মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১
Logo

নওয়াপাড়া নদী বন্দরে বিআইডব্লিউটিএ এর চরম উদাসীনতা

ভেঙ্গে পড়ছে পল্টুন - বিলীন হচ্ছে জেটি : যে যার মতো খুলে নিচ্ছে পিলারসহ কাঠ : জানেন না বিআইডাব্লিউটিএ কর্মকর্তা :জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে।
নওয়াপাড়া নদী বন্দর দেশের প্রথম শ্রেণীর অন্যতম নদী বন্দর। এ নদী বন্দর থেকে সরকার যেমন প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে তেমনি বন্দর আধুনিকায়নে ও নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে সরকার কোটি-কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার উদাসীনতায় ও নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সরকারের কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় হচ্ছেনা।
 
সেই সাথে ব্যবসায়ীরাও পাচ্ছেনা প্রকৃত বন্দরের সুবিধা। অপরদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছে অভয়নগর-নওয়াপাড়া পৌর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের হাজার হাজার শ্রমিক। হাতে গোনা দু/চারজন অসাধু ব্যবসায়ীকে বিশেষ কায়দায় সুবিধা দিতে যেয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা গোটা বন্দরের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ। ফলে দিন দিন বন্দর তার সৌন্ধর্য হারাতে বসেছে।
 
সেই সাথে ধূকে ধূকে মরতে বসেছে যশোরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার প্রাণ ভৈরব নদী। ব্যবসায়ী, স্থানীয় সচেতন মহল ও হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা অভিযোগ তুলেছেন, বিআইডব্লিউটিএ এর উদাসীনতায় সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নওয়াপাড়া নদী বন্দরে নির্মিত জেটি গুলো ভেঙ্গে চুরে বিলীন হয়ে পড়ছে। প্রকাশ্যে যে যার মতো খুলে নিয়ে যাচ্ছে পল্টুনের কাঠ ও পিলার।
 
ইতিমধ্যে এ বন্দরে বিআইডব্লিউটিএ এর অর্থায়নে নির্মিত নয়টি জেটির ৪টি সম্পূর্ণ রূপে বিলীন হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে কোন জেটি ছিলো। আর বাকি পাঁচটি জেটিও ভেঙ্গে চুরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খুলে পড়ছে পল্টুন। যে যার ইচ্ছেমত নিয়ে যাচ্ছে ভেঙ্গে পড়া জেটির যন্ত্রাংশ।
 
বর্তমানে এ পাঁচটি জেটি কেবল তাদের নিজেদের ধ্বংসাবশেষের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। আর এসব ভেঙ্গে অকেজো হয়ে পড়া জেটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোড-আনলোডের কাজ করছে হাজার হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক।
 
প্রায়ই এসকল জেটিতে কাজ করতে যেয়ে তারা দূর্ঘটনারও শিকার হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের নুন্যতম কোন মাথা ব্যাথা নেই। এমনকি বন্দর কর্তা এ পল্টুনগুলোর বেহাল অবস্থার কথা জানেনই না।

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন

সংযুক্ত থাকুন