বুধবার, ১২ মে ২০২১
Logo
নওয়াপাড়ায় শীল-পাটা কারখানা বন্ধ করা প্রয়োজন-বললেন, পৌর মেয়র

নওয়াপাড়ায় শীল-পাটা কারখানা বন্ধ করা প্রয়োজন-বললেন, পৌর মেয়র

১৮ জনের মৃত্যু : মুমূর্ষ ২ জন : অসুস্থ্য ৬ জন : অসুস্থ্যদের খোঁজ খবর নিলেন মেয়র শান্ত


যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়ার অদূরে পৌর এলাকার ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের জাফরপুর-মাইলপোস্ট এলাকায় গড়ে ওঠা শীল-পাটা কারখানায় অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে মানুষের জীবনযাত্রা।


এ সকল কারখানায় কর্মরতরা একে একে ঝরে পড়ছে। তবুও নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও এক শ্রেণির অর্থলোভীরা বছরের পর বছর এ ব্যবসা চালিয়ে আসছে।


দৈনিক নওয়াপাড়ায় একাধিকবার মানুষ খেকো এ শীল-পাটার ভয়াবহতা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করলেও এ কারখানা বন্ধের কোন উদ্যোগ নেয়নি কেউ। ফলে এ কারখানার বিষাক্ত ডাস্টে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরন করেছে ১৮ জন। বর্তমানে ফুঁসফুঁস অকেজো হয়ে কৃত্রিম অক্সিজেনের উপর কোন মতে বেঁচে আছে দুইজন হতভাগ্য ব্যক্তি।


এছাড়া অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে আরও ৬ জন। শীল-পাটা শিল্পের এ ভয়াবহ দূর্দশা থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে সর্বপ্রথম এগিয়ে এলেন নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র ও অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্ত। তিনি গতকাল রোববার শীল-পাটা কারখানার বিষাক্ত ডাস্টে ফুসফুস অকেজো হয়ে মৃত্যুর প্রহর গোনা দুইজনের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোজ খবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।


সেই এলাকার মানুষের প্রাণ রক্ষার্থে এ শীল-পাটা কারখানা বন্ধ করা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এদিকে মেয়র সুশান্ত কুমার শান্ত অসুস্থ্যদের খোঁজ খবর নেয়ায় এবং শীলপাটা কারখানা বন্ধের বিষয়ে কথা বলায় এলাকাবাসী তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে শীল-পাটা কারখানা বন্ধে পৌর মেয়রের পাশাপাশি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ঠ সকল বিভাগ এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদী স্থানীয় সচেতন মহল।


জানাগেছে, পৌরসভার অন্তর্গত জাফরপুর মাইলপোষ্ট গ্রামে শীল পাটার অভিশাপে একে একে কেড়ে নিয়েছে ১৮টি প্রান, অসুস্থ রয়েছে ৬জন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ২জন। ৬ জন ব্যবসায়ী থেকে নতুন ভাবে বেড়েছে আরো ২ জান ব্যবসায়ী। একসময়কার সম্ভাবণাময় শিল পাটার ব্যবসা উপজেলার ৬ শতাধিক পরিবারের মুখে যে হাঁসি ফুটিয়েছিল সেই ব্যবসা আজ তাদের হাঁসি আনন্দ কেড়ে নিয়ে করেছে সর্বশান্ত।

 

১৯৯০ সালের প্রথম দিকে জাফরপুর-একতারপুর (মাইলপোষ্ট) গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মৃত আসমত আলী খাঁর ছেলে আলী আকবার খাঁ শিল পাটার ব্যবসার যাত্রা শুরু করে উপজেলার প্রায় ৬ শতাধিক পরিবারকে সাবলম্বি করেছিলো। সেই ব্যবসা আজ একে একে কেড়ে নিয়েছে অনেক গুলি প্রাণ। মৃত আসমত আলী খাঁর তিন পুত্র আলী আকবর খাঁ (৫১), গিয়াস উদ্দিন খাঁ (৫০), ইসলাম (৩০), মৃত আলী আকবার খাঁর দুই পুত্র রানা(২৬), দ্বিতীয় পুত্র ইসমাইল (২৫), রব আলী শেখ এর দুই পুত্র মোজাম (২৮), এমদাদুল (২৫), এবং তাদেরি নিকটতম আত্বিয় এই ব্যবসার সাথে জড়িত মোবারক ব্যাপারী (৫৪) তার ছেলে রাসেল ব্যাপারী (২৫), মৃত গোলাম সবুরের পুত্র কালাম (৪০), শামসুল হক হাওলাদারের পুত্র সালাম (৫২), আক্কেল আলীর পুত্র জাকির হোসেন (৩২), মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র শাহাজাহান (৫০), হবি তালুকদারের পুত্র পিন্টু তালুকদার(২৫), আজগার আলীর একমাত্র কন্যা মরিয়ম খাতুন (২৫), আদম আলীর পুত্র শাহাদৎ (২৭), মৃত মমিন মিয়ার পুত্র আমিনুর (২৫), সর্ব শেষ মারা গেছেন মৃত সোরাব আলীর পুত্র রেজাউল(২৫)। এরা সকলে শিল পাটার ডাস্ট জনিত কারণে ঝরষরপড়ংরং (উচখউ) রোগে ধুকে ধুকে পরিবারগুলিকে নিশ্ব করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে।


এখনো একি এলাকায় আরো দুই জন মৃত কালাম সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০) ও ইলিয়াস হোসেনের ছেলে সবুজ হোসেন (২৫) কে ডাক্তার ফেরত দিয়েছেন। তাদের ফুসফুস রীতিমত অকেজ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কৃত্রিম অক্সিজেন ব্যবহার করে কোন মতে শ্বাস-প্রশ্বাস টিকে আছে। ভুক্তভোগিদের ভাষ্য শিলপাটার ডাস্ট ফুস ফুসে জমাট বেঁধে ও টিবি রোগ বলে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় শেষ পরিনতি হচ্ছে মৃত্যু।


মহাখালি ঢাকা জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদ মাসুম আক্তার বলেন এটি ঝরষরপড়ংরং (উচখউ) রোগ। ফুস ফুসে পাথরের গুড়া যেয়ে ফুস ফুসের ছিদ্রগুলির মুখ আটকে যায় ফলে শাস প্রশ্বাস নিতে না পারায় ফুসফুস শুকিয়ে যায়। ধিরে ধিরে ফুস ফুস তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়ের কোন চিকিৎসা নেই।


আমরা রানার চিকিৎসার জন্য কয়েক বার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দের নিয়ে বোর্ড বসিয়ে কোন উপায় বের করতে না পেরে শেষ মেষ ফেরত দিয়েছি। যে কদিন আল্লাহ তার হায়াত রাখবে সে কদিন সে বাঁচবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ এ শিল পাটার কাজ থেকে সকলকে ফিরিয়ে আনুন।

সংযুক্ত থাকুন