শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Logo
নদী দখলের মহোৎসব এবার খুলনার ফুলতলায়

নদী দখলের মহোৎসব এবার খুলনার ফুলতলায়

ইমন হাসান/ সাকিব জিকো যশোরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়ার পর এবার নদী দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা অংশে। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এ অঞ্চলের প্রাণ ভৈরব নদকে ইচ্ছেমত দখল করে ঘাট ও জেটি নির্মাণ শুরু করেছে। নদীর মাঝ বরাবর মাটি ফেলে আটকে দিয়ে দখলে নিয়ে নিয়েছে তারা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভৈরব নদী যেন অভিভাবকহীন। যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই থাবা বিস্তার করে চলেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাসীন রাজনীতিক হওয়ায় সাধারণ মানুষ এদের বিরুদ্ধে রা করারও সাহস পাচ্ছে না। সচেতন মহল কেবল ভৈরব নদীর বুকে এসকল নদী খেকোদের নদী দখলের উলঙ্গ নৃত্য দেখছে আর হা-হুতাশ করছে। তবে যাদের বিষয়টি দেখার কথা তারা যেন চোখ থাকতেও অন্ধের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। দৈনিক নওয়াপাড়ার পক্ষ থেকে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ফুলতলার সিকিরহাটে ভৈরব নদের পাশে নতুন করে ঘাট বানানোর র্কাযক্রম চলছে। নদীর মাঝ বরাবর বেঁধে দিয়ে নদীর বুকের পরেই তৈরি হচ্ছে এ ঘাট। সিকিরহাট থেকে বাইপাস ফুলতলার দিকে যেতে দেখা গেল বিজয় কৃষ্ণ আশ্রমের নামে নদীর জায়গা দখল করে বিভিন্ন ধরনের গাছের বাকল দিয়ে পাইলিং করে নদীর প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ফুট দখল করে ইট-পাথরের খোঁয়া দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। যেখানে এই ভরাটকৃত জেটির উপর লং-বুম নামক স্কেভেটর স্থাপন করে কার্গো থেকে বিশেষ করে কয়লা, পাথর ও সিলেট বালি নামানো হচ্ছে। তার পাশেই একই ভাবে নদীর পাড় ভরাট করে বনায়ন উজাড় করে ফুলতলার বাসিন্দা জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তা নদীর ভেতর ভরাট করে ভাড়া দিয়েছেন। তারা পল্টনের ওপর লং-বুম বসিয়ে জাহাজ আনলোডের র্কাযক্রম পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, নদী কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে ম্যানেজ হয়ে সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে পড়ে আছে। এদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী রক্ষায় একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহন করলেও এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিলেও তা এ অঞ্চলে কোন কাজেই আসছেনা। ক্ষমতাসীন দলের লেজুড়বৃত্তি ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের কাছে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে থোড়াই কেয়ার করছে এসকল স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিকারীরা। আর এ সুযোগে পকেট ভারী করছে নদী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা। খুলনার ফুলতলা উপজেলায় ভৈরব নদী দখলের চিত্র যে কোন সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুললেও যারা ধ্বংসের হাত থেকে নদীকে রক্ষা করতে পারে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। কোন ভাবেই যেন এ নদী খেঁকোদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। নদীটিকে গলা চিপে ধরেছে তারা। ফলে নাব্যতা হ্রাস পেয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের প্রমত্তা ভৈরব এখন দখলবাজদের থাবায় শীর্ণকায় হয়ে মৃত প্রায়। নদীর মধ্যে এই ধরনের জেটি নির্মান করার ফলে ভৈরব নদীর জোয়ার-ভাটা মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। যার জন্য পলিমাটি দাড়িয়ে নদী পুণরায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বিগত প্রায় দুই বছর যাবৎ কয়েকশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম শ্রেনির নৌ-বন্দর হিসেবে নওয়াপাড়া বন্দরের ভৈরব নদীর মজুতখালি নামক স্থান থেকে বসুন্দিয়া এলাকার অফরা ঘাট পর্যন্ত নদী ড্রেজিংয়ের কার্যক্রম চলছে। নদী বন্দর এলাকাকে আধুনিক বন্দর ও নদীর নাব্যতা সার্বক্ষনিক প্রবাহমান রাখতে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। তারই আওতায় খুলনা থেকে নড়াইলের তুলারামপুর পর্যন্ত ভৈরব নদীর জোয়ার-ভাটার স্রোতধারা এবং যশোর শহর থেকে বুড়ি ভৈরবকে খনন করে মুল ভৈরব নদীর সাথে সংযোগ করে ভৈরব নদীর ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্যই ড্রেজিং ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত সচল রয়েছে। কিন্তু নদী খেঁকোদের দখলের কারনে এ ড্রেজিং ব্যবস্থা কোন কাজেই আসছে না। নদী খেঁকোদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন। এবং নদী খেঁকোদের হাত থেকে এখনই ভৈরব নদকে রক্ষা না করা হলে নব্যতা হারিয়ে ভৈরব নদ ধ্বংসের শংকা করেছেন।

সংযুক্ত থাকুন