বুধবার, ১২ মে ২০২১
Logo
বসুন্দিয়ায় ধানের শীষ সাদা হয়ে যাওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত

বসুন্দিয়ায় ধানের শীষ সাদা হয়ে যাওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত

পরিদর্শন করলেন বাঘারপাড়া কৃষি কর্মকর্তা

বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের বারভাগ দক্ষিন বিলে গত আট-দশ বছর ধরে কোন ফসল হয় না। চারি পাশে মৎস্য ঘের কেটে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে প্রতি বছর জলাবদ্ধতায় পরিনত হয়ে বাদা-জঙ্গলে ভরে থাকে। চলতি বছর অনাবৃষ্টির কারনে বিল শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, কয়েকজন কৃষক পড়ে থাকা পতিত জমি পরিস্কার পরিছন্ন করে উদোগ নেন ইরি-বোরো আবাদ করার জন্য।

সফল হয়ে ছিলেন সকল চাষিরা, নিয়তির খেলা ধানের শীষ বেরোনোর মুর্হুতে গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় হঠাৎ কাল-বৈশাখীর গরম বাতাসে ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। অনেকের ক্ষেত ঠিক হয়ে গেলেও কিছু কিছু জমিতে ফলন হয়নি, হাউ-হুতাশ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। কথা হয় বারভাগ গ্রামের মোঃ আকরাম আলী সরদার, মোঃ লিয়াকত আলী সরদার, বসুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, বারভাগ গ্রামের মোঃ ইমরান হোসেনসহ অনেকের সাথে, তারা জানান, পতিত জমি পরিস্কার করে ইরি-বোরো চাষ করেছি কিন্তু ধানে অনেক চিটা হয়ে গেছে। লোকসানের ঘানি টানতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে, ক্ষতি গ্রস্থদের উপর সরকার নজর দিলে আবার মাথা উচু করে দাড়াতে পারব। তা ছাড়া আর চাষ করতে পারবনা।

এ সমস্ত চাষিদের প্রতি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে আর হয়তো ঘুরে দাড়াতে আর সক্ষম হব না। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের কর্ণপাত করার পর গত ২ মে রোববার বাঘারপাড়া উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সরোজমিনে দেখতে আসেন এবং কৃষকদের নিয়ে মত বিনিময় করেন। এ সময় বসুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক কর্মকর্তাদের বলেন, সে পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাসিন্দা কিন্তু তার গ্রামে চাষাবাসের কোন জমি নেই যার ফলে জামদিয়া ইউনিয়নের বারভাগ বিলে মৎস্য ঘের সহ ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।

বসুন্দিয়া ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তাকে সরকারী সহযোগিতা থেকে দুরে ঠেলে দেন। বিষয়টি বাঘারপাড়া উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়ে যান। গত ইরি-বোরো মৌসুমের সরকারি বীজ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় দুই তিন বিঘা জমি চাষের মত ধান পেয়ে মহা খুশিতে চাষ করেছিলাম। চলতি বোরো মৌসুমে দুই বিঘা জমির ধানে চিটা পড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন তিনি। এরকম বহু চাষি এ বছর লোকসানের ঘানিতে পড়ে আছেন তাই সরকারের পৃষ্টপোষকতা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

সংযুক্ত থাকুন