শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
নওয়াপাড়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে রাত-দিন ডেলিভারি চলছে কৃষকের জনপ্রিয় ডিএপি সার

নওয়াপাড়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে রাত-দিন ডেলিভারি চলছে কৃষকের জনপ্রিয় ডিএপি সার

দেশের বৃহত্তম শিল্প-বানিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়া মোকাম থেকে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা সার ডেলিভারি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে সার আমাদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিদিন সকাল থেকে সারা রাত চলছে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার বিসিআইসি ডিলারদের নিকট সার ডেলিভারির এ কার্যক্রম। [embed]https://www.youtube.com/watch?v=3uxZVoYgPPo[/embed]   বিশেষ করে ডাই এ্যামোনিয়াম ফসফেট ( ডিএপি ) সার উত্তোলন ও ডেলিভারি নিয়ে রাত-দিন ব্যস্ততা লেগেছে আমদানীকারক, বিসিআইসি ডিলারগণ, শতশত ট্রাক চালক, হাজার হাজার শ্রমিকদের মাঝে। ভরা এ আমন মৌসুমে কৃষকের বৃহৎ চাহিদার সার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিএপি সার। বর্তমান সরকার ডিএপি সারের মূল্য কৃষকের নাগালের মধ্যে রেখে মাত্র ৭শ’ টাকা ৫০ কেজির এক বস্তা সারের দামে নির্ধারণ করায় কৃষক ডিএপি সার ব্যবহারে ব্যাপকভাবে উৎসাহ বোধ করছে।     এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দেশের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সার নওয়াপাড়া বন্দর সার মোকাম থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার ডিলারের মধ্যে বন্টন হয়ে থাকে। বিসিআইসি নিয়োজিত এসকল ডিলারের মাধ্যমে সার ওইসব অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকের মাঝে বন্টন হয়। ভরা এ আমন মৌসুম শুরুর পূর্বেই সরকারের চাহিদা অনুযায়ী এবং কৃষকের সঠিক সময়ে সার পাওয়ার নিশ্চিয়তা দিয়ে দেশের অন্যতম আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান নওয়াপাড়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং মৌনতা ট্রেড ইনডেক্স ইতোমধ্যেই ব্যাপক পরিমাণ (সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী) ডিএপি সার আমদানী করে প্রতিদিন দিনে ও গভীর রাত অবধি কৃষি মন্ত্রণালয়ের চাহিদা মোতাবেক এবং প্রতিটি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত ডিএপি সার ডিলাররা কোনরকম বিড়ম্বনা ছাড়াই দ্রুত আমদানীকারক ওই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সার উত্তোলন করে ট্রাক যোগে স্ব-স্ব জেলার গন্তব্যে পৌছে যাচ্ছে।     বুধবার দুপুরে জয়পুর হাটের জনৈক ডিলার মোসলেম উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, নওয়াপাড়া মোকামের মৌনতা ট্রেড ইনডেক্স নামক আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বরাদ্দপত্র অনুযায়ী ডিএপি সার উত্তোলন করে তিনি জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছেন। রংপুর জেলার মিঠাপুকুরের আব্দুল হাকিম, লালমনিরহাটের ডিলার মাধু ভট্টাচার্য ও আজিজুল হকের সাথে কথা বললে তারা জানান, নওয়াপাড়া সারের মোকামে এসে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান নওয়াপাড়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ঘাট থেকে সরাসরি কার্গো হতে বরাদ্দপত্র অনুযায়ী সকল সার তারা উত্তোলন করে রওয়ানা হচ্ছেন।     আমদানীকারকদের দ্বারা কোন হয়রানী বা সার কমবেশি দিয়েছে কিনা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিলাররা বলেন, তারা সঠিকভাবে ভালো ব্যবস্থাপনায় দ্রুত বরাদ্দপত্র অনুযায়ী সার উত্তোলন করতে পেরেছেন। এদিকে অভয়নগরের  শ্রীধরপুর ইউনিয়নের কৃষক মোজাফ্ফারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ভরা মৌসুমে কোনরকম সংকট ছাড়াই সঠিক দামে ডিএপি সার পাওয়ায় তারা খুব খুশি।     