বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
নওয়াপাড়ায় গ্রাহকের ৪ কোটি টাকা অত্মসাৎ করায় সেবকের কর্মকর্তার বাড়ি ঘেরাও।

নওয়াপাড়ায় গ্রাহকের ৪ কোটি টাকা অত্মসাৎ করায় সেবকের কর্মকর্তার বাড়ি ঘেরাও।

নওয়াপাড়ায় সেবক মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটি নামের একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের সঞ্চয়কৃত ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি সমবায়ের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সাধারণ গ্রহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বড় ধরনের প্রতারণা করেছে বলে গ্রাহকরা দাবি করেছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে সেবকের সদস্য হয়। তাদের বিশ্বাস ছিলো ইমামদের মাধ্যমে নিশ্চিন্তে তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাথে প্রতারণা করে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে নওয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কর্মকর্তাদের নিজেদের নামে জমি কিনে অভিযাৎ মার্কেট নির্মাণ করে আত্মসাৎ করেছে। বছরের পর বছর ধরে তারা কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিলেও তাদের সাথে ছলচাতুরি করে আসছে। সর্বশেষ ওই জমিতে একটি ডিভলপার কোম্পানীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি ডিভলপার কোম্পানীর অংশ বাদে অবশিষ্ট অংশ বিক্রি করে তাদের সঞ্চয়কৃত অর্থ পরিশোধ করবে বলে গ্রহকদের ভুল বুঝিয়েছে। [embed]https://www.youtube.com/watch?v=M_Bb53TcyhA[/embed]   কিন্তু সম্প্রতি সেবকের অভয়নগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান মিলনের নেতৃত্বে ওই সম্পত্তি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দেয়ার পায়তারা করছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। আর এখবরে ভুক্তভোগীরা তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত পেতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই সাথে তারা গতকাল বুধবার বিকালে নওয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেবকের অফিস ঘেরাও করে। এসময় অফিসে কোন কর্মকর্তাকে না পেয়ে তারা পৌরসভার প্রফেসরপাড়া এলাকায় সেবকের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে। জানা যায়, সেবকের জমাকৃত টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত নামে নওয়াপাড়া বাজার, তালতলা বাজার ও যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমি ক্রয় করে কর্মকর্তারা। গ্রাহকেরা বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা ফেরত চায়। সেবকের কর্মকর্তারা সেই জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে সেবকের নওয়াপাড়া বাজারের একটি জমিতে ডেভালপার কোম্পানীর দ্বারা দ্বি-তল ভবন নির্মান করা হয়েছে। যার ৫তলা ভিত্তি সহ দ্বিতল ভবনের অর্ধেক ডেভালপার কোম্পানীর নামে হস্তান্তর হয়েছে। ওই সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে কর্মকর্তারা। এ ধরণের কর্মকান্ডে বিক্ষুব্ধ হয়ে গ্রহাকেরা সেবকের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে। মোস্তাফিজুর রহমানকে বাড়ি না পেয়ে বিক্ষুব্ধ পুরুষ গ্রাহকেরা বাড়ির সামনে অবস্থান নেয় ও মহিলা গ্রাহকেরা মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ির ভিতরে অবস্থান করে। মহিলা গ্রাহকদের সাথে এ অবস্থানের ব্যাপারে কথা বললে মহিলা গ্রাহকেরা জানান, তারা বিভিন্ন মিল-কলকারখানায় কাজ করে তাদের অর্জিত অর্থ মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রদান করে। সেই অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরবেন না বলে জানান। এছাড়া উপজেলার বাগদাহ গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেবকের মহিলা গ্রাহক নাসরিন খাতুন জানান, তিনি সেবকের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। তিনি টাকা নিয়ে বাড়িতে না ফিরলে স্বামীর সাথে তার ঝগড়া লাগতে পারে। জেজেআই মিলস্ এলাকার মহিলা গ্রাহক সাদিয়া জানান, সেবকের বিভিন্ন প্রলোভনে জমি বিক্রি করে ২৯ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা না করে সেবকের আয়ত্তে রাখে। পরে ৩ বছরের মুনাফা সহ ফেরতের আশ্বাস দেয়। যা বিগত ৫ বছর অতিবাহিত হলেও ২৯ লক্ষ টাকা ফেরত দেয় নি। পুরুষ গ্রাহক ফারুক হোসেন জানান, তিনি এককালিন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সেবকের সঞ্চয়ী পত্রে ৩ বছরের মেয়াদে জমা করেন। ৫ বছর অতিবাহিত হলেও তিনি কোন অর্থ পেরত পায় নি। তিনি অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে দপ্তরগুলোর প্রতি সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে কথা বলতে সেবকের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

সংযুক্ত থাকুন