শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
ফকিরহাটে সরকারী এতিম খানার কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ফকিরহাটে সরকারী এতিম খানার কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতি প্লেট সবজি ৫৫ টাকা : ভাতের প্লেট ২৫ টাকা : পরোটা ১০ টাকা পিচ

খুলনা বিভাগের এক মাত্র সরকারী শিশু পরিবার বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের মূলঘর গ্রামে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের পার্শ্বে অবস্থিত।

 

উক্ত শিশু পরিবারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। সকরকারী শিশু পরিবার (বালক) শাখার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে পেট ভরে শিশু পরিবারের কর্তা ব্যক্তিদের। এতিম শিশুদের দিনের পর দিন সকালটা শুরু হয় এক প্লেট খিচুড়ি দিয়ে।

যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবী করেন, মাসের অর্ধেক এরও বেশি সময় দুপুরে ও রাতে ভাত-মাছ আর মাংস দেয়া হয়। সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) শাখার মোঃ রাব্বি আকন, আজিজুল শেখ, কাইয়ুম, সিয়াম, শামীম শেখ এই প্রতিনিধিকে বলেন, মাঝে-মধ্যে মাংস খেতে দেওয়া হয়, তাও পোল্ট্রি মুরগীর ছোট এক টুকরা।

চাইলেও বেশি দেয়া হয় না তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এতিম বলেন, আমরা এখানে ৩ বেলা খাই, কিন্তু আমাদের পেট ভরে না। অনেক সময় ক্ষুদা লাগে। একবারে যা দেওয়া হয় তার পর চাইলে কখনোই দেয়না। তারা আবেগঘন মুহুর্তে তাদের সমস্যা ও অভাব অভিযোগের লম্বা ফিরিস্তি বর্ণনা করে।

বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে এতিম ছেলেদের জন্য ‘সরকারী শিশু সনদ’ চলে এমনই ভাবে। অভিযোগ দেখার যেন কেউ নাই। যদি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নজরদারিতে আসতো তাহলে এসব শিশুরা ভাল ভাবে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারত। অপরদিকে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দাবী করেছেন, সঠিক নিয়মেই চলছে সরকারি শিশু পরিবার (বালক) শাখার সার্বিক কার্যক্রম, কোন অভিযোগই তারা স্বীকার করতে চান না।

তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অফিসে গিয়ে দেখা মিলল বিভিন্ন ব্লাঙ্ক বিল ভাউচার, খরচের নথিতে লেখা আছে ‘প্রশিক্ষণ কর্মশালয় প্রশিক্ষকদের জন্য খাবার তালিকায় অনান্য খাবেরর পাশাপাশি সবজি¦ ছিল। যেখানে ২০ প্লেট সবজি ১ হাজার ১শত টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। আর প্রতি প্লেট সবজির মূল্য ভাউচারে উঠেছে ৫৫ টাকা করে।

 

যা স্থানীয় হোটেলের মান অনুযায়ী বহু গুন বেশিই। অপর একটি বিল ভাউচারে দেখা গিয়েছে, ৩৩ স্কয়ার ফুট একটি পিভিসি ব্যানার বিল করা হয়েছে ১১০০ টাকায়। যার হিসাব অনুযায়ী প্রতি স্কয়ার ফুট ব্যানার করতে খরচ হয়েছে ৩১ টাকারও বেশি। তবে খুলনার বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসে গিয়ে জানা গেছে, পিভিসি প্রতি স্কয়ার ফিট ১৫ টাকা এবং প্যানা প্রতি স্কয়ার ফিট ২২/২৩ টাকা। সেক্ষেত্রে এখানেও বিল ভাউচার জালিয়াতি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

তাছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কর্মকর্তা অফিসে না এসেই মাস শেষে বেতন তুলে নিচ্ছেন অনায়াসে। দু’একজন কর্মকর্তা/কর্মচারী ছাড়া অধিকাংশই একদিন এসে বাকী দিনের হাজিরা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। যা দেখার কেউ নেই। শুধু এখানেই শেষ নয়, এক প্লেট ভাত ২৫ টাকা, এক প্লেট লটপটি ৭০ টাকা, এক পিচ পরোটা ১০ টাকা। যা স্থানীয় হোটেলের বাস্তব মূল্যের সাথে কোন মিল নেই।

 

সরেজমিন অনুসন্ধ্যানকালে আরো দেখা গিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সিয়াম চাউল ধোয়ার কাজে এবং শামীম শেখ রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানা গেছে, এই সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রে বার্ষিক বরাদ্দ ৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। যা প্রতি শিশুর মাসিক খাদ্য ও জ্বালানি বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা, শিক্ষা বাবদ ৩শ’ ৫০ টাকা, প্রশিক্ষণ বাবদ ১০০ টাকা, চিকিৎসা বাবদ ১০০ টাকা, প্রসাধনী বাবদ ১৫০ টাকা, পোষাক বাবদ ৩০০ টাকা করে মাসে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ। কিন্তু এই বরাদ্ধকৃত টাকা নিয়ে পকেট ভারি করছে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

 

এ ব্যাপারে ফকিরহাট সরকারি শিশু পরিবার (বালক) কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক খান আনিসুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস.এম.রফিকুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যদি ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় তবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

আর এই অভিযোগ তদন্ত করে আমি নিজেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে এনে এতিম শিশুদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমটাই দাবি করছেন সচেতন মহল।

সংযুক্ত থাকুন