বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
Logo
পাইকগাছা পৌরসভা অভ্যন্তরে লবণ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ ঘোষনা

পাইকগাছা পৌরসভা অভ্যন্তরে লবণ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ ঘোষনা

পাইকগাছা পৌরসভা অভ্যন্তরে লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। চলতি মৌসুম থেকে পৌরসভার কোথাও লবণ পানি তোলা যাবে না মর্মে ঘের মালিক সহ এলাকাবাসিকে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রশাসন।

 

লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির ও মাসিক সাধারণ সভায় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এ নির্দেশনা অমান্য করে কেউ লবণ পানি তুললে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।

 

প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে এটি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসি। সূত্রমতে জেলার অত্র উপজেলায় ৮০’র দশকে লবন পানির চিংড়ী চাষ শুরু হয়। শুরুতেই অধিক লাভজনক হওয়ায় উপজেলার সবখানে চিংড়ী চাষ ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি উপজেলা সদরের প্রায় সব জায়গায়ও লবণ পানির চিংড়ী চাষ বিস্তার লাভ করে।

 

এরপর ১৯৯৭ সালে উপজেলা পরিষদের আংশিক এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠন করা হয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর পৌর পরিষদের সভায় পৌর এলাকায় লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও সিদ্ধান্তটি আজ অবদি বাস্তবায়ন হয়নি। বছরের পর বছর লবণ পানি তুলে চিংড়ী চাষ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ।

 

হুমকির মুখে পড়ে পরিবেশ। অবশেষে আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবং এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর পৌর অভ্যন্তরে লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নেন। এবছর থেকে পৌর এলাকায় কোন প্রকার লবণ পানি তোলা যাবেনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

 

মূলত শিববাটি গেট, লোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রের পাশের কাজীর বিলের স্লুইচ গেট ও পৌরসভা এবং গদাইপুর ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী বয়রা স্লুইচ গেট ব্যবহার করে পৌর এলাকায় লবণ পানি উত্তোলন করা হয়। এসব গেট গুলোর উপর কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

 

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে আমরা অনেক আগে ভাগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি পৌর এলাকার কোথাও লবণ পানি তোলা যাবে না। আমরা ঘের মালিকদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করেছি। এছাড়া এলাকায় মাইকিং করে সাধারন মানুষকে অবগত করা হয়েছে। লবন পানি উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ যদি লবন পানি তোলার চেষ্টা করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংযুক্ত থাকুন