বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
Logo
নওয়াপাড়া রেলওয়ে অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনা : অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

নওয়াপাড়া রেলওয়ে অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনা : অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

রেল লাইনের দুই পাশের ৩০ ফুটের মধ্যে কোন স্থাপনা থাকবেনা : ২৮ তারিখের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ : ১ লা মার্চ থেকে চুড়ান্ত অভিযান নওয়াপাড়া রেলওয়ে অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনা : অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু যশোরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার বুক চিরে চলে গেছে যশোর-খুলনা রেলওয়ে লাইন। ব্যবসা-বাণিজ্যে নওয়াপাড়ার সমৃদ্ধির পেছনে সর্বাধিক গুরুত্ব বহন করে যে বিষয়টি সেটি হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। নওয়াপাড়া শহরের গা ঘেসে বয়ে গেছে ভৈরব নদ, মাঝে যশোর-খুলনা মহাসড়ক। আর এ শহরের বুক চিরে রয়েছে যশোর-খুলনা রেলওয়ে লাইন। যা ঢাকা ও ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দেশের বৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল বন্দরের সাথে সংযোগ স্থাপন করে ভারতের সাথে মিলন ঘটিয়েছে। ফলে ব্যবসা সমৃদ্ধ এ অঞ্চলে রেলওয়ের ভুমিকা সর্বাধিক।   [embed]https://www.youtube.com/watch?v=rxUiF5Z4wXo[/embed]   আর এ রেলওয়ে অঞ্চল থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। বর্তমানে সারাদেশের সাথে নওয়াপাড়া রেলওয়ে অঞ্চলের উন্নয়নে মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মহা-পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডাবল রেল লাইন স্থাপন, ভারত থেকে সরাসরি পায়রা বন্দরের সাথে সংযোগ স্থাপন, ফরিদপুর হয়ে নড়াইলের মাঝ দিয়ে নির্মিতব্য রেললাইনের সাথে সংযোগ স্থাপন, পর্যায়ক্রমে বুলেট ট্রেন সংযোগ ও নওয়াপাড়ার বৃহৎ ব্যবসা বাণিজ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমদানীকৃত পন্য রাখার জন্য ডক ইয়ার্ড নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।   আর এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করা। দেশব্যাপী রেলওয়ের জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের মাধ্যমে রেলওয়ের বিশাল জায়গা উম্মুক্ত করার মাধ্যমে সরকারের রেভিনিউ আদায়ের পরিমান বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়নের মহাযজ্ঞ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নওয়াপাড়ায় রেলওয়ে লাইনের পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দিনব্যাপী নওয়াপাড়ায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশীর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।   সেই সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা নওয়াপাড়া গরুহাটটিকে এবং বৌ-বাজার সংলগ্ন মাছ বাজার তাৎক্ষনিকভাবে নিলাম ডেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অভিযানে ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে সরকারি রাজস্ব ফান্ডে জমা দিয়েছেন অভিযানিক দল। এসময় রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে ড্যাম্পকরা জীপসাম, কয়লা, পাথর-খোয়াসহ বিভিন্ন সামগ্রী না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অভিযান চলাকালে সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে হান্নান সরদার নামের একজন ঘাট সরদারকে ৭ দিনের কারাদ- দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।   এদিকে নওয়াপাড়া রেলওয়ে লাইনের গা-ঘেষে দু’পাশে গড়ে ওঠা বস্তি উচ্ছেদ শুরু হলে দরিদ্র মানুষদের ব্যাপক ক্ষতি হবে চিন্তা করে মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশীর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারীর পর ১ লা মার্চেই আবারও চুড়ান্ত অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, ১ লা মার্চের পরে নওয়াপাড়ায় রেল লাইনের দুই পাশের ৩০ ফুটের মধ্যে কোন স্থাপনা থাকবেনা।   এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী রেল লাইনের দুই পাশের ৩০ ফুটের মধ্যে কোন জায়গা ইজারা দেয়ার সুযোগ নাই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্ছেদের পরে পূণরায় সেই জায়গা যদি কেউ অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর ডিসির প্রতিনিধি সুবোল চন্দ্র গোলদার, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অভয়নগর থানা পুলিশ, জিআরপি পুলিশের একটি বিশেষ টিম।   অভিযানের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশীর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নে সরকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ভারতের সাথে পায়রা বন্দরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ রেলওয়ে লাইনকে ডাবল লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই সাথে এ অঞ্চলে বুলেট ট্রেন যুক্ত করারও ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।   তাছাড়া নওয়াপাড়া বন্দরে রেলওয়ের নিজস্ব ডক ইয়ার্ড নির্মানের প্রস্তাবনাও রয়েছে। আর এ কারনে যুগ যুগ ধরে অবৈধ দখলে থাকা রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। সরকারের এ বৃহৎ পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তার আহবান জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, মানবিক কারনে বস্তিবাসীকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। ১ লা মার্চ থেকে আবারও চুড়ান্ত অভিযান শুরু হবে। এবং রেলওয়ে লাইনের দু’পাশে ৩০ ফুটের মধ্যে কোন অবৈধ স্থাপনা থাকবেনা। এবং ৩০ ফুটের মধ্যে কোন স্থাপনা ইজারা দেয়ারও সুযোগ নেই।

সংযুক্ত থাকুন