বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
Logo
নড়াইলের ভদ্রপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নড়াইলের ভদ্রপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নড়াইল সদর উপজেলার রতডাঙ্গা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


তার দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে রতডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো: আজম শেখ অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে পাশ করে নিয়মবর্হিভূতভাবে ২০০০ সালের ৮জানুয়ারি ভদ্রপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পদে রেবেকা সুলতানা নিয়োগ নেন।


সরকারি বিধি অনুযায়ী ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগের কথা উল্লেখ থাকলেও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিকভাবে উক্ত পদে নিয়োগ পান তিনি।


স্কুলের নামে ২০০৬ সালে যে ৩৩শতক জমি কবলা দলিল (যার দলিল নং ২৭৯১, তারিখ ২২.১১.২০০৬) করা হয় ওই জমির দাতা ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা, সহকারি শিক্ষক উত্তম কুমার বসু, হালিমা খাতুন এলিনা ও মোছা: শিল্পী বেগম। পরবর্তীতে হালিমা খাতুন এলিনা বিবাহজনিত কারণে চাকুরি ছেড়ে দেন।


জমিদাতা হালিমা খাতুন এলিনাকে ওই স্কুলের দাতা সদস্য না করে প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা তার স্বামী হাসান জহিরকে স্কুল হওয়ার ১৫ বছর পর এক শতক জমি দানের পরিবর্তে দাতা সদস্য করেছেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই স্কুলের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা আত্মসাত, স্কুল মাঠের মেহগনি গাছ কাটাসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করে চলেছেন তিনি।


স্কুলের মালিকানায় থাকা ৩৪টি ছোট মেহগনি গাছ ২লাখ ৭হাজার ৩৪৫টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি করে তা স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলের বাৎসরিক ব্যয় নির্বাহের জন্য স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট খাতে এবং ক্ষুদ্র মেরামত খাতে বরাদ্দ হওয়া টাকাও নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষিকা ব্যয় করেন নাই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


সূত্রে আরো জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর স্কুলের নিয়মিত কোন কমিটি নেই। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য একের পর এক এডহক কমিটি দিয়ে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন।২০০৮ সালের ৩ডিসেম্বর তৎকালীন নড়াইল সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল মৃধা স্বাক্ষরিত বৈধ কমিটিতে মো: নবীর হোসেনকে সভাপতি করে ১১সদস্য বিশিষ্ট নিয়মিত কমিটি গঠনের পর আর কোন নিয়মিত কমিটি গঠন হয়নি বলে জানা গেছে।


নড়াইল সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আতিকুর রহমান জানান, এডহক কমিটি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত স্কুল পরিচালনা করা মোটেও বিধিসম্মত নয়। এডহক কমিটি দিয়ে স্কুল পরিচালনার ৬মাসের মধ্যে নিয়মিত কমিটি গঠন করতে হবে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা।


এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কোন অনিয়ম ও দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। এলাকার প্রতিপক্ষ লোকজন আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে সমাজে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সংযুক্ত থাকুন