বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
Logo
নড়াইলে বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

নড়াইলে বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরীব অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিজিডির কার্ড বিতরণেও জালিয়াতি আশ্রয় গ্রহণ করেছেন তিনি। ভূক্তভোগীরা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুলের আত্মসাত করা টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গরীবদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেবার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল দারিয়াপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী জিল্লুর রহমান বাবলুর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, হোগলাডাঙ্গা গ্রামের সজীব দাসের ২ হাজার ৫শ’ টাকা, দারিয়াপুর গ্রামের আনোয়ার মোল্যার কাছ থেকে ৩০হাজার টাকা, বাহাউদ্দিন শেখের কাছ থেকে ১৫হাজার টাকা, লাভলু সরকারের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

 

টাকা নিয়েও চেয়ারম্যান তাদের কোন ঘর প্রদান করেননি। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা টালবাহানা শুরু করেন। এছাড়া হোগলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত অংশপতি বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী উন্নতি বিশ্বাসকে রাস্তায় আরএমপিতে চাকুরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করে।

 

পরবর্তীতে তাকে চাকুরি না দেয়ায় অভাবের তাড়নায় তিনি স্বামীর ভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। সূত্রে জানা গেছে, ভিজিডির কার্ড বিতরণেও তিনি জালিয়াতি আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। দু:স্থ, গরীব ও অসহায় মহিলাদের পরিবর্তে স্বচ্ছল পরিবারের নারীদের নামে ভিজিডির কার্ড প্রদান করেছেন এবং নাম-ঠিকানা বিহীন নারীদের নামে কার্ড করে তা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান মোল্যার সাড়ে ৫একর ধানী জমি এবং বাড়িতে বিল্ডিং থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রী বিউটি বেগমের নামে ভিজিডির কার্ড দেয়া হয়েছে। একই গ্রামের সাহেব আলীর ধানী জমি এবং বাড়িতে একতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রী রুপা খানমের নামে ভিজিডির কার্ড দেয়া হয়েছে।

 

যদুনাথপুর গ্রামের বাবু মোল্যার স্ত্রী রিক্তা খানম, তবিবর মৃধার স্ত্রী জান্নাত আরা এবং আছাদের স্ত্রী জেসমিন নামের অস্তিত্বহীনদের নামে ভিজিডির কার্ড দেয়া হয়েছে। নিয়ম বহিভূর্ত ভাবে ইউনিয়নের দফাদার ও চৌকিদারদের স্ত্রীর নামে ভিজিডির কার্ড বরাদ্দ দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল।

 

এ ব্যাপারে বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি নিয়ম বহিভূর্ত ভাবে কোনো ভিজিডি কার্ড দেইনি।

 

এছাড়া ঘর প্রদানের নামে কোন টাকা গ্রহণ করি নাই। উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবু জাফর রিপন স্বাক্ষরিত পত্রে ওই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

 

সংযুক্ত থাকুন