রবিবার, ১৩ জুন ২০২১
Logo
পবিত্র রমজানেও থেমে নেই নওয়াপাড়ায় মাদক বিকিকিনি : অলি-গলিতে ফেন্সিডিলের খালি বোতল

পবিত্র রমজানেও থেমে নেই নওয়াপাড়ায় মাদক বিকিকিনি : অলি-গলিতে ফেন্সিডিলের খালি বোতল

পবিত্র রমজান মাসেও যশোরের শিল্প-বানিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়াসহ অভয়নগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে দেদারছে চলছে মাদকের বিকিকিনি। কালেভদ্রে যশোরের র‌্যাব, ডিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে দুই/ একজন মাদকসেবী বা সরবরাহকারী ধরা পড়লেও মূল মাদক ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

 

এদিকে স্থানীয় থানা বা ক্যাম্প পুলিশের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অনেকটাই শূন্যের কোঠায় বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। ফলে প্রকাশ্যে শিল্প-বানিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়া বাজারের অলিতে গলিতে চলছে মাদক বিকিকিনি ও সেবন।

 

নওয়াপাড়া বাজারের অলিতে-গলিতে হাটতে গেলেই যেখানে সেখানে দেখা যায় ফেন্সিডিলের খালি বোতল। তাছাড়া ইয়াবা ব্যবসায়ীরাও রয়েছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে। স্থানীয় থানা পুলিশের মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো কোন অভিযান না থাকায় তার বেশ খোশমেজাজে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

 

স্থানীয় সচেতনমহল ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, ৫/৬ মাস আগে অভয়নগর থানা পুলিশ উপজেলায় মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের মাধ্যমে ডোপ টেস্ট শুরু করে। টানা বেশ কিছুদিন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের ধরে ডোপটেস্ট করে আইনের আওতায় আনার পর এ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা খানিকটা দমে যায়। সেই সাথে মাদক সেবীরাও পড়ে বিপাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও ডোপটেস্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভাবে চাঙ্গা দিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে রাতে ডিউটিরত টহল পুলিশদের নওয়াপাড়া বাজারের বেশ কিছু মাদক স্পটের আশে পাশে গভীর রাত অবধি খোশগল্প করতে দেখা যায়। তাছাড়া অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের পুলিশের মোটর সাইকেলের পেছনে বসে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।

 

নওয়াপাড়া বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ীর অভিযোগ, নওয়াপাড়া বাজারের ফেরিঘাট থেকে কাঁচাবাজার পর্যন্ত মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপদ ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিনিয়ত সকাল থেকে গভীর রাত অবধি চলে মাদক বিকি কিনি ও সেবন। মাদক সেবীরা ফোন করলেই মাদক ব্যবসায়ীরা ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে যথাস্থানে হাজির হয়ে যায়।


এছাড়া নওয়াপাড়া হাসপাতাল রোড, বুইকারা সরকারি কবরস্থান সংশ্লিষ্ট এলাকা, শ্যামলের ভাটা এলাকা ও বকুল তলা নামক স্থান মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ স্থান।

 

ভাঙ্গাগেট ট্রাক টার্মিণাল সংশ্লিষ্ঠ এলাকা, আমডাঙ্গা চেঙ্গুটিয়া রেল স্টেশন, বাহিরঘাট প্রাইমারী স্কুল এলাকা, বেঙ্গল শ্মশানঘাট অঞ্চল, ধোপাদী বেতারের রোডসহ ভৈরব উত্তর জনপদের দেদারছে মাদক বিকিকিনি চলছে। সেই সাথে পায়রা, শমসপুর, চলিশিয়া, আন্ধা অঞ্চলের ঘেরা অঞ্চলগুলো মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতনমহল এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যশোরের পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংযুক্ত থাকুন