এদিকে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, নদীতে নোঙর করা কার্গো হতে তাদের ক্রেন যোগে দ্রুত অটোপ্যাকিং মেশিন দ্বারা সার প্যাকিং করে সরাসরি ট্রাকে সার ডেলিভারির কাজ রাত-দিন চলছে। এবং ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী দিনে এবং রাতে দুই শিফটে অবিরাম কাজ চালিয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী ডিএপি সার ডেলিভারির কার্যক্রম সার্বক্ষনিকভাবে চলছে।     তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০ হাজার টাকা টন সার আমদানী করে ভর্তূকি মূল্যে ১৪ হাজার টাকায় সার বিক্রয় করা হয়। এবং বাকি টাকা বরাদ্দ অনুযায়ী একটি এলসির প্রায় লক্ষাধিক মেট্টিকটন সার বন্টন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাসের পর মাস তাদেরকে সরকারের ভর্তূকির টাকা পেতে অপেক্ষা করতে হয়। সময় মত ডিলাররা সার উত্তোলন না করলে তাদেরকে গুদামভাড়া ও ব্যাংকের ঋনের টাকার সুদ গুনতে হয়।   বিভিন্ন মৌসুমে ডিএপি, টিএসপি, এমওপি সার ভর্তূকি ছাড়াই বিক্রি হয় কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন ডিলার সার উত্তোলন করতে ব্যর্থ হলে চারমাস পর ওই সার খোলা বাজারে সরকারি মূল্যে বিক্রি করার নিয়ম কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত।   বিষয়টি নিয়ে অভয়নগরের কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বর্তমানে আমদানীকারকদের সঠিক ব্যবস্থাপনায় ডিলাররা বরাদ্দ অনুযায়ী সার পাওয়ার ব্যাপারে আমরা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছি। যদি এসময়ের মধ্যে ডিএপি সার আমদানীকারকরা আমদানী করতে ব্যর্থ হতো তাহলে সারের একটি কৃত্রিম সংকট দেখা দিতো।   আর খোলা বাজারে সারা বছর সরকারি মূল্যে টিএসপি এমওপি ডিএপি বিক্রির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সাইফুল ইসলামের বক্তব্যের সাথে একমত পোষন করেন। ধোপাদী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, সরকার ডিএপি সারের দাম কমিয়ে দেয়ায় ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। শুধুমাত্র ডিএপি সার ব্যবহার করে ফসলের ব্যাপক ফলন গত ইরি মৌসুমেও পেয়েছেন আমন মৌসুমেও ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন।   শ্রীধরপুর গ্রামের শিক্ষিত যুবক তমাল হাসান জানান, তিনি কর্পোরেশনের চাকরি ছেড়ে কোদলা গ্রামে একটি আদর্শ কৃষি ও সমন্বিত খামার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সার এবং কৃষি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক আধুনিক চিন্তা ভাবনায় তিনি উৎসাহিত হয়ে চাকরি ছেড়ে খামারের ব্যবসা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে তিনি বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।     কারন হিসেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদিকে সরকার ডিএপি সারের দাম ক্রয় ক্ষমতার নাগালের মধ্যে এনে তিন প্রকারের অপরিহার্য সার এর বদলে শুধুমাত্র ডিএপি সার একবস্তা ৭শ’ টাকা দিয়ে ক্রয় করে বিভিন্ন ফসলে ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। পাশাপাশি মাছের খাবার হিসেবেও ডিএপি সার ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এবং তাতেও ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। যেকারনে তিনি চাকরি ছেড়েছিলেন সে বিষয়টি তার খামর করে মানসিকভাবে স্বস্তি বোধ করছেন। সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মধ্যে ডিএপি সারের দাম কমানোর ব্যাপারে তিনি প্রশংসা করেন।

সংযুক্ত থাকুন