হবেনা। চোখের সামনে স্বপ্ন পূরন হচ্ছে। ছোট্ট মেয়েকে কোলে নিয়ে এগিয়ে আসেন টিনের ভ্যানের পাশে। টিন পেয়ে ফিরোজা বেগম বলেন, বাপ হারা আমার সন্তান দুটোর মাথা গোজার ঠাই ছিলোনা।

 

আজ বিপুল ফারাজির কাছ থেকে আমি ঘরের টিন পেয়ে অনেক আনন্দিত। এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী বলেন, আমি সংবাদপত্রের মাধ্যমে ফিরোজা বেগমের অসহায়ত্বের খবর জানতে পারি। আল্লাহ আমাকে মানুষের পাশে দাড়ানোর তৌফিক দিয়েছে। আগামীতে যেন আরও মানুষের দাড়াতে পারি। প্রসঙ্গত ফিরোজা বেগম যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাতুয়াড়ী গ্রামের মৃত ওবায়দুলের স্ত্রী। তিনি একই গ্রামের দ্বীন আলীর মেয়ে।

 

তিন মাস আগে স্বামীর কন্ঠনালীতে ধরা পড়ে ক্যন্সার। ধার-দেনা করে তাঁর চিকিৎসা করেও বাঁচানো যাইনি স্বামী ওবায়দুলকে। ছেলে মেহেদি দশম শ্রেণীতে পড়ে ও মেয়ে মাহমুদার বয়স দুই বছর। সংসার চালাতে এসএসসি পরিক্ষার্থী মেহেদিও ‘রাজমিস্ত্রীর জোগালে’ কাজ শুরু করেছে। তারপর থেকে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।

সংযুক্ত থাকুন