সোমবার, ২১ জুন ২০২১
Logo
নওয়াপাড়ায় প্রতারক বাপ-বেটার খপ্পরে পড়ে ব্যাবসায়ী ফতুর

নওয়াপাড়ায় প্রতারক বাপ-বেটার খপ্পরে পড়ে ব্যাবসায়ী ফতুর

পাঁচ বছর পর দৈনিক নওয়াপাড়ায় প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের সত্যতা মিলেছে

নওয়াপাড়ায় প্রতারক বাপ-বেটার প্রতারণার শিকার হয়ে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে পথে পথে ঘুরছেন। অর্থ সম্পদ হারিয়ে ফতুর হয়ে গেলেও নিজের সম্মান ধরে রাখতে তিনি বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ করে চলেছেন। এবং এক পর্যায়ে ওই বাপ-বেটার প্রতারণার গোমর ফাঁস করতেও সক্ষম হয়েছেন।


অসহায় ওই ব্যবসায়ীর নাম আমিনুর রহমান। অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও তার ছেলে নওয়াপাড়া এশিয়া কম্পিউটার এ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদের সাথে পরিচয় হওয়ার আগে ব্যবসায়ী আমিনুর কোনদিন থানায় গিয়েছেন এমন নজির পাওয়া যায়নি। অথচ এই বাপ-বেটার খপ্পরে পড়ে সে থানা-পুলিশ, এসপি, ডিআইজি থেকে শুরু করে স্থানীয় আদালতের বারান্দা ঘুরে হাইকোর্ট পর্যন্ত চিনে এসেছেন।


একাধিক মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি পাগলের মতো ছুটে বেড়িয়েছেন পথে পথে। যা গত পাঁচ বছর আগে দৈনিক নওয়াপাড়ায় ধারাবহিক প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছিলো। তখন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় যেয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে প্রকাশিত প্রতিবেদন মিথ্যা দাবি করে। অথচ পাঁচ বছর পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলেছে। প্রশাসনের একাধিক তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগসমূহের সত্যতা পেয়েছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।


আর এসব খবর জানার পর নওয়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষ আবুল কালাম আজাদ ও তার ছেলে নূর মোহাম্মদ সম্পর্কে মন্তব্য করছেন, ‘ তারা বাপ-বেটা চারশ’ বিশ। গত ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দৈনিক নওয়াপাড়ায় ওই বাপ বেটার নানা অপকর্ম নিয়ে ‘ অবসরে যেয়ে পুলিশ যখন সুদখোর’ শিরোণামে নয়টি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল সোমবার প্রথম পাতায় শিরোনম হন “ সুদের খপ্পরে পড়ে ২০ শতক জমি হারিয়ে অভয়নগরের আমিনুর এখন পাগল প্রায়; ২ লাখ ২০ হাজার টাকার জন্য লিখে নেয়া হয়েছে ব্যংকের বন্ধকী জমি : স্বাক্ষর জাল করে দলিল ও নাম পত্তনের অভিযোগ।” ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার শিরোণাম হন “সুদের গ্যাড়াকলে পড়ে আমিনুর এখন নাশকতা ও মানবপাচার মামলার আসামী।” ১৩ এপ্রিল বুধবার শিরোনাম হন “ বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল : বিপাকে পড়েছে দলিলে স্বাক্ষরকারী স্বাক্ষীরা।” ১৬ এপ্রিল শনিবার শিরোণাম হন “ দলিল লেখেননি মুক্তিযোদ্ধা আকবর : জমি রেজিস্ট্রি ও নামপত্তন নিয়ে নানা প্রশ্ন; জাল জালিয়াতির উদ্দেশ্যেই অন্য কেউ দলিলটি লিখে আকবারের নাম ব্যবহার করেছে বললেন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বুলবুল।” ১৭ এপ্রিল রবিবার শিরোনাম হন, “ অসহায় আমিনুরের উপর এবার ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের খডগ : বাপের দেখানো পথে হাটছে ছেলে : জমি আত্মসাতের পর এবার চেক ডিজঅনার মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত”।” ১৮ এপ্রিল সোমবার শিরোনাম হন “ আদালতে দেয়া বক্তব্যেআবুল কালামের ঢালাও মিথ্যাচার : দৈনিক নওয়াপাড়ার অনুসন্ধান।” ১৯ এপ্রিল মঙ্গলবার শিরোনাম হন “ ২০ লাখ টাকার ৬৮৬৭৩৯৮ নম্বর চেকটি নিয়ে ধু¤্রজাল : ব্লাইং চেক কিনতে আবুল কালামের বিভিন্ন সমিতিতে র্ধণা।” ২০ এপ্রিল বুধবার শিরোনাম হন, “ কতো টাকার মালিক আবুল কালাম ও তার ছেলে মোহাম্মদ ?


অমিনুরের মতো বেকায়দায় আরও অনেকে।” ২১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শিরোনাম হন “ এবার বাড়িওয়ালার উপর চোখ পাল্টি : রাতের ঘুম হারাম হয়েছে জয়নালের পরিবারের।” অভিযোগ রয়েছে, অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও তার ছেলে নূর মোহাম্মদ এর নিকট থেকে ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী স-৯৬২১৩৬৭, স-৯৬২১৩৬৮, স-৯৬২১৩৬৯ নম্বর ব্লাক স্ট্যাম্প ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৬৮৬৭৩৯৮ নম্বর ব্লাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করে ২৪ হাজার টাকা করে ১৮ টি কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করেন ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। সে এগার কিস্তিতে দুই লাখ চৌষট্টি হাজার টাকা পরিশোধ করে।


পরবর্তীতে ব্যবসা মন্দা হওয়ায় টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় ঘটে বিপত্তি। আর এই সুযোগে প্রতারক বাবা-ছেলে ব্লাঙ্ক স্টাম্পও ব্লাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা ও ২০ লাখ টাকা মোট ত্রিশ লাখ টাকার ব্যবসায়ীক চুক্তি করে আদালতে মামলা করে। এবং আমিনুরের ব্যাংকে মটগেজকৃত জমি জাল দলিলের মাধ্যমে লিখে নেয় ও স্থানীয় ভুমি অফিসকে উপরির বিনিময়ে ম্যানেজ করে নামপত্তন করিয়ে নেয়। তাতেও খ্যান্ত না হয়ে তার নামে নাশকতা ও মানবপাচার মামলা দেয়।


এছাড়া পুলিশের হেডকোয়ার্টারসসহ ডিআইজি, এসপি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। দীর্ঘ ৬/৭ বছরের পথে পথে ঘুরে ব্যবসায়ীকভাবে দেউলিয়া হয়েও হাল ছাড়েনা আমিনুর।


একে একে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন ব্রাঞ্চের তদন্তে ও ফরেনসিক রিপোর্টে উক্ত স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে এছাড়া তাদের আরও বহু অপকর্মের গোমর ফাঁস হয়েছে যা ধারাবাহিকভাবে দৈনিক নওয়াপাড়ায় প্রকাশিত হবে।

সংযুক্ত থাকুন