বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Logo
বাঁকড়ায় ট্রাক্টরের দখলে কাঁচা-পাকা সড়ক : অতিষ্ঠ জনজীবন

বাঁকড়ায় ট্রাক্টরের দখলে কাঁচা-পাকা সড়ক : অতিষ্ঠ জনজীবন

যন্ত্রদানব নিষিদ্ধ ট্রাক্টরে অতিষ্ঠ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সকল রাস্তা। ট্রাক্টরের দৌরাত্বে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে কাঁচা পাকা সড়ক। এছাড়াও এ সকল ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গ্রামীণ সড়কের চলাচলকারী জনসাধারণ অবৈধ ট্রাক্টরের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

 

উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে অবাধে দাপিয়ে বেড়োচ্ছে নিষিদ্ধ যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রাক্টর এখন অবৈধ ট্রাক বা পরিবহন হয়ে গ্রামীণ জনপদে সর্বনাশ ঘটাতে শুরু করেছে। বিরামহীন চলাচলে শব্দ দুষণেও আশপাশের গ্রামের মানুষ, রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

 

এসব অবৈধ যন্ত্রদানবের প্রতি নজর নেই ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসনের। বাঁকড়া বাজারের এক মুদি দোকানদার বলেন, এসব ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ধূলা-বালির কারণে ১০ গজ দূরের কোনো দৃশ্যই দেখা যায় না। কয়েক মিনিট পর পরই একটি -দুটি করে মাটি, বালি ও ইট ভর্তি ট্রাক্টর ও টলি বেপরোয়া ভাবে চলাচল করছে।

 

জাকির হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, উপজেলার সাদিপুর বকুলতলা, বাঁকড়া বাজারের পাশে, হাজিরবাগ আইডিয়াল গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের পাশে, বিষ্ণুপুর মাদ্রাসার পাশে, সংকরপুরের উলাকোল বাজারের পাশে, ইস্তা গ্রামের ভীতরে, মাটিকোমরা গ্রামের পাশে, ও বাউসো বাজার মোড়ে গড়ে উঠা ইট ভাটার মালিক এসব ট্রাক্টর ব্যবহার করে রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

 

যে কারণে ১০ মিনিটের রাস্তা ৩০ মিনিট সময় বেশি লাগে। পাশাপাশি ধূলার কারণে ১০ গজ দূরের কোনো দৃশ্য চোখে পড়ে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, এসব অবৈধ ট্রাক্টর গুলো রাস্তা-ঘাট ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করলেও এসব বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। জানা যায়, উপজেলার সবকয়টি ইট ভাটার ইট ও মাটি পরিবহনের কাজেই মূলত ব্যবহৃত হচ্ছে এসকল ট্রাক্টর।

 

এসকল ট্রাক্টরের নেই কোন বৈধ রোডপার্মিট। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছরের শিশু- কিশোররাও এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

 

মহেশপাড়া চৌরাস্তা মোড় বাজারের ভ্যান চালক হাসান বলেন, ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারনে আমরা অনেক সময় বিপদে পড়ি, আমরা গরিব মানুষ, রাস্তায় চলার সময় ট্রাক্টর আসলে আমরা প্রায় সময় খাদে পড়ি অবৈধ ট্রাক্টর থেকে আমরা বাঁচতে চাই।

 

বাঁকডা আলিপুর গ্রামের নাম প্রকাশ করিতে অনিচ্ছুক এক অবসরাপ্ত শিক্ষক বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তাঘাট ধ্বংস করছেন গুটিকয়েক ইটভাটার মালিক। তারা স্বল্পমূল্যে ফসলি জমির মাটি কিনে ভাটায় পরিবহনের ফলে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট এবং ট্রাক্টরের চাকায় প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে গ্রামের সদ্য নির্মিত কাঁচা, আধা পাকা পাকা সড়ক গুলো এ থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উপজেলার বাঁকড়া অঞ্চলের এক ভাটার মালিক বলেন, আমি প্রশাসন ম্যানেজ করেই চলি। সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কৃষি জমির উর্বর টপসয়েল কেটে ইটভাটার সরবরাহ এবং পুকুর-দীঘিনালা ভরাট চলছে। ট্রাক্টরের অত্যাচারের মুখে গ্রামের সাধরন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

 

রোড পারমিশন বিহীন ট্রাক্টর ও লাইসেন্স বিহীন চালকের কারণে দোকার পাট, রাস্তা- ঘাটে চলাচলকারী মানুষ সার্বক্ষনিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে চলাচল করছে। বিকট শব্দে মাটি বোঝাই নিয়ে সাদা পাউডারের মত ধুলো উড়িয়ে ধাবিয়ে চলছে এরা।

 

এভাবেই ঝিকরগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের পাড়া মহাল্লার সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা সহ উপজেলার প্রত্যেক সংযুক্ত সড়ক গুলোতেই দিনরাত চষে বেড়াচ্ছে প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ ট্রাক্টর।

 

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এসব টলি ট্রাক্টর রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি করে এবং ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনার শিকার হয় সাধারণ মানুষ। আমরা অনেক বার অভিযান পরিচালনা করেছি, সামনের দিনে অবৈধ ট্রাক্টর বন্ধের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

 

ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি নিষিদ্ধ ট্রাক্টর বন্ধের বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিপূর্বে উপজেলার কয়কেটি ভাটা মালিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে নিয়মিত অভিযান চলবে। উপজেলায় খুব দ্রুত এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।

সংযুক্ত থাকুন