মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
Logo
নওয়াপাড়ায় বাপ-বেটার প্রতারণা ও জালিয়াতি বেরিয়ে এসেছে পিবিআই এর তদন্তে

নওয়াপাড়ায় বাপ-বেটার প্রতারণা ও জালিয়াতি বেরিয়ে এসেছে পিবিআই এর তদন্তে

টিপ ও স্বাক্ষরের মিল পায়নি সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগ

নওয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত সেই পুলিশ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও তার ছেলে নূর মোহাম্মাদের প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে নিঃস্ব করার নানা অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে এসেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তে।


স্থানীয় ভুমি অফিসকে বিশেষ কায়দায় ম্যানেজ করে ভূয়া স্বাক্ষর ও টিপসহির মাধ্যমে জাল দলিল করে এবং পরবর্তীতে মোটা টাকার বিনিময়ে ওই জাল দলিল বুনিয়াদে নিজের নামে জমির নাম পত্তন করিয়ে নিয়ে ব্যাংকে বন্ধকীকৃত জমি আত্মসাতের অভিযোগেরও সত্যতা মিলেছে।


পিবিআই এক্ষেত্রে পাঠ পর্যায় থেকে তদন্ত শুরু করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে যাবতীয় স্বাক্ষর ও টিপসহি পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে ওই প্রতারকদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


এছাড়া স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া চেক তৈরি করে ডিজঅনার মামলা দেয়া হয়েছে মর্মেও উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। আর ওই নিরীহ ব্যবসায়ীকে শায়েস্তা করতে শেষ পর্যন্ত নোংরামীর চরম সীমায় নেমে তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও মানবপাচার মামলা দায়ের করতেও পিছপা হয়নি সুদে কারবারি আবুল কালাম আজাদ। গত ৩ মার্চ, ২০২১ তাং এ সূত্র ঃ সিআর মামলা নং-২৬১/২০২০, অভয়নগর, তারিখ ঃ ২৯/০৭/২০২০ ইং, ধারা-৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ পিসি আদালতের স্মারক নং-৪৬৪, তাং ২৯/০৭/২০২০ ইং অনুযায়ী মামলাটির তদন্ত করেন পিবিআই যশোরের পুলিশ পরিদর্শক একেএম ফারুক হোসেন।


মামলার বাদী ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান অভিযোগ করেন বিবাদী আবুল কালাম আজাদ, নূর মোহাম্মদ, আলমগীর সরদার, দলিল লেখক রাজু আহম্মেদ যোগসাজসে নওয়াপাড়ার ধোপাদী মৌজায় ৩৩৯৭/১২ নং দলিল মূলে ২০শতক জমি ক্রয় করেন। এবং অভয়নগর সহকারী কমিশনার ভুমি কার্যালয় হতে নাম পত্তন করেন।


পরবর্তীতে ওই জমি তিনি ব্রাক ব্যাংকে বন্ধক রাখেন। কিন্তু ধুরন্ধর আবুল কালাম তার স্বাক্ষর ও টিপসহি জালিয়াতি করে উক্ত জমির ভুয়া দলিল করেন। এবং স্খানীয় ভুমি অফিসে মোটা টাকার বিনিময়ে নাম পত্তন করেন।


পিবিআই হেড কোয়ার্টার্স ঢাকার স্মারক নং- পিবিআই/মামলা/২০২০/১৮৯৫/সিআরও(পশ্চিম), তাং-১২-০৮-২০২০ খ্যিঃ মূলে মামলাটির তদন্তের অনুমোদন দেন। আর এর পরই মামলার তদন্তে মাঠে নামেন তদন্তকারী কর্মকর্তা একেএমফারুক হোসেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এবং স্বাক্ষর ও টিপসহি সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।


তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্তকর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বিবাদী মোঃ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ দন্ডবিধি আইনের ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারার অপরাধের সপক্ষে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।


এছাড়া বিবাদী নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ দন্ডবিধি আইনের ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯/ধারার অপরাধের সপক্ষ্যে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তকর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, বিবাদী আলমগীর সরদার ও রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ দঃবিঃ আইনের ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারার অপরাধের সপক্ষে প্রমাণ মিলেছে।

সংযুক্ত থাকুন