বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
নওয়াপাড়ায় মহাসড়ক-রেলওয়ে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় কয়লা রাখা যাবেনা - যশোর ডি সি

নওয়াপাড়ায় মহাসড়ক-রেলওয়ে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় কয়লা রাখা যাবেনা - যশোর ডি সি

দেশের বৃহত্তম বাণিজ্য, শিল্প ও বন্দর নগর নওয়াপাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ভুমিকা রেখে আসছে। প্রতিদিন এ বন্দর এলাকা থেকে হাজার হাজার ট্রাকযোগে সার, কয়লা, গম, ধান, চাউল সহ বিভিন্ন পণ্য লোড-আনলোড হয়ে থাকে। গত দুই বছর নওয়াপাড়া বন্দর এলাকা জনমানুষের নন্দিত মোকাম হলেও এখন স্তুপ আকার কয়লা রাখনে কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ায় নিন্দিত হচ্ছে নওয়াপাড়া বন্দর। বর্তমানে যশোর জেলার অন্যতম বড় ব্যবসায়ী মোকাম নওয়াপাড়ায় কয়লার ডাস্ট বাতাসের সাথে মিশে সাধারণ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের নালিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। জনমানুষের জীবন হুমকির মধ্যে পতিত হচ্ছে। ঠিক তখনই অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন নওয়াপাড়ার পরিবেশ ও বায়ু দূষণের ব্যাপারে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। [embed]https://www.youtube.com/watch?v=IOEpy5AKnyM[/embed] দেশের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দর এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রেখে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করে নিরাপত্তার মধ্যে জীবন-যাপনের জন্য যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের উদ্যোগে গতকাল বুধবার বিকালে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অভয়নগরের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। যে সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী মহল, সাধারণ মানুষ ও পরিবেশের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে। অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল হুসেইন খাঁনের সভাপতিত্বে কয়লা দূষণ রোধে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সাইফুর রহমান খান ও জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের। সম্মানিত অতিথি ছিলেন অভয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম, দৈনিক নওয়াপাড়ার প্রকাশক-সম্পাদক ও নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আসলাম হোসেন, নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিনারা পারভীন, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার, অভয়নগর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম, নওয়াপাড়া সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহাজালাল হোসেন, আমদানীকারক মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং এর চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, ডাঃ জুলফিকার আহমেদ, রাজঘাট-নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল শাখা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্যানেল মেয়র রবিন অধিকারী ব্যাচা, ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, মফিজ উদ্দিন, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক নওয়াপাড়ার মফস্বল সম্পাদক মাসুদ তাজ, প্রধান শিক্ষক সুফিয়া খাতুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহীন রেজা প্রমুখ। মতবিনিময় সভা শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ সকলের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো ঘোষণা করেন- নওয়াপাড়ায় রেলওয়ে ও মহাসড়ক, আবাশিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে সরকারি জমিতে রাখা কয়লা ও ফ্লাই অ্যাশ নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় কয়লা রাখা যাবেনা। এরমধ্যে যেসব স্থানে কয়লা রাখা আছে তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেরতে হবে, অন্যথায় জেল-জরিমানা উভয়দ-ে দ-িত করা হবে। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপদ দূরত্বে কয়লা রাখলেও তার চতুর্দিকে উচু প্রাচির দিতে হবে।   মহাসড়কে ট্রাক-বাস নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া সড়কের উপর পার্কিং করতে পারবে না। নওয়াপাড়া পৌর এলাকার রাজঘাট থেকে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত মহাসড়কে চলাচলকারী তিনচাকার যানবাহনের চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলাচলের জন্য সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়ায় হাইওয়ের তালিকাভুক্ত প্রায় ৩২ প্রতিষ্ঠানের স্তুপকরা কয়লা ৭ দিনের মধ্যে অপসারণ করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ব্রীজস্কেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন তিনি। আগামী দুই মাসের মধ্যে ফাকা বা পরিত্যাক্ত জমিতে কয়লার ড্যাম্পিং করে তার সাথে ব্রীজস্কেল করা সহ সার্বিক বিষয়ে দুইটি পৃথক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

সংযুক্ত থাকুন